শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬

তিতাসের মৃত্যু: নির্দোষ সেই যুগ্ম সচিব-ডিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০৮:৫৭ পিএম

তিতাসের মৃত্যু: নির্দোষ সেই যুগ্ম সচিব-ডিসি

ঢাকা : ফেরিঘাটে স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর মণ্ডল ও মাদারীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি)কে নির্দোষ বলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।  

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

এর আগে তিতাসের মৃত্যুর ঘটনায় হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চের নির্দেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তিতাসের মৃত্যুতে তদন্ত প্রতিবেদনে ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসেন, প্রান্তিক সহকারী খোকন মিয়া ও উচ্চমান সহকারী ফিরোজ আলমকে দায়ী করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা দেরিতে ফেরি ছাড়ায় তিতাসের মৃত্যু হওয়ার কারণে তিনজন দায় এড়াতে পারেন না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রেজাউল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্যরা হলেন- নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আব্দুস সাত্তার শেখ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব তোফায়েল ইসলাম।

গত ২৫ জুলাই রাতে সরকারের এ টু আই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর মণ্ডলের গাড়ির অপেক্ষায় মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি এক নম্বর ফেরিঘাটে প্রায় ২ ঘণ্টা ‘কুমিল্লা ফেরি’ বসিয়ে রাখা হয়। ফেরিঘাটে আটকে পড়া স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষকে বহণকারী অ্যাম্বুলেন্স পার করার জন্য বারবার অনুরোধ জানিয়েও ফেরি ছাড়া যায়নি। ফলে অ্যাম্ব্যুলেন্সেই মৃত্যু হয় তিতাসের। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে তিতাসের পরিবারকে তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জহির উদ্দিন লিমনের করা এক রিট আবেদনে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৩১ জুলাই এক আদেশে ঘটনা তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। অতিরিক্ত সচিবের নিচে নয় এমন একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে কমিটি গঠনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিটিকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই নির্দেশের একদিন আগেই ৩০ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রেজাউল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় গত ২৮ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ আদালত থেকে আরো সময় নেয়। এ অবস্থায় কমিটি তদন্ত শেষে হাইকোর্টে দাখিল করার জন্য ৩৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দিয়েছে। 

সোনালীনিউজ/এএস