বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭

তিন সংস্থার জরিপে স্বস্তিতে আ.লীগ

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার ০৩:৫৫ পিএম

তিন সংস্থার জরিপে স্বস্তিতে আ.লীগ

ঢাকা : নতুন খ্রিষ্টীয় বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে বিদেশি তিনটি সংস্থার প্রকাশিত জরিপ ও প্রতিবেদনে দেশ ও বিদেশে আরো বেশি স্বস্তিতে আছে আওয়ামী লীগ।

রাজনীতির মাঠে আরো বেশি চাঙা ক্ষমতাসীন দলটি। আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপে দলের নেতৃত্বের সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়া, বৈশ্বিক প্রতিবেদনে দেশে দুর্নীতির সূচকে উন্নতি হওয়া ও গণতন্ত্রের সূচকে আটধাপ অগ্রগতি বিদেশে সরকার ও সরকারি দলের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করছে।

সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে পরিচিত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আগে জরিপ ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় ভোটের মাঠে সেগুলোর ‘ইতিবাচক প্রভাব অবশ্যই পড়ছে’। এতে দলের সমর্থিত দুই মেয়র প্রার্থীসহ কাউন্সিলর পদে অধিকাংশের বিজয়ের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হচ্ছে বলে মনে করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

দলে শুদ্ধি ও সরকারে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মধ্য দিয়ে নতুন বছরে শুদ্ধ আওয়ামী লীগের পথচলার শুরুতেই বিদেশি প্রতিবেদন ও জরিপের ফলাফলে দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও উচ্ছ্বসিত।

দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল এবং সরকারে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গত বছর আরো কঠোর অবস্থানের কারণে বিদেশি মূল্যায়ন অনেকটা প্রত্যাশিত ছিল এবং এসব প্রতিবেদনের ফল সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল ও সরকারের প্রতিপক্ষের সমালোচনাকেও জনগণের কাছে ‘অপ্রয়োজনীয়’ করে তুলবে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা।

তাদের মতে, ২০২০ সালের আগে যথাসম্ভব শুদ্ধ রাজনৈতিক দল চায় আওয়ামী লীগ। জাতির পিতা ও সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গড়া এ দলের নেতৃত্বের সরকার এ বছর তার জন্মশত বছর ‘মুজিববর্ষ’ ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে রাষ্ট্রীয় বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

বাঙালির মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বছর ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের সময় মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের পদে বিতর্কিতদের না রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।

চলতি বছর শুরুর আগেই শুদ্ধি অভিযান ও কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মধ্য কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সহযোগী সংগঠনগুলো থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে নতুন করে সাজিয়ে বিতর্কমুক্ত করার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করে দল। বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশে দলে সাংগঠনিক শুদ্ধি অভিযান চলে। এসবের প্রতিফলন ঘটেছে বিদেশি মূল্যায়নে।

তথ্যমতে, দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট বলে জানায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট’ (আইআরআই)। একই সঙ্গে সরকারের প্রতি গত এক বছরে জনসমর্থন বেড়েছে বলেও সংস্থাটির সমীক্ষায় উঠে এসেছে। বিপরীতে কমেছে বিরোধী দলের জনপ্রিয়তা।

সম্প্রতি আইআরআই পরিচালিত এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। শেখ হাসিনার সরকারের বছরপূর্তিতে সংস্থাটি এ জনমত জরিপ করে। জরিপের ফল তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। দেশের আট বিভাগের ৬৪ জেলায় ‘মাল্টি স্টেজ স্টার্টিফাইড প্রবাবলিটি’ নমুনায়নের মাধ্যমে ব্যক্তিপর্যায়ে যোগাযোগ করে এ জরিপ চালানো হয় বলে জানায় সংস্থাটি।

জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাচনের প্রচারণায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীসহ নেতা-কর্মীরা ভোটারদের কাছে সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ার ওই জরিপের তথ্য তুলে ধরছেন।

দলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মী উদ্যম নিয়ে প্রচারণার কাজে ব্যস্ত। গণতন্ত্র ও দুর্নীতির সূচকে উন্নতির তথ্যও তারা তুলে ধরছেন ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মনে করেন, ‘শুদ্ধি অভিযান চালানোয় আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেড়েছে।’

তিনি গতকাল শনিবার বলেন, ‘বিএনপি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অজুহাত খুঁজছে। জনপ্রিয়তা হারিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় দেখছেন বিএনপি নেতারা।’

অন্যদিকে নির্বাচন ব্যবস্থা ও বহুদলীয় পরিস্থিতি, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক অধিকার-এই পাঁচ মানদণ্ডে তৈরি বিশ্ব গণতন্ত্র সূচকে এক লাফে বাংলাদেশের ৮ ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। গত বছরে এ সূচকে ৮৮তম থাকলেও এবার ৮০তম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

ব্রিটিশ সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ ম্যাগাজিনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের’ গত বুধবার প্রকাশিত ‘বিশ্ব গণতন্ত্র সূচকে’ এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশন্যাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০১৯ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থানের একধাপ উন্নতি হয়েছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে এর স্কোর (২৬)।
প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী তালিকার ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৬তম, যা ২০১৮ এর তুলনায় ৩ ধাপ উন্নতি। তালিকায় নিচের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম, যা গত বছরের তুলনায় একধাপ উন্নতি।

তবে সূচক অনুযায়ী ২০১৯ সালে বাংলাদেশের অবস্থান-সংক্রান্ত ব্যাখ্যায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সিপিআই ২০১৯ অনুযায়ী, ১০০ এর মধ্যে গড় স্কোর ৪৩। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশের স্কোর ২৬ হওয়ায় দুর্নীতির ব্যাপকতা এখনো উদ্বেগজনক। সূচকে কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবে তা সন্তোষজনক নয়।’

দলীয় সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের টানা তৃতীয়বারের সরকারের পথচলার শুরুতে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নেতত্বের ঐক্যফ্রন্ট বিদেশিদের কাছে নানা অভিযোগ তুলে ধরে। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কাছেও ঐক্যফ্রন্ট অভিযোগ জানায়।

নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর যে চাপ তৈরি হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তা কেটে যায় শুরুতেই। ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগ তদন্ত করতে বিদেশিদের আহ্বানও তেমন জোরালো নয় বলে শুরুতেই মনে করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব।

কোনো কোনো দেশ ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ’ হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগ তদন্তে সরকারকে আহ্বান জানালেও প্রায় পুরো বিশ্ব সম্প্রদায় নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানায়। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে তারা। নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করারও প্রতিশ্রুতি দেয় রাষ্ট্রগুলো। ফলে দেশ ও বিদেশের সার্বিক পরিস্থিতির বিবেচনায় নতুন সরকারের শুরু থেকেই স্বস্তিতে ছিল আওয়ামী লীগ।

সোনালীনিউজ/এমটিআই