রবিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৯, ৭ মাঘ ১৪২৫

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার ০৭:৪৯ পিএম

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর

ঢাকা: আগামী ২৩ ডিসেম্বর রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার একে এম নুরুল হুদা (সিইসি)।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এ কথা জানান তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সন্ধ্যা ৭টায় তফসিল ঘোষণা করতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ শুরু করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

সিইসি বলেন, মনোয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই  ২২ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ২৯ নভেম্বর।

৩০০টি আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচনে এবার ভোট দেবেন ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ ভোটার।

আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে এ তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি।

সিইসি তার ভাষণে সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আহবান জানান। নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করার আশ্বাস এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অসামরিক প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সশস্ত্রবাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান) মোতায়েনের ঘোষণা দেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ নিষ্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলগুলোকেই অনুরোধ জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে মতানৈক্য বা মতবিরোধ থেকে থাকলে রাজনৈতিকভাবে মীমাংসারও অনুরোধ জানাই। সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সিইসি।

গত ৩১ অক্টোবর থেকে নির্বাচনের ক্ষণগননা শুরু হয়েছে। আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান সংসদের মেয়াদ রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা আছে।

এ নির্বাচনে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তির পরও নির্বাচনে শহর এলাকায় সীমিত আকারে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোটগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন সিইসি।

প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

ভাষণের শুরুতেই নির্বাচন পরিচালনায় দলমত নির্বিশেষে সব নাগরিকের সহযোগিতা চান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।

তিনি বলেন, আমি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার জন্য আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। একই সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতির ওপর কিছুটা আলোকপাত করব। নির্বাচন পরিচালনায় সব নাগরিকের সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি বলেন, যেসব বীর সন্তান স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, সম্ভ্রম বিসর্জন দিয়েছেন তাদের স্মরণ করছি। স্মরণ করছি ’৫২র ভাষা শহীদদের যাদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মায়ের ভাষা; অর্জিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

কে এম নুরুল হুদা বলেন, আন্দোলন, আত্মদান আর সংগ্রামের ফসল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। ভাষা আন্দোলনে আত্মদানের প্রত্যয় নিয়ে স্বাধিকার আন্দোলন। স্বাধিকার আন্দোলনের প্রেরণায় মুক্তি সংগ্রাম। মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ অর্জন লাল-সবুজ পতাকার এক খণ্ড বাংলাদেশ। চরম ক্ষুধা-দারিদ্র্য, অবণতকর আর্থ-সামাজিক অবস্থান এবং যুদ্ধ বিধ্বস্ত ভৌত অবকাঠামো নিয়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম। নবীন সে দেশটি আজ উন্নত বিশ্ব অভিমুখ অভিযানে দীপ্তপদে এগিয়ে চলছে।

তিনি বলেন, উন্নয়নের আর একটি আরোধ্য সোপান গণতন্ত্রের মজবুত ভিত্তি। সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে সমান্তরাল পথ ধরে অগ্রসর হতে হবে। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় নির্বাচন একটি নির্ভরশীল বাহন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন তা এগিয়ে নিয়ে যেতে জনগণের কাছে হাজির হয়েছে। জনগণের হয়ে সব রাজনৈতিক দলকে সে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেশের গণতন্ত্রের ধারা এবং উন্নয়নের গতিকে সচল রাখার আহ্বান জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী, কবিতা খানম, মো. রফিকুল ইসলাম ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

সিইসির ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার।

গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন।

এছাড়া, গত ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ চার কমিশনার।

এদিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা জানিয়েছিলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের বিষয়ে আগামী ৪ নভেম্বর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার জন্য তফসিল ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন।

উল্লেখ্য সংবিধান অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর থেকে নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সোনালীনিউজ/এমএইচএম