সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৬

দুই সূর্যের আরেক পৃথিবী আবিষ্কার 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার ১০:২৭ এএম

দুই সূর্যের আরেক পৃথিবী আবিষ্কার 

দুটো সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, এমন আরেকটা পৃথিবীর খোঁজ মিলেছে। দূর মহাশূন্যে এমন গ্রহের সন্ধান দিয়েছেন মার্কিন এক কিশোর, যার বয়স মাত্র ১৭ বছর। ওল্ফ কুকিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ গবেষণায় সংস্থায় ইন্টার্ন করার সময় গ্রহটি আবিষ্কার করেন।

নাসা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, টিওআই ১৩৩৮ বি নামের গ্রহটি ১৩০০ আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে। যে জোড়া নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে সে ঘোরে, সেই ব্যবস্থার নাম টিওআই ১৩৩৮। এটি পিক্টর নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত।

নাসার টেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে টিওআই ১৩৩৮ বি গ্রহটি শনাক্ত করেন কুকিয়ার। ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল টেস উৎক্ষেপণ করা হয়। সেদিন আমাদের সময় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অভিযানটির টেস অবজেক্টস

অব ইন্টারেস্টের (টিওআই) ডেপুটি ব্যবস্থাপক নটালিয়া গুরেরো এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, ‘ভিনগ্রহদের বৈচিত্র্যময় এক সম্ভার উপহার দেওয়ার আশা করছে টেস।’ টেসের প্রতিটা আবিষ্কারের কথা যেন গুরেরোর কথার প্রমাণ রেখে চলেছে।

টেস এ পর্যন্ত অন্তত ৩৭টি নিশ্চিত বহির্গ্রহ ধরা পড়েছে এ টেলিস্কোপের চোখে। টেস আরও ১৫০০টি গ্রহ আবিষ্কার করেছে, যেগুলো নিশ্চিত গ্রহ কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। টিওআই ১৩৩৮ বি হলো টেসের আয়নায় ধরা পড়া প্রথম গ্রহ, যা দুটো সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে।

টিওআই ১৩৩৮ ব্যবস্থায় নক্ষত্র দুটোর একটির ভর আমাদের সূর্যের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি। অপরটির ভর সূর্যের ভরের তিন ভাগের এক ভাগ মাত্র। এরা একে অপরকে ১৫ দিনে একবার চক্কর খায়। আর টিওআই ১৩৩৮ বি গ্রহটা এদের চারপাশে একবার ঘুরতে সময় নেয় ৯৫ দিনের মতো। গ্রহটি পৃথিবীর চেয়ে সাতগুণ ভারী।


গত জুনে কুকিয়ার গ্রহটির দেখা পান। কিন্তু গত সোমবারের আগ পর্যন্ত এ তথ্য গোপনেই ছিল। এদিন হোনোলুলুতে আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির ২৩৫তম সভায় গ্রহটির কথা জানানো হয়।

দুই সূর্যের এক পৃথিবী-সংখ্যায় খুব কমই আবিষ্কৃত হয়েছে। হাতেগোনা মাত্র কয়েকটির মধ্যে অন্তত ১২টির দেখা পেয়েছিল নাসার কেপলার অভিযান।

ওল্ফ কুকিয়ার নিউইয়র্কে থাকেন। দুটো নক্ষত্র পরস্পরকে চক্কর খাওয়ার সময় যে গ্রহণ সৃষ্টি হবে, সেটার প্রকৃতি কেমন-এ নিয়ে তার গবেষণা ছিল। তিনি টিওআই ১৩৩৮ নক্ষত্র ব্যবস্থাকে বেছে নেন নমুনা হিসেবে। গত জুনে নাসার ইন্টার্ন করতে গিয়ে তৃতীয় দিনই তিনি সন্দেহ করেন, নক্ষত্র দুটোর কক্ষপথে ‘এমন কিছু’ আছে, যা তাদের আলোকে আটকে দিচ্ছে। তার ঊর্ধ্বতন গবেষকরা কয়েক সপ্তাহ ধরে পরীক্ষা করে দেখেন, সেই ‘এমন কিছু’টা আসলে একটা গ্রহ।

নাসায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কুকিয়ারকে উদ্ধৃত করা হয়েছে, ‘ইন্টার্নশিপের মাত্র তৃতীয় দিনেই আমি একটা সংকেত পাই টিওআই ১৩৩৮ নক্ষত্র ব্যবস্থা থেকে। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম এটা বোধহয় কোনো নাক্ষত্রিক গ্রহণ। কিন্তু গ্রহণের সময়টা অঙ্কের সাথে মিলল না। বোঝা গেল, এটা আসলে একটা গ্রহ।’

টিওআই ১৩৩৮ বি আদৌ কি কোনো গ্রহ নাকি যান্ত্রিক ব্যবস্থার ত্রুটির ফল-এটা বোঝার জন্য একটি সফটওয়্যার দিয়ে যাচাই করে দেখে গবেষক দল। সফটওয়্যারটির নাম ‘এলিনর’; প্রয়াত জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল সেগানের ‘কন্টাক্ট’ বিজ্ঞানোপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র এলিনর অ্যারোওয়ের নামে নামকরণ।

মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএসকে কুকিয়ার বলেছেন, ‘ওই যুগল নক্ষত্রের আলোকে আটকে ফেলেছিল গ্রহটা। ফলে খুব অল্প পরিমাণে আলো এসে ঠেকেছিল [টেস] টেলিস্কোপে। এটাই আমি সবার আগে লক্ষ করেছিলাম।’

এ গ্রহের ওপর একটি গবেষণা প্রবন্ধ একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশের জন্য পাঠানো হয়েছে। কুকিয়ার প্রবন্ধটির সহলেখক।

কুকিয়ার বলেছেন, গ্রহ গবেষণায় তার ক্যারিয়ার সবে শুরু হলো। অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল এবিসি নিউজকে তিনি বলেছেন, ‘বেশ কয়েকবার আমাদের আত্মবিশ্বাস ওঠা-নামা করেছে। কিন্তু ইন্টার্নশিপ শেষে, আমরা আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান যে, আমরা একটা গ্রহ আবিষ্কার করেছি।’

সোনালীনিউজ/এএস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue