বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯, ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

তরুণীর নীলার ‘নীল ফাঁদ’, সৌদি প্রবাসী যুবকের কান্না!

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার ০৭:০১ পিএম

তরুণীর নীলার ‘নীল ফাঁদ’, সৌদি প্রবাসী যুবকের কান্না!

ঢাকা: সুন্দরী নিয়ে তাদের ব্যবসা। মেয়ে মানুষ দিয়ে ভিডিও কলে অভিনব প্রতারণার কৌশল এই সিন্ডিকেটের। আর এ কৌশলের ফাঁদে পা দিচ্ছেন তরুণ তরুণী, ব্যবসায়ী কিংবা প্রবাসী। বাদ নেই চাকরিজীবীও।  ব্লাকমেইলিংয়ের শিকার হয়ে কখনও দিতে হচ্ছে মুক্তিপণ। আবার কখনও দিতে হচ্ছে নিজের পরিশ্রমে গড়া সহায় সম্পদ আর অর্থ। রূপের মোহে পড়ে আকৃষ্ট হয়ে তছনছ হয়ে যাচ্ছে আবার কারো কারো সুন্দর জীবন। 

এরকম একটি নাটকীয় ঘটনা। সৌদিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক সাইফুল। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ইমোতে পরিচয় ঘটে। দিনাজপুর বিরল থানা এলাকার নীলা নামে এক সুন্দরী তরুণীর সাথে। ঘটনার সূত্রপাত ইমো কলে। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্টতা বাড়তে থাকে।

এক পর্যায়ে সৌদি প্রবাসী যুবক জানতে পারে নীলা একজন ইন্টারনেট সাইটে ভাসমান পতিতা। সোশ্যাল সাইটে ইমো, ফেইসবুক, ভাইবার ও হোয়াটস অ্যাপে ভিডিও কলে নিজের নগ্ন শরীর প্রদর্শন করে ঘন্টায় এক হাজার দরে লাইভ করেন তিনি। তাও উত্তরায় বসে। মধ্যরাতে তমা রহমান তুলি নামে সর্দারনীর নির্দেশনায় বসে এসব নগ্ন আসর।

এটি একটি গ্রুপ। যারা বসবাস করেন ঢাকা উত্তরা ১০নং সেক্টরের এক আলিশান ফ্ল্যাটে। যদিও জানা যায়, নীলা পরিস্থিতির শিকার হয়ে এ পরিবেশে জড়ান। তথ্যমতে জানান, ঢাকা উত্তরায় রয়েছে এ ধরণের বহু মিনি সেক্স স্টেশন। এসব পতিতা ব্যবসার সিন্ডিকেটটি নীলাকে জিম্মি করে এ পেশায় বাধ্য করে বলে যুবকের দাবি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের নগ্ন শরীরের বিভিন্ন অংশ দেখিয়ে আয় হয় তুলির লক্ষ লক্ষ টাকা। 

যেখান থেকে ঐ পতিতা সিন্ডিকেটটি নামে মাত্র কিছু টাকা হাতে গুজিয়ে দিতো সুন্দরী নীলাকে। কম্পিউটারের সামনে এভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা সেক্সী স্টাইলে ভিডিও কলে কথা বলতেন নীলা। অনেকবার তিনি মাথার সমস্যায় অসুস্থ হন আবার চিকিৎসা ও করান। 

এর মধ্যে ভিডিও কলে কথা বলতে বলতে নিজের জীবনের কথা শেয়ার করেন প্রবাসী যুবক সাইফুলকে। নীল, নীলা নীলিমা, মেঘ বালিকা নীলা, পপি খান, নীল বেদনার নিলীমা, নীলা আক্তার, তমা, তুলি, সেই আমি ও থ্রিফল টিটি নামে বহু ইমো এবং টুইটার আইডি ব্যবহার করে কথা বলতেন। ব্যবহার করতেন ০১৮৫৫-৬৭৩৫১১, ০১৭৭৩-৪২৩২২৩, ০১৭৩৫-০৫৬৪৫৯, ০১৭৯৩-৭৯১১৪৬, ০১৭৩৯-৫৯৪১২৮ সহ অসংখ্য নাম্বার। সব নাম্বার আবার বিকাশও করা।

এক পর্যায়ে নীলা এ জগত হতে ফিরে আসার আকুতি জানিয়ে সহযোগিতা চায় যুবক সাইফুলের কাছে। সব জেনেশুনে প্রবাসী যুবক এক লক্ষ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে নীলাকে ঢাকা উত্তরার বিলাসী পতিতালয়ের জিম্মিদশা হতে উদ্ধার করেন।

গড়ে উঠে তাদের মধ্যে প্রনয় ভালোবাসা আর সর্ম্পক। স্বপ্ন দেখে ভালোবেসে ঘর বাধার। দু’বছর পর সিদ্বান্ত নেন তারা বিয়ে করবেন। যেমন কথা তেমন কাজ বিয়ে করেন প্রবাসী যুবক ভিডিও কলে। 

এরপর প্রায় কথা হতো দুজনের। ঢাকা থেকে দিনাজপুরে বাপের বাড়ি বেড়াতে গেলেন নীলা। বোন তিন্নিকে নিয়ে কত ঘোরাঘুরি মুক্ত স্বাধীন জীবন পেয়ে। দিনাজপুরের এক শিক্ষিকা সুস্মিতা সেন বিয়ে সহ সবকিছু রাজস্বাক্ষী থাকেন। এরমধ্যে কাজে কর্মে নানা বাহনায় সৌদিয়া প্রবাসী যুবকের কাছ থেকে টাকা নিতে থাকেন সুন্দরী নীলা। 

সোশ্যাল সাইটে ভিডিও বিয়ে রুপ নেয় প্রকৃত জীবনে। যুবক ও মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসে নীলাকে। যেতে যেতে দু’বছরে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা নীলার কাছে পাঠান বলে দাবি যুবকের। কিন্তু কিছু দিন যেতেই ঘটনার মোড় নেয় অন্যদিকে। পূর্বে বিলাসী পতিতালয়ে থাকা অবস্থায় জিম্মিদশায় করা নীলার কিছু নগ্ন ভিডিও’র কপি ইউটিউব ও টুইটারে কে যেন ছেড়ে দেন। এতে বাধে বিপত্তি। সময়ে পাল্টে যায় নীলার রুপ। অন্ধকার জগত থেকে যুবকের টাকায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা নীলা হঠাৎ বদলে যান।

নীলার দাবি ভিডিও গুলো প্রবাসী যুবক ছড়িয়েছে । শুরু হয় দ্বন্ধ। সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। নীলা পরিচয় গোপন করে এভাবে নতুন প্রেমের ফাঁদে ফেলে নানা যুবকদের।  হাতিয়ে নেয় এভাবে লাখ লাখ টাকা। অন্যদিকে অভিনব এই প্রতারণায় ফকির হয়ে যায় কথিত স্বামী মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি প্রবাসী যুবক সাইফুল।

জানা যায়, নিজের চিকিৎসা, ভাইবোনের খরচ, নিজের দরকারে সহ নানা বাহানায় যুবকের কাছ থেকে টাকা নিতে থাকেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিয়ের প্রলোভনে স্বর্বশান্ত আর নিঃস্ব হয়ে যায় প্রবাসী যুবক। প্রবাসী যুবকের দাবি নানা ভাবে সে লক্ষ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিল নীলাকে। যেমন- বিকাশে ও হুন্ডিতে টাকা পাঠিয়েছিলেন যার প্রমাণ রয়েছে দাবি তার। 
এর মধ্যে দিনাজপুরের সুন্দরী নীলার বাবার সাথে যোগাযোগ করে যুবক। যেহেতু সবকিছু তিনি জানতেন কিন্তু বিধিবাম নীলার বাবা ও মত পাল্টে নিলেন। বেশি বাড়াবাড়ি করলে মামলা করবে বলে হুমকি দেয় নীলা ও তার পরিবার। পালিয়ে যায় চট্টগ্রামে নীলা।

তাহলে কি সবকিছু ছিলো প্রতারণার নীল ফাঁদ। প্রবাসী যুবক এখন নিরুপায়। নীলা সুন্দরীর আশায় তাকে ভালোবেসে নিজের আকামাও ঠিক করতে পারেনি সৌদিয়াতে। মুঠোফোনে জানতে চাইলে ভুক্তভোগি সাইফুল জানান, ‘খারাপ জায়গা হতে একটা মেয়েকে ভালো পথে এনে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম কিন্তু উল্টো আমার জীবনটা নষ্ট করে দিলো নীলা। ভুল ভেঙে যদি সে ফিরে আসে সে আশা করি এখনো। কারণ তাকে আমি ভালোবেসেছে।’

প্রতিবেদকের প্রশ্ন নীলা এখন কোথায় জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি খবর নিয়েছি ওরা এখন দিনাজপুর থেকে পরিবার সহ চট্টগ্রামে চলে গেছে।  

এ প্রসঙ্গে নীলার বাবা ও নীলার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও সাংবাদিক পরিচয় জানার পরপরই ফোন লাইন কেটে দেন ফলে মন্তব্য জানা যায়নি তাদের।  অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা চট্টগামে রয়েছে এ রকম আরো বহু মিনি পতিতালয় স্পট কিংবা ফ্ল্যাট। যেখানে নিজেদের নাম্বার বিকাশ করে অন্যের নামে। বিউটি পার্লার থেকে সেজেগুজে সুন্দরী রমণীরা অর্ধনগ্ন হয়ে চক্রের মাধ্যমে ফাঁদ পাতে। সে এক অজানা কাহিনী। টাকা-পয়সা হারিয়ে পথে বসেছেন অনেকে। 

সামাজিক মানসম্মানের ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে আবার রাজি না। অজান্তে ভিডিও কলে অপরপ্রান্তে লোকজনকে বিবস্ত্র করে ছবি তুলে সুন্দরীরা। তারপর পোজ দিয়ে সেই ছবি পরিবারের লোকজনের কাছে পাঠানোর হুমকি। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম এনালিস্ট ও হিউম্যান রাইটস এক্টিভিটিস আইটি বিশেষজ্ঞ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া একটি ধোঁয়াশার জায়গা অর্ন্তজালের ভেতরে এক অদ্ভুদ মায়া জাল। এই কালো হাত থামাবে কে? এসবের জন্য আইন ও অপ্রতুল দেশে। একজন মেয়েকে খারাপ জায়গা হতে ভালো পথে এনে নিজেই সমস্যায় পড়ার কোন মানে হয়না।’

সোনালীনিউজ/এমএএইচ