শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

জয়-পরাজয়েও অর্জন দেখছে বিএনপি

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার ০৮:০৯ পিএম

জয়-পরাজয়েও অর্জন দেখছে বিএনপি

ঢাকা : ঢাকার দুই সিটির মেয়র পদ উদ্ধারে মরিয়া বিএনপি। আসন্ন ১ ফেব্রুয়ারির সিটি নির্বাচনে শক্তভাবে মাঠ দখলে রাখতে চায় তারা। এজন্য ‘অর্ধশক্তি’ নিয়ে মাঠে নেমেছে দলটি। নীতিনির্ধারকদের প্রস্তুতি আছে সর্বশক্তি নিয়ে ভোটের দিন মাঠে থাকার। জয়-পরাজয় যা-ই হোক তাতেই অর্জন দেখছে বিএনপিসহ তাদের মিত্ররা।

আশা করছেন ভোটের দিনে পরিস্থিতি অনুকূলে আসবে। এমন হিসাবনিকাশ কষছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।

দলটির হিসাবমতে, জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন সবকিছুতেই অর্জন দেখছে বিএনপি। ইতোমধ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ঢেউ তুলতে সক্ষম হয়েছে প্রার্থীরা। এখনো জোট নেতাকর্মীরা নামেনি। সুষ্ঠু ভোট হলে নির্বাচনে দুই মেয়র প্রার্থীই বিজয়ী হবেন বলে ধারণা করছেন তারা। সেক্ষেত্রে তারা বলবেন সরকারকে জনগণ ‘না’ বলে দিয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে আসবে।

অন্যদিকে কারচুপি হলে এবং বিএনপির প্রার্থী হেরে গেলে দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার বিষয়টি দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্থাপন করার সুযোগ পাবে। ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ইভিএমকে বাতিলের যৌক্তিকতা তুলে ধরবে।

এছাড়া সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক শক্তি আরো বৃদ্ধি পাবে। পরবর্তীতে আন্দোলন সফল করা সহজ হবে।

এদিকে গত ৬ জানুয়ারি এক সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে আওয়ামী লীগ গুরুত্বসহকারে নিয়েছে। ভোটের দিন আওয়ামী লীগ তার সমস্ত শক্তি নিয়োগ করে বিজয়ী হওয়ার চেষ্টা করবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই নির্বাচন শুধু ভোটে জেতা নয়;  দেশের মানুষ, গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রকামী মানুষের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির। নির্বাচনের মধ্য দিয়েই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটবে বলে তিনি আভাস দিয়েছেন।

বিএনপির মিত্র রাজনৈতিক দল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, এবার দুই নম্বরী করলে ছেড়ে দেওয়া হবে না। যেখান থেকেই নির্দেশ আসুক, নেতাকর্মীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একযোগে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিএনপি সূত্রমতে, হাতে শক্তি রেখে অর্ধশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি। এই নির্বাচনকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিয়েছে দলটি। দুই মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি কাউন্সিল ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলদের বিজয়ী করতে শীর্ষ থেকে মহানগরের তৃণমূলের নেতারাও একযোগে কাজ শুরু করেছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে সহনশীল আচরণ করছে। নির্বাচনের আগমুহূর্তে সব বিদ্রোহীদের বসিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ চলছে।

ইতোমধ্যে সমন্বয়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিদ্রোহীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্রমতে, বিএনপি চায়, দুই সিটিতে দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও ভোট পর্যবেক্ষণ করুক। এজন্য বিভিন্ন মহলে যোগাযোগও করছে বিএনপি নেতারা।

সিটি নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির ভাবনার বিষয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই নির্বাচনে বিএনপির হারানোর কিছু নেই। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি। এই ভোটে যা হোক সেই লক্ষ্য অর্জনে একধাপ এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে সরকারের নগ্ন চরিত্র দেখা গেছে। তাদের এ চরিত্র যদি আসন্ন দু্ই সিটিতেও প্রকাশ পায় এতেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে এটা করলে শুধু দেশবাসীই নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও তাদের মুখোশ আরো একবার উন্মোচিত হবে, যা বিএনপির জন্য একটি অর্জন হবে।

অন্যদিকে  নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয় তাহলে বিএনপির প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। সেক্ষেত্রে জনগণ যে সরকারকে চায় না তা আবারো প্রমাণিত হবে। জয় বা জোর করে পরাজিত করলেই আন্দোলন শুরু হবে, যা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

বিএনপি নেতাদের মতে, আসন্ন আন্দোলনের জন্যও এই নির্বাচন বিএনপির জন্য ইতিবাচক হবে। মূলত মহানগরে আন্দোলন ব্যর্থতার কারণে বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

কিন্তু এবার সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র মহানগরের রাজনীতি সাংগঠনিকভাবে চাঙা হয়েছে। মহানগের প্রায় সর্বস্তরের নেতারা এই নির্বাচনে কাজ করছেন। বলতে গেলে সবাইকে বিভিন্ন দায়িত্ব দিয়ে তাদেরকে সক্রিয় করা হয়েছে।

পোলিং এজেন্ট নিয়োগের জন্য তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও একটি ডাটা করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকার মতো সক্ষম কর্মীদেরই এবার বাছাই করা হচ্ছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা ও মহানগর নেতাদের সমন্বয়ে বিশাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে বাধা, হামলা, মামলা এবং কারচুপির বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত তারা সংগ্রহ করে রিপোর্ট আকারে পেশ করবেন।

দলের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে দুই সিটিতেই ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয়ী হবেন, যা পরবর্তী জাতীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কিন্তু সরকার শক্তি প্রয়োগ করলে বা কেন্দ্র দখল করে অনিয়ম করলে গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার পাবে। ফলে আওয়ামী লীগের অধীনে যে কোনো নির্বাচনে অনাস্থা বাড়বে।

এছাড়া ‘ভোট ডাকাতির’ চিত্র নিয়ে বিএনপি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার দাবি আদায়ের আন্দোলন আরো জোরদার হবে।

দুই সিটির ভোট নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা কৌশল নির্ধারণে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত  হচ্ছে। সরকার কেন্দ্র দখল করতে চাইলে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করতে দায়িত্বশীল নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে দুই  নির্বাচন পরিচালনার জন্য দেশের প্রায় সব অঞ্চলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে সব নেতাদের সক্রিয় করার কৌশল করা হয়েছে।

বিএনপির ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই