বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

জাফর ইকবাল আর সাকিবে সরব

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার ১১:০৪ পিএম

জাফর ইকবাল আর সাকিবে সরব

ঢাকা : বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলার সপ্তম দিন। অন্যান্য দিনের তুলনায় এ দিনটি ছিল একটু ব্যতিক্রম। কারণ এ দিন বইমেলায় আসেন বিশ্বসেরা ক্রিকেটার বাংলাদেশের ক্রিকেটের বরপুত্র সাকিব আল হাসান। সঙ্গে ছিলেন কমেন্ট্রি বক্স কাঁপানো দরাজ কণ্ঠের ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত।

বর্ষাদুপুর থেকে প্রকাশিত এই ধারাভাষ্যকারের বই ‘চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত বলছি’ সিরিজের এবারের বিষয় ‘নাম্বার ওয়ান সাকিব আল হাসান’ এর মোড়ক উন্মোচন করতেই মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে এসেছিলেন নন্দিত এই ক্রিকেটার। ৩টার দিকে মেলার দ্বার উন্মোচনের পর পরই মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন কিংবদন্তির পথে এগিয়ে যাওয়া এই ক্রিকেটার।

আর এই মঞ্চ থেকেই বাংলাদেশ ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার সমিতির বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের পুরস্কার সাকিব আল হাসানের হাতে তুলে দেন সমিতির সভাপতি চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত। পুরস্কার হিসেবে তিনি সাকিবের হাতে ক্রেস্ট ও এক লাখ টাকার চেক তুলে দেন। এ সময় মোড়ক উন্মোচন মঞ্চ থেকে সাকিবীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

সেলফি ও অটোগ্রাফের জন্য সমগ্র সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বইপ্রেমীরা ভিড় জমায় সাকিবের কাছে। ভক্তদের সঙ্গে সেলফি তুলে তাদেরকে তৃপ্ত করেন বরেণ্য এই ক্রিকেটার। বইটির বিষয়ে লেখক চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত বলেন, ছোট্ট ফয়সাল থেকে দেশসেরা ক্রিকেটার হওয়ার বিভিন্ন গল্প আমি বইটিতে তুলে ধরেছি। এতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও অন্যান্য খেলোয়াড়রা সাকিবের মূল্যায়ন করেছেন।

এ ছাড়া টি-টোয়েন্টিতে সাকিবের অভিষেক, উইজডেনের বর্ষসেরা ক্রিকেটার ইত্যাদি নানা বিষয় বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানালেন বইটির লেখক। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সাকিব আল হাসান চলে যাওয়ার পর ঘণ্টা দুয়েকের জন্য স্থবিরতা নেমে আসে মেলা প্রাঙ্গণে। মোটামুটি সুনসান নীরবতা ধারণ করে সমগ্র মেলা প্রাঙ্গণ। প্রায় সাড়ে ৫টা পর্যন্ত প্রায় অবসর সময়ই কাটাচ্ছিলেন মেলার বিভিন্ন প্যাভিলিয়ন ও স্টলে কর্মরতরা। বিক্রি নেই বলে অনেক স্টলে কর্মরতদের মাঝে ফুটে উঠেছিল বিষণ্ন্নতার ছাপ। তবে আশার কথা শোনালেন অনন্যার স্বত্বাধিকারী মনিরুল আলম।

তিনি বলেন, প্রথম সপ্তাহে মেলা পুরোপুরি জমে ওঠে না। দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই জমে ওঠে। আজ শুক্রবার ছুটির দিনে মেলায় বইপ্রেমীদের ঢল নামবে এবং বিকিকিনিও আশাব্যঞ্জক হবে বলে মনে করেন এই প্রকাশক। তবে আজ শুক্রবারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি সন্ধ্যার দিকে জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল মেলা প্রাঙ্গণে আসার পর নীরব মেলা হঠাৎ করেই সরব হয়ে ওঠে। জাফর ইকবালের অটোগ্রাফ নিতে ও তার সঙ্গে সেলফি তুলতে এ সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে ভিড় জমায় জনপ্রিয় এই লেখকের অগণিত ভক্ত। সন্ধ্যার এই চিত্রটা মেলায় অনন্য এক সুন্দর রূপ এনে দেয়।

আজ শুক্রবার ছুটির দিন মেলার দ্বার উন্মোচন করা হবে বেলা ১১টায়। এ দিন মেলার দ্বিতীয় শিশুপ্রহর। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশুপ্রহরে বাবা-মায়ের হাত ধরে ঘোরার পাশাপাশি সিসিমপুরে ইকরি, বিকরি, হালুমের সঙ্গে দুরন্তপনায় মেতে উঠবে ছোট্ট সোনামনিরা।

সাত দিনে ৮৩২ বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মেলার প্রথম সপ্তাহে নতুন বই এসেছে ৮৩২টি। এর মধ্যে ২১৪টি কবিতার বই নিয়ে প্রকাশনার দিকে এগিয়ে আছে কাব্যগ্রন্থ। প্রকাশনার দিকে ১৫০টি বই নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে উপন্যাস। আর ১২৮টি বই নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে গল্পের বই।

এ ছাড়া সাত দিনে মোট প্রবন্ধ ৪৭, গবেষণা ১৫, ছড়া ২৪, শিশুসাহিত্য ২৩, জীবনী ২৩, রচনাবলি ৪, মুক্তিযুদ্ধ ৩০, নাটক ৮, বিজ্ঞান ১৭, ভ্রমণ ২৩, ইতিহাস ১৮, রাজনীতি ৬, স্বাস্থ্য ৬, রম্য/ধাঁধা ৮, ধর্মীয় ৪, অনুবাদ ৩, সায়েন্স ফিকশন ১৬ এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপরে এসেছে ৬৫টি নতুন বই।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্য মতে গতকাল সপ্তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১৬১টি। এর মধ্যে গল্প ২১, উপন্যাস ২৮, প্রবন্ধ ২, ছড়া ১, কবিতা ৫৩, গবেষণা ৩, শিশুসাহিত্য ৭, জীবনী ৪, মুক্তিযুদ্ধ ৩, বিজ্ঞান ৪, ভ্রমণ ৮, ইতিহাস ৫, রাজনীতি ১, স্বাস্থ্য ১, রম্য ২, ধর্মীয় ৩, সায়েন্স ফিকশন ৫ ও অন্যান্য ১০টি।

বাংলা একাডেমির সংবাদ সম্মেলন :  মেলার প্রথম সপ্তাহের শেষ দিন গতকাল একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলা একাডেমি। এতে মেলা নিয়ে কথা বলেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী ও মেলার সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ।

হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, মেলায় যাতে ভালো বই প্রকাশ পায়, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেলার জন্য একটি স্থায়ী মাঠের প্রয়োজন। যেটি হলে মেলাকে আরো সুন্দর করে আয়োজন করা সম্ভব।

জালাল আহমেদ বলেন, এবার প্রকাশিত বইয়ের মান ও বিক্রি দুটিই ভালো। সজ্জার বিষয়ে আমরা খুবই সচেতন ছিলাম। যেমনটি চেয়েছি তার অনেকটাই কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব হয়েছে। আগামীবার এবারের ভুলত্রুটি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

এদিকে, মেলার ষষ্ঠ দিন ছয় ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলা একাডেমি ২৫ লাখ ৩১ হাজার ১৭ টাকার বই বিক্রি করেছে। গতবার এ সময়ে বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ১৪ হাজার ৮৬১ টাকা। সে হিসেবে ৭ লাখ টাকার বই বেশি বিক্রি হয়েছে।

মূল মঞ্চ : বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাই : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. সৌমিত্র শেখর।

আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, শহীদ ইকবাল এবং তারিক মনজুর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি রুবী রহমান এবং শিহাব সরকার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন মাহফুজ মাসুম এবং কাজী বুশরা আহমেদ তিথি। সঙ্গীত পরিবেশন করেন ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, কান্তা নন্দী, সন্দীপন দাস, সাজেদ ফাতেমী, শান্তা সরকার এবং মো. নূরুল ইসলাম।

শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা : অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।

এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন চিত্রশিল্পী আবুল বারক্ আলভী।

সোনালীনিউজ/এমটিআই