শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬

থানার ৩০০ গজের মধ্যে ক্যাসিনো জানে না পুলিশ!

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০৭:৫৪ পিএম

থানার ৩০০ গজের মধ্যে ক্যাসিনো জানে না পুলিশ!

ঢাকা : রাজধানীর ফকিরেরপুল ইয়াংমেনস ক্লাবটি মতিঝিলের থানার পাশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, এসব কাজে সহযোগিতা করতো খোদ পুলিশ। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পুলিশের গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, ক্যাসিনোর প্রভাব সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে বিরূপভাবে পড়বে উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী এর দায় এড়াতে পারে না।

মতিঝিলের ইয়াংমেনস ক্লাব। যেখান থেকে মতিঝিল থানার দূরত্ব মাত্র ৩০০-৪০০ গজ।  বুধবার এ ইয়াংমেনস ক্লাবে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্য ও টাকাসহ ১৪২ জনকে আটক করে। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এ ক্লাবটি গত ৪ থেকে ৫ বছর প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধভাবে ক্যাসিনো ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। অলৌকিক কারণে এর আগে কখনো অভিযান চালায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় থানা পুলিশ টাকার বিনিময়ে ক্লাবের কর্মকর্তাদের ক্লাব পরিচালনায় সহযোগিতা করে আসছে। এমনকি অভিযান হতে পারে এমন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে কয়েক ঘণ্টা ক্লাবের কার্যক্রম বন্ধও রেখেছিলেন তারা।

একজন বলেন, থানার পাশেই এত বড় ক্যাসিনো, পুলিশের তো জানারই কথা।

প্রশাসনের নাকের ডগায় ক্লাব এবং সামাজিক সংগঠনের আড়ালে কীভাবে আইনবর্হিভূত এসব কাজ চলছিল? এমন প্রশ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।

ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা রানা বলেন, ‘যদি কোনো পুলিশ কর্মকর্তা এখানে জড়িত থাকে বা গাফিলতি থাকে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না বলে মত অপরাধ বিশেষজ্ঞদের।

অপরাধ বিশ্লেষক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে অনেক কিছুই খুব কঠিন। বলাটা সহজ হলেও করাটা কঠিন। তবে যা শুরু হয়েছে তার জন্য সাধুবাদ জানাই।’

বুধবার খালেদকে গ্রেফতারের আগে তার মালিকানাধীন ফকিরাপুলের ইয়াংমেন ক্লাবে নিষিদ্ধ ক্যাসিনোতেও অভিযান চালায় র‌্যাব। এখান থেকে দুই নারীসহ ১৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। ক্যাসিনোতে মদ আর জুয়ার বিপুল সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রায় ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ক্লাবটির সভাপতি খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। অনেক দিন ধরে এখানে জুয়াসহ নানা অপকর্ম চলছিল। সাম্প্রতিককালে অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ার পর বুধবার অভিযান পরিচালিত হয়। ইয়াংমেন্স ক্লাবের পর ওই রাতেই ঢাকার আরও তিনটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র্যা ব।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ইয়াংমেন্স ক্লাব থেকে মাদক এবং জুয়ার সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে। ক্লাবের কাউন্টার থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা জব্দ করা হয়।

তিনি বলেন, এদিন মতিঝিলের ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব এবং বনানী এলাকার একটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালানো হয়। ওয়ান্ডারার্স ক্লাব থেকে মাদক, জালটাকা, বিপুল পরিমাণ টাকা ও ক্যাসিনো সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।

এর পর ক্যাসিনোটি সিলগালা করে দেয়া হয়। বনানীর আহমেদ টাওয়ারে অবস্থিত গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ নামে ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের নেতৃত্বে আছেন মমিনুল হক সাঈদ এবং আবু কাউসার মোল্লা নামে দুই ব্যক্তি।

দুজনই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এদিকে বুধবার রাতেই গুলিস্তানে পীর ইয়েমেনী মার্কেটসংলগ্ন একটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাব। স্থানীয় কয়েকজন জানান, এ ক্যাসিনোর নেতৃত্বে আছেন ইসমাইল হোসেন সম্রাট।

খালেদ মাহমুদের সন্ধানে বুধবার দুপুরের পর থেকে তার গুলশান-২ এর ৫৯ নম্বর রোডের ৫নং বাসা ঘিরে রাখে র‌্যাব। প্রিমোরোজ গার্ডেন নামে ৬ তলাবিশিষ্ট এ ভবনের তিনতলায় পরিবার নিয়ে থাকেন যুবলীগ নেতা খালেদ।

বাড়ির ব্যবস্থাপক জানান, প্রথমে ডিবি পরিচয়ে একদল লোক বাসায় আসে। এর পর আসে র‌্যাব। রাতে এখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় বাসার লকার ও দেয়াল আলমিরা থেকে অবৈধ অস্ত্র, ইয়াবা, টাকা, ডলার উদ্ধার করা হয়।

 

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue