শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬

জুয়া তার একমাত্র নেশা

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার ০২:০৭ পিএম

জুয়া তার একমাত্র নেশা

ঢাকা : দেশে ক্যাসিনো রাজ্য গড়ে তুলেই থেমে থাকেননি যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট। দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েই বেপরোয়া হয়ে উঠতে থাকেন তিনি।

অবৈধভাবে অর্থবিত্ত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। জুয়া খেলতে নিয়মিত বিদেশে যেতেন। আইনশৃঙ্খলা  রক্ষাকারী বাহিনী ও সম্রাটের পারিবারিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

পরিবারের বিভিন্ন সূত্র বলছে, যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী পরিবারকেও খুব বেশি গুরুত্ব দিতেন না। ছিলেন শুধু নিজের ‘বিশেষ রাজ্য’ নিয়ে। তবে পরিবারের সদস্যদের ব্যয়ভার বহন করতেন। সম্রাট ২ বছর ধরে ঢাকার মহাখালীতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসায় যেতেন না। তিনি কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশনে নিজ কার্যালয়ে থাকতেন।

সূত্র জানায়, সম্রাটের তিন স্ত্রী। এর মধ্যে একজন বিদেশি নারীকেও বিয়ে করেন তিনি। প্রথম স্ত্রী রাজধানীর বাড্ডায় থাকেন। প্রথম পক্ষে সম্রাটের এক মেয়ে রয়েছে। তিনি পড়াশোনা শেষ করেছেন। সম্রাটের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী মহাখালীর ডিওএইচএসে ২৯ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে থাকেন। তার এক ছেলে।

তিনি মালয়েশিয়ায় এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। সম্রাট মহাখালীতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসাতেই স্থায়ীভাবে থাকতেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ‘ছাড়াছাড়ি’র পর শারমিনকে বিয়ে করেন ১৯ বছর আগে।

তবে ২ বছর ধরে তিনি বাসায় যেতেন না। কাকরাইলে নিজের কার্যালয়ে থাকতেন। সিঙ্গাপুরে সম্রাটের এক বিদেশি স্ত্রী আছে। সম্রাটরা তিন ভাই। তার ছোট ভাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বড় ভাই সম্রাটের ক্যাসিনো ব্যবসা দেখাশুনা করতেন। সম্রাটের মা ভাইদের সঙ্গে ঢাকায় থাকতেন।

সম্রাটের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন বলেন, গত দুই বছর মহাখালীর বাসায় যেতেন না তার স্বামী। কেননা সম্রাটের ওপেন হার্ট হয়েছিল। এ কারণে সিঁড়ি দিয়ে উঠতেন না। ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সব সময় দাপটের সঙ্গে চলাফেরা করতেন। সম্রাট সব সময় সম্রাটের মতোই ছিলেন। তার একমাত্র নেশা ছিল জুয়া খেলা। অন্য কোনো নেশা ছিল না। তিনি জুয়া খেলতে সিঙ্গাপুরেও যেতেন।

জানা যায়, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের বাসায় যাওয়া বন্ধ করেন সম্রাট। কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশনের আটতলা দখলে নিয়ে সেখানেই থাকতে শুরু করেন। প্রতি মাসের শুরুতে স্ত্রী শারমিন চৌধুরী অফিসে গিয়ে মাসের ব্যয় হিসেবে টাকা নিয়ে আসেন।

টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজির বাইরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্রাটের অপরাধ কর্মের কিছু তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। তার ব্যক্তিগত বেশ কিছু ছবি নিয়ে আলোচনা আছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে, একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তোলা ছবি নিয়ে। বান্ধবী সিন্ডলিংয়ের জন্মদিনে ওই ছবিতে সম্রাটকে তার বন্ধুবান্ধবসহ হাসিমুখে দেখা যাচ্ছে।

২০১৭ সালে মালয়েশিয়ার যহুর বারুতে সিন্ডলিংয়ের বাসায় ছবিটি তোলা। বান্ধবীর জন্মদিন উদযাপনে সম্রাট দেড় কোটি টাকা দিয়ে একটি প্রমোদতরী ভাড়া নিয়েছিলেন।

সিন্ডলিংকে একটি বিলাসবহুল গাড়িও উপহার দিয়েছিলেন তিনি। সম্রাট সম্প্রতি সিনেমা পরিচালনায় নেমেছেন। বছর খানেক আগে সম্রাট ‘দেশবাংলা মাল্টি মিডিয়া’ নামে সিনেমা বানানোর প্রতিষ্ঠান খোলেন। এই হাউজ থেকে একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। আরেকটি সিনেমার শুটিং চলছে। সিনেমার কাজ দেখাশুনা করেন তার সহযোগী আরমান।

সোনালীনিউজ/এমটিআই