বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে একাধিক সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০২০, শুক্রবার ১১:৩১ এএম

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে একাধিক সিদ্ধান্ত

ঢাকা: করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল)  সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তসভায় এ সংক্রান্ত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সম্ভাব্য ডেঙ্গু মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এজন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় বিভাগ বা সংস্থার দায়িত্বশীল প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হবে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের করণীয় নির্ধারণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর স্বাক্ষরে একটি আধা সরকারি পত্র প্রেরণ করা হবে।

সম্মিলিত উদ্যোগের অংশ হিসাবে দুই সিটি করপোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ একযোগে মশক নিধন অভিযান শুরু করবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেবেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবন, লেক, পার্ক, খাল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদফতর বা কর্তৃপক্ষ কিন্তু মশা মারার কাজ করবে সিটি করপোরেশন।

দীর্ঘ ছুটির সময় বন্ধ থাকা সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলো থেকে এডিস মশার উৎপত্তি যেন না হয় তা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ৩০ মার্চ করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়ে ৬৪টি জেলায় ভিডিও কনফারেন্স করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি মশকনিধন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের মেয়রদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। এসময় তিনি উত্তর সিটির মেয়রকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, মশা সংগীত চর্চা করতে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত আন্তসভায় উপস্থিত হয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লেকগুলো পরিষ্কার করে দিলে আমরা ওষুধ ছিটাবো। তাহলে মশা মরবে। এটাই সময় একসঙ্গে কাজ করার। আমি ১৫ মে দায়িত্ব পাবো, কিন্তু এখন থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। সভায় কৃষি সচিব জানান, ৩টি প্রতিষ্ঠান কীটনাশক আমদানি করে। তাদের কাছ থেকে যে কেউ কীটনাশক কিনতে পারে। তাছাড়া ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকেও সরাসরি কীটনাশক আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সভায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে,  মশার উৎপত্তিস্থল জরুরি ভিত্তিতে পরিচ্ছন্ন করতে হবে। এডিস মশার বিস্তাররোধে অফিস ছুটিকালীন সময়ে সকল সরকারি বেসরকারি দফতরের টয়লেটের কমোড বন্ধ রাখতে হবে। নির্মাণাধীন ভবন এবং যেসকল সরকারি বেসরকারি স্থাপনা নিজ   উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবে না বা  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার অভাবে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যাবে সে সকল ব্যক্তি, স্থাপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী জরিমানা করতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। প্রয়োজনে প্রতি ওয়ার্ডে ৮টি সাব কমিটি গঠন করে প্রতি কমিটিতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ২০ জন গণ্যমান্য ব্যক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সামাজিক স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করতে হবে। মশকনিধন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার স্বার্থে মন্ত্রণালয়, সকল সিটি করপোরেশন, ওয়াসা সম্মিলিতভাবে কাজ করবে। সিটি করপোরেশনগুলো আগামী ৭ দিনের মধ্যে নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করবে।

সভায় জানানো হয়, ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মশক নিধন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এ সকল প্রকল্পে প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সম্ভাব্য ডেঙ্গু মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ হিসাবে এলজিআরডি মন্ত্রীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা সংস্থার দায়িত্বশীল প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হবে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের করণীয় নির্ধারণ করে মন্ত্রীর স্বাক্ষরে একটি আধা সরকারি পত্র প্রেরণ করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উদ্যোক্তা বা আমদানিকারককে আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে মশক নিধনে ব্যবহৃত কয়েল, অ্যারোসোলের মত কীটনাশক বাজারে সহজলভ্য হয় তাহলে মানুষ নিজস্ব উদ্যোগে হস্তচালিত মেশিন দিয়ে মশক নিধন করতে পারবে। সম্মিলিত উদ্যোগের অংশ হিসাবে দুই সিটি করপোরেশন, সেনা এলাকা, বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ একযোগে মশক নিধন অভিযান শুরু করবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সময়সীমা নির্ধারণ করবে।

বর্তমানে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে যে দীর্ঘমেয়াদী ছুটি চলমান আছে এ সময়ের মধ্যে যেহেতু শহরে জনসাধারণ ও যানবাহনের চাপ কম আছে এ সময়টা পুরো ঢাকা শহরকে শতভাগ পরিষ্কার করার সুযোগ সিটি করপোরেশনকে নিতে হবে।

সোনালীনিউজ/এইচএন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue