শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬

জাবির ভিসির কাছে যেভাবে চাঁদা চাইলেন শোভন-রাব্বানী

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার ১১:৫১ পিএম

জাবির ভিসির কাছে যেভাবে চাঁদা চাইলেন শোভন-রাব্বানী

ঢাকা : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কাছে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের ৪-৬ পারসেন্ট চাঁদা দাবি করেছেন  ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম নিজ বাসভবনে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত ৮ আগস্ট রাতে তার বাসভবনে দেখা করে এই চাঁদা চান দুই নেতা। উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার পেয়েছে, এমন কোম্পানির কাছ থেকে ভিসিকে টাকার ব্যবস্থা করে দিতে বলেন শোভন ও রাব্বানী। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় তার সঙ্গে দুই নেতা দুর্ব্যবহার করেন
 
ভিসি ফারজানা ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেন, ওরা (শোভন-রাব্বানী) তোমাকেও কষ্ট দিলো।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান আন্দোলন নিয়ে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাবি ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। এসময় তিনি বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আধা ঘণ্টার বেশি আলোচনা করেছি। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আমার প্রতি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দুর্নীতির অভিযোগে আন্দোলন করছে, তারা দুর্নীতির প্রমাণ করুক। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলন, অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প, প্রকল্প বাস্তবায়ন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও শাখা ছাত্রলীগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান ভিসি ফারজানা ইসলাম।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এক বিবৃতিতে বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ ভিন্নভাবে উত্থাপন করেছেন।

বিবৃতিতে উভয়ে বলেছেন, ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ম্যামের স্বামী ও ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে কাজের ডিলিংস করে মোটা অঙ্কের কমিশন বাণিজ্য করেছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ঈদুল আজহার পূর্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেয়া হয়।

এ খবর জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শুরু হয় এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ম্যাম আমাদের স্মরণ করেন। আমরা দেখা করে আমাদের অজ্ঞাতসারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে টাকা দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি বিব্রতবোধ করেন। এরপরই আমরা চলে আসি।

সোনালীনিউজ/এমটিআই