বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

ছেলের বাসায় লুকিয়ে ছিলেন মোয়াজ্জেম

দাড়ি-গোঁফ রেখেও শেষ রক্ষা হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৯, রবিবার ০৮:২০ পিএম

দাড়ি-গোঁফ রেখেও শেষ রক্ষা হয়নি

ঢাকা : গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালত থেকে জামিন নেওয়ার আশায় ২০ দিন আত্মগোপনে ছিলেন ফেনীর সোনাগাজী থানার আলোচিত সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। এমন কি দাড়ি-গোঁফ রেখে চেহারাটা পাল্টানোর চেষ্টাও করেন। এতকিছুর পরও শেষ রক্ষা হলো না ওসি মোয়াজ্জেমের।

রোববার (১৬ জুন) ঢাকার আদালত চত্বর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে, দুপুরে কৌশলে আদালতে প্রবেশ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদনও করেন ওসি মোয়াজ্জেম।

তথ্য প্রযুক্তি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর আদালত থেকে জামিন নেয়ার আশায় ২০ দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, দেবিদ্বার, দাউদকান্দি আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। পাশাপাশি কুমিল্লা জিলা স্কুলে তার ছেলে অধ্যয়ন করছে বিধায় কুমিল্লা জেলার শহরতলীতে ছেলের বাসায় প্রায় এক সপ্তাহ লুকিয়ে ছিলেন তিনি।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, হাইকোর্টের পাশ থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া মামলার আসামি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। পরে ফেনীর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। যেহেতু মামলা তারা তদন্ত করছেন, তাই তাদের কাছে ওসি মোয়াজ্জেমকে হস্তান্তর করা হবে।

জানা যায়, ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি মোয়াজ্জেম। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েও দেন তিনি।

ভিডিও করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সুমন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এরপরও তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তিনি আত্মসমর্পণও করেননি।

পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী, গত ৮ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি রংপুর রেঞ্জ অফিসে যোগ দেন। গত ক’দিন থেকে তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে ফেনী ও রংপুর পুলিশের ঠেলাঠেলি চলছিল। ঈদের আগে সেখান থেকে নিরুদ্দেশ হন ওসি মোয়াজ্জেম।

এর আগে, গত ৬ এপ্রিল এইচএসসি সমমানের আলিম আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue