সোমবার, ১৭ জুন, ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬

টার্কিতে সম্ভাবনা খুঁজছেন কুড়িগ্রামের বেকার যুবকরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার ০৩:১০ পিএম

টার্কিতে সম্ভাবনা খুঁজছেন কুড়িগ্রামের বেকার যুবকরা

ছবি : সোনালীনিউজ

কুড়িগ্রাম : টার্কি মুরগীতে সম্ভাবনা খুঁজছেন কুড়িগ্রামের বেকার যুবকরা। একেকটি মুরগী লালন-পালনে সব মিলেই যখন খরচ পড়ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা তখন একেকটি মুরগী বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। মাত্র ১০০টি টার্কি মুরগীর ছোট খামার করেও ৪ থেকে ৫ মাসে সব খরচ বাদ দিয়ে লাভ করতে পারছেন ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

এতে বেকারত্ব ঘুচতে শুরু করেছে হতদরিদ্র এজেলার অনেক বেকার যুবকের। তবে দেশি বা বয়লার মুরগীর মতো টার্কি মুরগীর বাজার এখনো তেমনভাবে গড়ে না উঠায় খামারে উৎপাদিত এসব মুরগী বিক্রি করতে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টার্কি মুরগীর খামার করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন কুড়িগ্রামের কিছু বেকার যুবকরা। এখন তাদের দেখাদেখি স্বল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় নিজেদের বেকারত্ব ঘোচাতে যুবকরা গড়ে তুলছেন টার্কির খামার। এরই মধ্যে জেলায় গড়ে উঠেছে ২৫টি বাণিজ্যিক খামারসহ ছোট-বড় আরও শতাধিক খামার। তবে সঠিক বিপনন ব্যবস্থা গড়ে না উঠায় খামারে উৎপাদিত টার্কি মুরগী মধ্যসত্বভোগীদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন খামারীরা।

তিন বছর আগে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ধরলা ব্রিজের পূর্বপাড়ে জেলার প্রথম টার্কি মুরগীর খামার গড়ে তোলেন আব্দুল মজিদ রিপন নামের এক বেকার যুবক। প্রথমে খুলনা থেকে ১০০ টার্কি মুরগীর বাচ্চা এনে লালন-পালন শুরু করেন। ৪ থেকে ৫ মাসেই এসব বাচ্চা পূর্ণাঙ্গ মুরগীতে পরিণত হয়।

সে সময় স্থানীয় বাজারে এই মুরগীর চাহিদা না থাকায় বগুড়ার পাইকারি বিক্রি করেই লাভের মুখ দেখেন তিনি। তারপর থেকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বর্তমানে তার খামারে মুরগী আছে প্রায় ৪ শতাধিক। এ ছাড়াও তিনি এখন উৎপাদন করছেন টার্কি মুরগীর বাচ্চাও।

কুড়িগ্রাম জেলায় প্রথম টার্কি মুরগীর খামারের মালিক আব্দুল মজিদ রিপন জানান, খামারে ৮ থেকে ১০ কেজি ওজনের একেকটি মুরগী বড় করতে বাচ্চা, খাবার, ঔষুধসহ সব মিলে খরচ পরে ৮ থেকে ৯০০ টাকা। আর বর্তমান বাজারে প্রতিকেজি টার্কি মুরগী বিক্রি হচ্ছে সাড়ে তিন থেকে ৪০০ টাকায়।

টার্কি মুরগী লালন-পালনে কোন ব্যত্যয় না ঘটলে দ্বিগুণেরও বেশি লাভ সম্ভব বলে জানান এ টার্কি খামারি। এখন উৎপাদিত টার্কির ডিম থেকেই বাচ্চা ফুটিয়ে প্রতিটি বাচ্চা পাইকারিতে ১২০ টাকা ও খুচরা ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন তিনি।

এখন আব্দুল মজিদ রিপনের টার্কি মুরগীর খামার দেখে অনেকেই বেকার সমস্যা সমাধানে গড়ে তুলছেন ছোট-বড় এই টার্কি মুরগীর খামার। প্রায় প্রতিদিনই অনেকে তার খামার দেখতে এসে খামার গড়ার পরামর্শও নিচ্ছেন তার কাছে। কেউ কেউ খামার গড়ার আগে বাড়িতেই অন্যান্য হাস মুরগীর সঙ্গে লালন-পালন শুরু করেছেন এই টার্কি মুরগী।

চার মাস আগে আব্দুল মজিদ রিপনের কাছে পরামর্শ ও টার্কির বাচ্চা নিয়ে ছোট আকারে খামার শুরু করেছেন নাগেশ্বরী উপজেলা শহরের ইদ্রিস আলী ও নাগেশ্বরী উপজেলার নেওয়াশী গ্রামের বাপি পাল। তাদের খামারের প্রতিটি মুরগীর ওজন ৭ থেকে ৮ কেজি। মাস খানেকের মধ্যে বিক্রি করতে পারবেন তাদের খামারে উৎপাদিত টার্কি মুরগী। এই দুই নতুন টার্কি খামারী জানান, এ ব্যবসাটা অবশ্যই লাভ জনক। তবুও তারা প্রথম দফায় কেউ একশটি আর কেউ ৫০টি মুরগী দিয়ে শুরু করেছেন। প্রথম চালান বিক্রি করে টার্কি খামার প্রসার করবেন বলে জানান এই দুই টার্কি খামারী।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুল হাই সরকার, কুড়িগ্রাম জেলার আবহাওয়া টার্কি মুরগী পালনের উপযোগী হওয়ায় টার্কি উৎপাদনে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এখানে। জেলার বেকার যুবকরা নিজ উদ্যোগে টার্কি মুরগীর খামার গড়ে তুলছে। আমরা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এইচএআর