মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬

জেনে নিন ভালোবাসা দিবসের পেছনের হূদয়ঘটিত ঘটনাচক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০১:২২ পিএম

জেনে নিন ভালোবাসা দিবসের পেছনের হূদয়ঘটিত ঘটনাচক্র

ঢাকা : ভালোবাসবার জন্য পৃথক কোনো দিনক্ষণের প্রয়োজন নেই। কেননা হূদয়ঘটিত দুর্নিবার আকর্ষণে মনের মিলন ঘটে চলেছে সৃষ্টির অমোঘ নিয়মে। তবু আজ ভালোবাসার দিন- বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। দ্বিমত বা ভিন্নমত থাকতেই পারে, তবে সত্যটি হলো ভালোবাসার এই দিবসটি উদযাপনের পেছনে রয়েছে হূদয়ঘটিত ঘটনাচক্র বা প্রেমকাহানি।

কারণ যাই হোক, ভালোবাসা প্রকাশের জন্য এ দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভবত ১৪০০ শতক থেকে ভ্যালেন্টাইনস ডে উদযাপন শুরু হয় মহাসমারোহে। আবার বিপরীতে পৃথিবীর অনেক দেশে ভ্যালেন্টাইনস ডে’র বিরুদ্ধে মতবাদ গড়ে উঠছে। মুসলিম দেশগুলোতে এই দিনকে ‘ইসলামবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা পালন করা থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়। এসব কিছুর পরও ভ্যালেন্টাইনস ডে’র জনপ্রিয়তা বাড়ছে লক্ষণীয়ভাবে। বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবসের প্রবর্তক চিরতারুণ্যের প্রতীক সাংবাদিক শফিক রেহমান।

১৯৯৩ সালে শফিক রেহমানের সম্পাদনায় সাপ্তাহিক যায়যায়দিন-এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবসের প্রচলন শুরু করেন। শফিক রেহমান বলেন- ‘আমি যখন প্রথম প্রেমে পড়ি, তখন চট্টগ্রামের লাভ লেনের রাস্তার শেষাংশের একটা মিষ্টির দোকানে আড্ডা দিতাম। তখন ইচ্ছে জন্ম নিয়েছিল, দেশে একটা লাভ পার্ক করার।

প্রেমিক-প্রেমিকাকে যেন পুলিশ, চাঁদাবাজদের উৎপাতের শিকার না হতে হয়, অর্থাৎ তাদের জন্য নিরাপদ একটা জায়গা করে দিতে। বাংলাদেশে নির্জনে একজন আরেকজনের হাত ধরে বসে প্রেম করার জায়গা খুব কম। যে কয়েকটা জায়গা আছে, সেখানে পুলিশ, চাঁদাবাজ আছে।’

পরে তিনি তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময় তেজগাঁওয়ের একটি রাস্তাকে ‘লাভ রোড’ নামকরণ করান। যদিও এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। অনেকে বলে থাকেন- লাভ রোড হওয়া উচিত ছিল বেইলি রোডের নাম। তবে নানা বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবসের জনপ্রিয়তা কেবল বাড়ছেই।

বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে ব্রেনের রসায়নের জন্যই তৈরি হয় পাগল প্রায় ভালোবাসা। প্রেমে পড়লে ব্রেনে কী ঘটে তা নিয়ে কাজ করছেন নিউইয়র্কের রাটজার্স ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ হেলেন ফিশার।

তার মতে, মেয়েরা যখনই কারো প্রতি আকৃষ্ট হয়, অবচেতনভাবেই সে ওই পুরুষকে নিয়ে যৌনচিন্তা করে। তার চিন্তার বেশিরভাগ অংশ জুড়েই থাকে ওই পুরুষটি তার সন্তানের বাবা হওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন কি-না। যদি তার মনে হয় ওই পুরুষ তার সন্তানের বাবা হওয়ার মতো যোগ্য, তবে সে প্রেমে পড়ার বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবে। তবে সব নারীই যে এমনটি ভাবে তা নয়; বেশিরভাগ নারী ভাবে- সেটাই ফিশার তার গবেষণায় দেখেছেন।

ফিশারের গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, গভীরভাবে প্রেমে পড়লে একজন মানুষের মস্তিষ্কে কী ধরনের পরিবর্তন হয় সেটি দেখা। তিনি দেখেছেন- যেসব নর-নারী অন্তত কয়েক মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করেছেন, তাদের মস্তিষ্কের ভেন্ট্রাল টেগমেন্টাল এলাকা ও কডেট নিউক্লিয়াসে কিছু পরিবর্তন হয়েছে।

এমআরআই করে দেখা গেছে, মস্তিষ্কের ওই অংশ অন্য অংশের তুলনায় কিছুটা আলোক-উদ্দীপ্ত। ফিশারের মতে- এ কারণে মানুষ যখন প্রথম প্রেমে পড়ে কিংবা গভীরভাবে প্রেমে পড়ে, তখন রাতের পর রাত জেগে থাকতে পারে। অন্য সবকিছুকে বাদ দিয়ে প্রেমের জন্য জীবন বাজি রাখতে পারে। সবকিছুকে গুরুত্বহীন ভেবে শুধু প্রেমের মানুষটির জন্য সামান্য কাজকেও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। এ কারণে প্রেমে পড়া মানুষটির আচরণ স্বাভাবিক মানুষের কাছে অস্বাভাবিক লাগে।

প্রেম-ভালোবাসা স্রষ্টার অপার রহস্যময় সৃষ্টির আকর্ষণ। ভালোবাসা এমনই নির্মোহ দুর্নিবার চুম্বকাকর্ষণ। ভালোবাসার মানে নির্ভরতা, আস্থা, বিশ্বাস। একবার একটা প্লেন মেঘের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে প্লেনটি তার ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলল।

এমতাবস্থায় প্লেনের সবাই ভয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি জুড়ে দিলেন। কিন্তু একটি মেয়ে কানে হেডফোন লাগিয়ে নিশ্চিন্তভাবে গান শুনছে। কয়েক ঘণ্টা পর প্লেনটি ভালোভাবে অবতরণ করলে একজন ভদ্রলোক ওই মেয়েটির কাছে গিয়ে জানতে চাইলেন- সবাই তখন ভয় পেয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন কিন্তু তুমি একেবারে নির্ভয়ে বসেছিলে কীভাবে সম্ভব (!?)।

মেয়েটি খুব মুচকি হেসে বলল- ‘আমি যাকে ভালোবাসি, সে এই প্লেনের পাইলট। তাই নিশ্চিতভাবেই আমি জানতাম যে, সে নিজের ভালোবাসার মানুষটির কোনো ক্ষতি হতে দেবে না। সে আমাকে ঠিকই নামিয়ে আনবে।’ এতে প্রমাণ হয় ভালোবাসার মূল স্তম্ভ হলো বিশ্বাস। বিশ্বাস না থাকলে ভালোবাসাও থাকে না।

সোনালীনিউজ/এমটিআই