মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫

ড্রাইভারের স্ত্রীর সঙ্গে ডাক্তারের পরকীয়া, অতঃপর...

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বুধবার ০৭:০২ পিএম

ড্রাইভারের স্ত্রীর সঙ্গে ডাক্তারের পরকীয়া, অতঃপর...

ঢাকা : তিনি শহরের সেরা অর্থোপেডিক চিকিৎসক। কাজ করেন একটি সরকারি হাসপাতালে। আর এই মধ্যবয়সী ভদ্রলোকই কিনা পরকীয়ায় জড়ালেন এক গাড়িচালকের স্ত্রীর সঙ্গে! শুধু তাই নয়, নিজের পথের কাঁটা দূর করতে নিজ হাতে খুন করেছেন ড্রাইভার বীরেন্দ্র পাচৌরিকে (৩০)।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার ঘাতক ডাক্তার সুনীল মন্ত্রীকে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভারতের মধ্যপ্রদেশের হোসানঙ্গাবাদ শহরে সোমবার এই মর্মান্তিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানায়, বীরেন্দ্রর স্ত্রীর সঙ্গে ডা. সুনীলের পরিচয় তার প্রয়াত সহধর্মিনীর মাধ্যমে। ডাক্তারের স্ত্রী তাদের বাড়িতে যে বুটিকশপ চালাতেন সেখানে কাজ করতেন বীরেন্দ্রর বউ। তিনি মারা যাওয়ার পর ডাক্তার ড্রাইভারের স্ত্রীকে দোকানটি চালানোর অনুমতি দেন।

কিন্তু এতে খুশি হওয়ার বদলে রাগ হয় চালক বীরেন্দ্র পাচৌরির। কারণ আগে থেকেই তিনি ডাক্তারের সঙ্গে নিজের স্ত্রীর মাখামাখি পছন্দ করতেন না। তার সন্দেহ, তার বউয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে ডাক্তার সুনীলের। এ কারণেই তিনি তার বউকে দোকানটি দিয়েছেন।

ড্রাইভার বীরেন্দ্র এ নিয়ে বেশ কয়েকবার ডাক্তরকে সাবধান করেন এবং তার স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে থাকার কথাও বলেন। কিন্তু ডাক্তার তার শাসানিকে পাত্তা দেননি। বরং তাকে হাত করতে মাসে ১৬ হাজার টাকা বেতনে নিজের গাড়ির ড্রাইভার হিসেবে নিয়োগ দেন ওই চিকিৎসক।

আসলে বীরেন্দ্রকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়েই তাকে ওই চাকরি দেন ডা. সুনীল। আর বীরেন্দ্র ভাবেন, ড্রাইভার হলে তিনি সারাদিন ওই চিকিৎসকের কাছে থাকতে পারবে। ফলে তার চোখকে ফাঁকি দিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশা করতে পারবে না ওই ডাক্তার। আর এই ভেবেই তিনি ডাক্তারের গাড়ির ড্রাইভার হন।

সোমবার ছিল তার চাকরির প্রথম দিন। তিনি ডাক্তারকে হোসানঙ্গাবাদ থেকে ২০ মাইল দূরে তার কর্মক্ষেত্রে পৌঁছে দেন। রাত নয়টার দিকে তারা বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর ওই চালক বলেন, তার দাঁতে খুব ব্যাথা হচ্ছে। এ কথা শুনে ডাক্তার তাকে একটি পেইন কিলার ইঞ্জেকশন দেন। অসুধ খাওয়ার পর অচেতন হয়ে পড়েন বীরেন্দ্র পাচৌরি। এরপর সার্জিকাল ছুরি দিয়ে ড্রাইভার বীরেন্দ্রকে গলা কেটে খুন করেন ওই চিকিৎসক। মরদেহ বাথরুমে নিয়ে গিয়ে ২৪ টুকরো করে কাটেন। হত্যার প্রমাণ লোপট করতে টুকরোগুলো এসিডের ড্রামে ফেলতে থাকেন। কিন্তু তার সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। গোপন সুত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে হাজির হয় এবং হাতেনাতে ধরে ফেলে।

ধরা পড়ার পর ডা. সুনীল জানায়, অনেক দিন আগেই তিনি ড্রাইভার বীরেন্দ্রকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। এজন্যই তিনি বাড়িতে ড্রামভর্তি এসিড এনে রেখেছিলেন।

তবে এ ঘটনায় নিহত বীরেন্দ্রের স্ত্রীর বক্তব্য জানা যায়নি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। সূত্র: এনডিটিভি

সোনালীনিউজ/এমটিআই