বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬

জিকিরে আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়

এস এম আরিফুল কাদের | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার ০২:৩১ পিএম

জিকিরে আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়

ঢাকা : আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে যত ইবাদত আছে তার মধ্যে জিকির অন্যতম ইবাদত। জিকিরের মানে বা অর্থ হলো, আল্লাহকে স্মরণ করা বা ডাকা, তাঁর প্রশংসা, গুণগান ও মহিমা বর্ণনা করা ইত্যাদি। ইসলামের দৃষ্টিতে যে কাজের দ্বারা সওয়াব হয় তাই জিকির। কারণ প্রতিটি সওয়াবের কাজে আল্ল­াহর স্মরণ হয়। বান্দা আল্লাহকে স্মরণ করবে এটাই স্বাভাবিক। মহান আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ঠ কিতাব পাঠ করুন এবং সালাত কায়েম করুন। নিশ্চয়ই সালাত সব ধরনের অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি জানেন তোমরা যা কর।’ (সুরা আনকাবুত : ৪৫)

হাদিস শরিফেও জিকিরকে সর্বোৎকৃষ্ট বলে বর্ণনা রয়েছে। ‘একদা রাসুলে পাক (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন একটা আমলের কথা বলব না; যা সব আমল অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, তোমাদের মর্যাদাকে সবচেয়ে উঁচুকারী, স্বর্ণ ও রূপাদান করার চাইতেও শ্রেষ্ঠ এবং জিহাদে শত্রুদের সম্মুখীন হওয়ার চাইতেও উত্তম?’ তখন সাহাবা কেরাম (রা.) উত্তরে বললেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই বলুন হে আল্লাহর হাবিব (সা.)!’ তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তা হলো আল্লাহর জিকির।’ (মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, বায়হাকি, জামে সগির, মিশকাত)

জিকির সর্বোৎকৃষ্ট ইবাদত এবং জিকিরকারী সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হওয়ায় সে ইবাদত কখন বা কীভাবে করতে হবে সে বিষয়টা জানা থাকা দরকার। সে সম্পর্কে পবিত্র কোরআনুল কারিমে এরশাদ হয়েছে, ‘তারাই জ্ঞানী ব্যক্তি—যারা দাঁড়ানো, বসা এবং শোয়া অবস্থায় তথা সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে।’ (সুরা ইমরান : ১৯১) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর তোমরা যখন সালাত সম্পন্ন কর তখন দণ্ডায়মান, উপবিষ্ঠ ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর।’ (সুরা নিসা : ১৪২)

প্রশ্ন আসতে পারে, কীভাবে সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করা যাবে? আমরা জীবন চালাতে ২৪ ঘণ্টাই বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকি। জবাবটি আগেই উল্লে­খ করা হয়েছে, ইসলামের দৃষ্টিতে যেসব কাজের দ্বারা সওয়াব হয় তাই আল্লাহর জিকির। একজন প্রকৃত মুসলমান কখনই আল্লাহর স্মরণবিহীন থাকতে পারে না। প্রত্যেহ ঘুমাতে যাওয়ার সময়ের দোয়া, ঘুম থেকে উঠে দোয়া, ওজু করার আগের দোয়া, গোসলের দোয়া, দৈনন্দিন প্রতিটি কাজের শুরুতে দোয়া পড়া। এসবই মহান আল্লাহকে স্মরণ করার মাধ্যম।

ঠিক এভাবে একজন মুমিন ঘুম থেকে জেগে আবার ঘুমাতে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আল্লাহর নির্দেশিত ও রাসুল পাক (সা.)-এর প্রদর্শিত আমলগুলো পর্যালোচনা করলে দিনরাতে ২৪ ঘণ্টাই আল্লাহর জিকির অর্থাৎ স্মরণ করার সওয়াব বান্দার আমলনামায় উঠবে। আর এতে করে বাস্তবে কোনো অবৈধ পথ অবলম্বন করতে গেলেই আল্লাহকে স্মরণ হবে এবং অন্যায় ও অবৈধ কাজ করা থেকে বিরত থাকতে পারবে।

মুসলিম হিসেবে ঘুমাতে গেলে, ঘুম থেকে উঠে, পায়খানা-প্রস্রাবে প্রবেশ ও বাইরের সময়, খাওয়ার আগে-পরে, ওজুর সময়, মসজিদে প্রবেশ ও বাইরের সময়, স্থল-জল ও আকাশপথে বাহনে আরোহণের সময়, বিপদের সময়, স্ত্রী সহবাসের আগে, সর্বোপরি সালাতের ভেতর ও বাইরের দোয়াসহ সব দোয়াই জিকির বলে গণ্য করা হয়।

তাই আসুন! জিকিরের সময় নির্দিষ্ট না করে সর্বাবস্থায় কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়া বা জিকির করে মহান আল্ল­াহর সন্তুষ্টি অর্জন করি।

লেখক : আলেম ও প্রাবন্ধিক