শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

ডেঙ্গুতে ভারাক্রান্ত রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০১:১৩ পিএম

ডেঙ্গুতে ভারাক্রান্ত রাজধানী

ঢাকা : বর্ষা বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই রাজধানীতে প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুর। প্রতিদিন গড়ে ৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। চলতি মাসের ১০ দিনেই ৯২ জনের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। শুরুতেই সচেতন না হলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এখন পর্যন্ত রাজধানীতে ৩৪১ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে ৩৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৮ জন, মার্চে ১২ জন, এপ্রিলে ৪৪ জন, মে মাসে ১৩৯ জন এবং জুন মাসে এখন পর্যন্ত ৯২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এতে দেখা যাচ্ছে, বর্ষা কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। গড়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ৯ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ডেঙ্গু জ্বরে দুজন মারা গেছেন।

জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৫৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ এপ্রিল তিনি মারা যান। এ ছাড়া আজগর আলী হাসপাতালে গত ২৮ এপ্রিল ভর্তি হয়ে ৩২ বছর বয়সী এক যুবক ২৯ এপ্রিল মারা যান।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত ৫৫ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। যা খুবই উদ্বেগজনক। গত ৮ জুন ১৬ জন, ৯ জুন ১২ জন, ১০ জুন ১২ জন এবং ১১ জুন ১৩ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৩ জন চিকিৎসাধীন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার জানান, বছরের প্রথম কয়েক মাস ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ কম থাকে। এপ্রিল থেকে বাড়তে থাকে। গত বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে ২৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৭ জন, মার্চে ১৯ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মে মাসে ৫২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। এর পরের মাসগুলোতে ক্রমেই সংখ্যা বাড়তে থাকে। জুন মাসে ২৯৫ জন, জুলাই মাসে ৯৪৬ জন, আগস্টে এক হাজার ৭৯৬ জন, সেপ্টেম্বরে তিন হাজার ৮৭, অক্টোবরে দুই হাজার ৪০৬ জন, নভেম্বরে এক হাজার ১৯২ জন এবং ডিসেম্বরে ২৯৩ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। দেখা যায় বর্ষার মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, জলাবদ্ধ পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটে। জুন-জুলাই মাস ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার প্রজনন মৌসুম। বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুম এলেই ঘরে-বাইরে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। ফলে এডিস মশার উৎপাত বেড়ে যায়। ডেঙ্গু জ্বরেও মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, এ মশা থেকে বাঁচতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বাসাবাড়ির কোনাকাঞ্চিতে পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। রাস্তার পাশের নর্দমা, ড্রেন ইত্যাদি সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আগে থেকে পরিষ্কার করলে এডিস মশা বাড়তে পারবে না।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue