মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫

দাবি কার্যকর হলেই আমরা ক্লাসে ফিরে যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার ০১:৪৫ পিএম

দাবি কার্যকর হলেই আমরা ক্লাসে ফিরে যাব

ঢাকা : ছয় দফা দাবি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভিকারুননেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে একথা জানিয়েছেন ছাত্রী প্রতিনিধি আনুশ্কা রায় ও অধরা অঞ্জলী। তারা জানান, অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন থেকে আমরা ছয়টি দাবি তুলেছি।

যার একটিও এখনও মানা হয়নি। আমরা জানি ৬টি দাবির সবগুলো এখনই বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। কিন্তু এর মধ্যে অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং ৩০৫ ও ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অপরাধে তার শাস্তি নিশ্চিত করা, পরিচালনা পর্ষদের সবাইকে একযোগে পদত্যাগ এবং অরিত্রিক বাবা-মায়ের কাছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিঃশর্ত ক্ষমা এই তিনটি দাবি এখন বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় আমাদের লিখিতভাবে আশ্বাস দিলেই আমরা আন্দোলন থেকে সরে যাব। ক্লাসে ফিরে যাব।

তারা আরও বলেন, যেহেতু আমরা বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগ দাবি করছি সুতরাং তাদের কাছে এর কোনোটিরই প্রতিশ্রুতি চাই না। আমরা চাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পরিপূর্ণভাবে হস্তক্ষেপ করুক। তারা নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করুক। সেই পর্ষদই নতুন করে প্রিন্সিপাল নিয়োগসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধান করবে।

আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেফতার হওয়া শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনার বিষয়ে কোনো কিছু করার নেই জানিয়ে তারা বলেন, অরিত্রির বাবার দায়ের করা মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়েছেন। এটি সম্পূর্ণ আইনি ব্যাপার। আমাদের দাবির কোথাও এটি ছিল না।

গণমাধ্যমের সামনে এসব কথা বলার পর তারা স্কুলের মূল গেটের সামনে জড়ো হয়ে আবারও বিক্ষোভ করতে থাকে। সোমবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরের নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় অরিত্রি। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অরিত্রির আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে গতকাল তারা বাবা দিলীপ অধিকারী বলেছিলেন, অরিত্রির স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। গতকাল রোববার সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের ডেকে পাঠায়। সোমবার স্কুলে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, অরিত্রি মোবাইল ফোনে নকল করছিল, তাই তাকে বহিষ্কারের (টিসি) সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার মেয়ের সামনে আমাকে অনেক অপমান করে। এই অপমান এবং পরীক্ষা আর দিতে না পারার মানসিক আঘাত সইতে না পেরে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় অরিত্রি।

এ ঘটনার পর মঙ্গলবার রাত ১০টায় রাজধানীর পল্টন থানায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচণার মামলা দায়ের করেন অরিত্রির বাবা। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওই তিন শিক্ষককে বরখাস্তোর নির্দেশ দেয়। রাতে গ্রেফতার হন হাসনা হেনা।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue