রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে নিয়ম মেনে চলা জরুরি

ডা. শারমীন জামান | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০৩:০০ পিএম

দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে নিয়ম মেনে চলা জরুরি

ঢাকা : আমাদের দেশে সাধারণত দাঁত ব্যথা বা খুব সমস্যায় না পড়লে চিকিৎসকের কাছে কেউ আসেন না। এটি ঠিক নয়। ছয় মাসে একবার আর তা সম্ভব না হলে বছরে অন্তত একবার একজন দন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে মাড়ির রোগ ও দাঁতের বিভিন্ন সমস্যায় প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া দাঁতের ক্ষয় বা মাড়ির সমস্যা, ব্যথা,দাঁত পড়ে যাওয়া এমনকি আত্মবিশ্বাসের সংকটও তৈরি হতে পারে।

এই সমস্যাগুলো অপুষ্টি, কথা বলার সমস্যা সহ আপনার জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে নিয়ে যেতে পারে। মুখের ভেতরের স্বাস্থ্য সমস্যাকে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যের বোঝা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে যে কোনো ব্যক্তির মুখের স্বাস্থ্য এবং তাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের মধ্যে একটি মিল রয়েছে।

সুতরাং নিয়মিত দাঁতের যত্ন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ এই দুটো আপনার সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করতে পারে। কিছু সুঅভ্যাস গড়ে তুললে আপনার দাঁত এবং মাড়িকে স্বাস্থ্যকর রাখতে পারেন

নিয়মিত ব্রাশ করা : দিনে দুবার ব্রাশ করার মাধ্যমে প্লাগ ও ব্যাকটেরিয়া দূর করা এবং দাঁত ধবধবে সাদা রাখতে বেশিরভাগই মানুষই সচেতন। এজন্য ব্রাশ করার সঠিক কৌশল ছোট ছোট বৃত্তাকার করে ধীরে ব্রাশ করা উচিত, প্রতিটি দাঁতের সামনে, পেছনে এবং উপরের অংশটি ব্রাশ করা উচিত। এই প্রক্রিয়াটি ২ থেকে ৩ মিনিট সময় নিয়ে করা উচিত।

ফ্লোরাইড ব্যবহার : ফ্লোরাইড ফ্লোরিন নামক একটি উপাদান থেকে আসে। ফ্লোরাইড মুখগহ্বরের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। ফ্লোরাইড টুথপেস্ট মাউথওয়াশের একটি সাধারণ উপাদান। ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট এবং ফ্লস ব্যবহারে ক্যাভিটি প্রতিরোধ হতে পারে।

ধূমপান না করা : ধূমপান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, ধূমপান মাড়ির রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। জর্দা বা তামাক জাতীয় সেবন দাঁত ও মাড়ির জন্য খুবই ক্ষতিকর। এতে মুখ ও জিহ্বায় ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে।

মাউথওয়াশ ব্যবহার : দিনে কয়েকবার মুখ ধোয়া বা কুলি করা মুখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ক্লোরহেক্সিডিনযুক্ত মাউথওয়াশ মুখগহ্বরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলো ধ্বংস করে দাঁত এবং মাড়িকে সুস্থ রাখে। তবে টানা ব্যবহার না করে এক থেকে দুই সপ্তাহ ব্যবহার করতে হবে, অন্তত তিন মাসের ব্যবধানে আবার ব্যবহার করা যেতে পারে।

মিষ্টিজাতীয় খাবার : মিষ্টিজাতীয় খাবার এবং স্টিকি ফুড বা আঠালো জাতীয় খাবার দাঁতে ক্যাভিটি হতে সহায়তা করে। ক্যান্ডি বা মিষ্টিতে চিনি থাকায় এগুলো কম খাওয়াই ভালো। এভাবে নিয়মের মধ্য দিয়ে চললে আপনার দাঁতের সমস্যা অনেক কমে যাবে।

লেখক : বিডিএস, পিজিটি (ওরাল অ্যান্ড মেক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি)
ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন, ফরাজী ডেন্টাল হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্স সেন্টার

 

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue