বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬

দুই সিটিতে বিজয়ী হতে মাঠের লড়াই আ.লীগ-বিএনপি

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার ০৯:৩৩ পিএম

দুই সিটিতে বিজয়ী হতে মাঠের লড়াই আ.লীগ-বিএনপি

ঢাকা: দুই সিটিতে এবার ভোট হবে ইভিএমে। প্রার্থী হতে হলে বর্তমান মেয়রদের পদত্যাগ করতে হবে। তবে কাউন্সিলরা স্বপদে থেকে নির্বাচন করতে পারবেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। রোববার ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোট হবে আগামী ৩০ জানুয়ারি। 

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষদিন ৩১ ডিসেম্বর। ২ জানুয়ারি যাচাই-বাছাই এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ জানুয়ারি। ১০ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ এবং এদিন থেকেই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে বড় রাজনৈতিক দলগুলো। যদিও আগে থেকেই তারা প্রাথমিক প্রস্তুতি সেরে রেখেছে। এবারের সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপিও নির্বাচনের মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। 

সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের কথা জানান। বিএনপি ছাড়াও অন্য প্রায় সব রাজনৈতিক দলই মাঠে থাকবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পর ফের মুখোমুখি হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দুই সিটি নির্বাচনে নৌকা ও ধানের শীষের জমজমাট লড়াই হবে বলেই মনে করছেন ভোটাররা। দুই সিটির নির্বাচন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এ ভোটকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছেন দলের নেতারা। তাই ভোটে জয়ী হতে মেয়র পদে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী প্রার্থী দেবে উভয় দলই।

এবারের নির্বাচনেও জোটগতভাবে একক প্রার্থী দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং বিএনপির মিত্র জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, আমাদের প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা সব সময়ই থাকে। প্রার্থিতা চেয়ে আমরা দলীয় মনোনয়ন ফরম ছাড়ব। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের মধ্য থেকে যাকে যোগ্য মনে হবে তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, আমাদের প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা সব সময়ই থাকে। প্রার্থিতা চেয়ে আমরা দলীয় মনোনয়ন ফরম ছাড়ব। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের মধ্য থেকে যাকে যোগ্য মনে হবে তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের মেয়াদ এক বছর হলেও যোগ্য প্রার্থীর সন্ধান করা হচ্ছে সেখানেও।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমরা সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেব, এটা আমাদের আগের সিদ্ধান্ত ছিল। সেই হিসেবে দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমাদের দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জন্য ২৬ ডিসেম্বর মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হবে। এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম নিতে হবে। ২৭ ডিসেম্বর বিকাল ৪টার মধ্যে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে হবে। এরপর নীতি-নীতিনির্ধারকরা যাচাই-বাছাই করে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন। 

সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল এ তথ্য জানান।  মির্জা ফখরুল বলেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় দুই সিটির মেয়র পদে বিএনপি দলীয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং কাউন্সিলরদের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলীয় সিদ্ধান্ত ঠিক করা হবে। 

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা মনে করি, দুই সিটি নির্বাচনে তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণা করা সরকারি দলকে জেতানোর অপকৌশলের  অংশ। নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি আরো বলেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় দুই সিটির মেয়র পদে বিএনপি দলীয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং কাউন্সিলরদের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলীয় সিদ্ধান্ত ঠিক করা হবে। 

আগামী ৩০ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন রেখে রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে ইলেকশন কমিশন। রোববার (২২ ডিসেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা তফসিল ঘোষণার সময় জানান, দুই সিটিতে ৩০ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট হবে। সম্পূর্ণ ভোটই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) গ্রহণ করা হবে। বিদ্যমান ভোটার তালিকায় ভোট নেয়া হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ইভিএমের পাহারায় দুজন করে সেনা কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে। 

তিনি আরও বলেন, প্রার্থী হতে হলে বর্তমান মেয়রদের পদত্যাগ করতে হবে। তবে কাউন্সিলররা নিজ পদেই থেকে নির্বাচন করতে পারবেন। নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটারদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমরা (ইসি) নেব। আমরা ভোটারদের আহ্বান করছি, তারা যেন ভোটকেন্দ্রে আসেন। প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হবে। এটা নিয়ে চিন্তার অবকাশ নেই।

মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি : ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে শক্তিশালী প্রার্থীর সন্ধান করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। প্রার্থিতা চেয়ে আগামীকাল বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করবে দলটি। বুধবার থেকে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ধানমণ্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে এ আবেদনপত্র সংগ্রহ করা যাবে। জমা দেয়াও যাবে শুক্রবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

২৮ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা হবে। ওই বৈঠকেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।  উত্তরে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম মাঠে আছেন। স্বল্পদিন ধরে মেয়রের দায়িত্বপালন করায় পুনরায় তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হকও রয়েছেন আলোচনায়।

জানা গেছে, উত্তরে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম মাঠে আছেন। স্বল্পদিন ধরে মেয়রের দায়িত্বপালন করায় পুনরায় তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হকও রয়েছেন আলোচনায়। এছাড়া, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সদ্যবিদায়ী যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাদের খানও নির্বাচন করতে আগ্রহী। দক্ষিণে বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন এরইমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন। খোকন ছাড়াও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীও মেয়র পদে প্রার্থী হতে পারেন।

কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেয়নি দলটি। তবে প্রার্থী সংখ্যা বেশি হলে ও বিএনপিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থিতায় অনাগ্রহ থাকলে কাউন্সিলর পদ উন্মুক্ত রাখার কথা চিন্তা করছে আওয়ামী লীগ। দক্ষিণে এবার মির্জা আব্বাসের নির্বাচন করার সম্ভাবনা কম। তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার পক্ষে ছিলেন দলের একটি অংশ। 

কিন্তু ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মারা যাওয়ার পর আব্বাস দম্পতি নির্বাচন করতে আগ্রহী নন বলে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে, খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনই দক্ষিণে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের এরইমধ্যে সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে। বিগত নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ভোটে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য মির্জা আব্বাস ও উত্তরে দলের অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তরুণ নেতা তাবিথ আউয়াল। দক্ষিণে এবার মির্জা আব্বাসের নির্বাচন করার সম্ভাবনা কম। তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার পক্ষে ছিলেন দলের একটি অংশ। কিন্তু ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মারা যাওয়ার পর আব্বাস দম্পতি নির্বাচন করতে আগ্রহী নন বলে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে, খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনই দক্ষিণে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী। 

দলের বড় একটি অংশ বয়সে তরুণ ইশরাকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সাদেক হোসেন খোকার ইমেজকে কাজে লাগিয়ে তার ছেলে ইশরাক ভোটে ভালো করতে পারবে বলে বিএনপির নেতাদের ধারণা। নির্বাচনের বিষয়ে ইশরাক বলেন, দল সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাকে যদি দল মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমি নির্বাচনে লড়ব। আমি নির্বাচনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। সুষ্ঠু ভোট হলে দক্ষিণে ধানের শীষের বিপুল বিজয় হবে বলে আশা করি।

দক্ষিণে মেয়র পদে আলোচনায় আছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। দলের নীতিনির্ধারক ও সাধারণ নেতাকর্মীরাও অনেকে চান সিটি নির্বাচনে সোহেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। মহানগর দক্ষিণের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশও তাকে মেয়র পদে দেখতে চান।

ইশরাক ছাড়াও দক্ষিণে মেয়র পদে আলোচনায় আছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। দলের নীতিনির্ধারক ও সাধারণ নেতাকর্মীরাও অনেকে চান সিটি নির্বাচনে সোহেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। মহানগর দক্ষিণের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশও তাকে মেয়র পদে দেখতে চান।

ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে এবারও দলীয় মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালকে। সম্প্রতি তাকে লন্ডনে ডেকে পাঠান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনের প্রস্তুতিসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। হাইকমান্ড থেকে সংকেত পেয়ে মাঠে কাজ শুরু করেছেন তিনি। ‘অদম্য ঢাকা’ এই স্লোগানে বিভিন্ন স্থানে মতবিনিময় করছেন তিনি। তুলে ধরছেন নির্বাচিত হওয়ার পর তার কর্মপরিকল্পনা। 

উত্তরে মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এলডিপির একাংশের নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিম। ’৯০-এর গণআন্দোলনের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতা সোনার বাংলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হারুন-অর-রশিদও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। 

এছাড়াও, বিগত উপ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যান্ডশিল্পী সাফিন আহমেদ এবারও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শক্তিশালী শরিক জামায়াতও ঢাকা সিটি উত্তরে মেয়র পদে প্রার্থী দেবে বলে শোনা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিগত নির্বাচনের প্রার্থী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মো. সেলিমউদ্দিন এবারও মেয়র পদে প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। 

সোনালীনিউজ/এমএএইচ