শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

ট্রেন গেলে ব্রিজ কাঁপে, নেই নাট-বল্টু

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৫ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার ০২:২৭ পিএম

ট্রেন গেলে ব্রিজ কাঁপে, নেই নাট-বল্টু

মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল রেলওয়ে স্টেশনের কাছে যে সেতুটি ভেঙে আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে, তার দুরবস্থা নিয়ে অনেক আগে থেকেই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গত রোববার রাতে সেতু ভেঙে ট্রেনের ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পাহাড়ি ছড়ার মধ্যে পড়ে। এতে চারজন নিহত ও অন্তত দুই শতাধিক যাত্রী আহত হন। ঘটনার পর থেকেই সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধার কাজ শুরু করেন। তারাই পুলিশ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে খবর দেন। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। বাড়ি থেকে লাইট এনে অনেককে উদ্ধার কাজে তৎপর হতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের মতে, একে তো সেতুটি অনেক আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তার ওপরে ট্রেনটির গতিও ছিল বেশ। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরাইলের শাহবাজপুরে বেইলি ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় ঢাকা-সিলেটে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ। এ কারণে ট্রেনে যাত্রীসংখ্যা অন্য সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। অন্য সময় ট্রেনটি ১৫টি বগি নিয়ে যাতায়াত করলেও এদিন ট্রেনটিতে ১৭টি বগি ছিল।

নন্দনগর গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়া (৪৫) বলেন, ‘ব্রিজের সাইডে পাত দুইডা লাগানো থাকে, জোড়ার মধ্যে। এর এদিকে একটি নাট, ওদিকে আরেকটি নাট। আর কোনো নাট নাই। গাড়ি যখন যায়, তখন খালি কাঁপে, ঝিলকা মারে। বিষয়টি আমরা অনেকবার রেলের মানুষকে বলছি। এখানে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে-আপনারা দয়া করে দেখেন, সমস্যাটা কী।

রাতে যখন ট্রেনটি যায়, তখন অন্যদিনের চেয়ে গতিও একটু বেশি মনে হইছে। ব্রিজটার যেহেতু সমস্যা আছে, একটু আস্তে যাওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন একই গ্রামের নুরুল আমিন চৌধুরী। তিনিও দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। মহলাল এলাকার বাসিন্দা পারভেজ বলেন, ট্রেনটিতে প্রচুর যাত্রী ছিল।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক বলেন, সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করা উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার বরমচাল স্টেশন থেকে ২০০ মিটার দূরে ইসলামাবাদ এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিকের বগিতে বিকট শব্দ হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে সামনে বড়ছড়া ব্রিজ ভেঙে একটি বগি পড়ে যায়। আরো তিনটি বগি ব্রিজের পাশে উল্টে দুমড়েমুচড়ে যায়। এ ছাড়া অন্য দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার দুলাল চন্দ্র দাস বলেন, দুর্ঘটনার কারণে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বগির উদ্ধার কাজ ও সেতু মেরামতের কাজ শেষ হলে এই পথে পুনরায় রেল চলাচল স্বাভাবিক হবে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই