বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ

জাতিসংঘে পাকিস্তানের নালিশে কিছুই যায় আসেনা ভারতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১০ আগস্ট ২০১৯, শনিবার ০৮:৪৭ এএম

জাতিসংঘে পাকিস্তানের নালিশে কিছুই যায় আসেনা ভারতের

ঢাকা : জম্মু-কাশ্মীর পুনর্গঠনে সরকারের পদক্ষেপ ‘নতুন কোনো ব্যাপার নয়’। এটি চলমান একটি প্রক্রিয়ারই অংশ বলেই মনে করেন নয়াদিল্লিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করায় ভারতের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাশ্মীরের সুশাসন এবং সামাজিক-আর্থিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে উন্নত হওয়ার পথ অবাধ হয়েছে। তাঁরা বলেন, অনুচ্ছেদ ৩৭০ সংবিধানভুক্ত হয়েছিল ‘অস্থায়ী ব্যবস্থা’ হিসেবে। অস্থায়ী ব্যবস্থাকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার সংসদের মাধ্যমে এগিয়ে চলেছে।

‘রাষ্ট্রপতি যে আদেশের মাধ্যমে কাশ্মীরের শাসন মর্যাদার রীতি স্থির করলেন তা খুবই যৌক্তিক’ বলছেন দিল্লির বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলেন, ১৯৪৭ সালের ২৭ অক্টোবর ভারতে যোগ দেয় জম্মু ও কাশ্মীর। সংবিধান বলবৎ হয় ১৯৫০ সালে। সেই থেকে এ পর্যন্ত রাজ্যটির আইন ও রীতিনীতি নির্দিষ্টকরণের জন্য রাষ্ট্রপতির ৫৪টি আদেশ জারি হয়েছে। এসব আদেশের ‘উদ্দেশ্য’ হলো কাশ্মীরের শাসনব্যবস্থাকে দেশের অন্যান্য এলাকার সঙ্গে সুবিন্যস্তকরণ।

সংবাদপত্রের বিভিন্ন নিবন্ধে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকার ২০০৪-১৯ সালে কাশ্মীরকে ২,৭৭,০০০ কোটি রুপি দিয়েছে। দুর্নীতি আর অনিয়মের ফলে এসব বরাদ্দ কাঙ্ক্ষিত মাত্রার অবকাঠামোগত উন্নয়নে লাগেনি। কেন্দ্র ওই রাজ্যকে যত অনুদান দিয়েছে তার মাত্র ১৭ শতাংশের সুফল ১ শতাংশ লোকের কাছে পৌঁছেছে। ৩৭০ অনুচ্ছেদের সুযোগে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হাতে তৈরি হয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদের পরিবেশ। অথচ রাজ্যটির সাধারণ মানুষ বিচ্ছিন্নতার বিরোধী।

জরুরিভিত্তিতে শুনানি নয় জানালেন সুপ্রিম কোর্ট

কাশ্মীরসংক্রান্ত সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের বিরুদ্ধে আর্জির দ্রুত শুনানির জন্য শীর্ষ আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন আইনজীবী এম এল শর্মা। কিন্তু ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) জানিয়ে দিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে শুনানি হবে না।

শর্মা ১২ আগস্ট বা ১৩ আগস্ট শুনানির জন্য আবেদন জানান। কিন্তু বিচারপতি এন ভি রামানার বেঞ্চ জানান, নির্দিষ্ট সময়েই ওই মামলার শুনানি হবে।  শর্মা আদালতের কাছে জানান, পাকিস্তান সরকার ও কাশ্মীরের কিছু বাসিন্দা জানিয়েছেন তাঁরা ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে আবেদন জানাবেন। জবাবে বেঞ্চ বলেছেন, ‘তাঁরা আবেদন জানালেই কি ভারতের সংবিধানে সংশোধনের প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারবে জাতিসংঘ!’ সেই সঙ্গে বিচারপতির বক্তব্য, ‘এই মামলায় পরবর্তী সওয়ালের জন্য আপনি বরং শক্তি বাঁচিয়ে রাখুন।’

সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জম্মু-কাশ্মীর সরকারের অনুমোদন ছাড়া সেটি বাতিলের অধিকার ছিল না কেন্দ্রীয় সরকারের। কিন্তু এক বছর ধরে সেখানে কোনো নির্বাচিত সরকার নেই। গত বছরের জুন মাসে রাজ্যটির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে সেখানে রাজ্যপালের শাসন চালু করে কেন্দ্র। পরে রাষ্ট্রপতির শাসন শুরু হয়। ফলে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের সিদ্ধান্তের জন্য তাদের নিয়োগ করা রাজ্যপালের অনুমতি নেওয়াই যথেষ্ট বলে জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। সেই প্রসঙ্গ তুলেও শর্মা বিচারপতি এন ভি রামানার বেঞ্চের কাছে বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার অনুমতি ছাড়া এই সিদ্ধান্ত বেআইনিভাবে নেওয়া হয়েছে।’

৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের সিদ্ধান্তের পরে জম্মু-কাশ্মীরের ওপরে যেসব নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে, তা নিয়েও জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানিয়ে অন্য একটি মামলা করা হয়েছিল। আবেদনকারী কংগ্রেসকর্মী তেহসিন পুনাওয়ালার আইনজীবী সুহেল মালিক আদালতের কাছে জানান, কাশ্মীরে ফোন লাইন বন্ধ, ইন্টারনেট নেই, কারফিউ জারি করা হয়েছে। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছে কাশ্মীরিরা। কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে মুক্তি দেওয়ার জন্যও আবেদন জানিয়েছেন পুনাওয়ালা। এ ক্ষেত্রেও বিচারপতি এন ভি রামানার বেঞ্চ জানান, এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়েই শুনানি হবে। সূত্র : এনডিটিভি, আনন্দবাজার পত্রিকা।

এএস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue