সোমবার, ২০ মে, ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

দুই হাত হারানো সিয়ামকে চাকরি দিল পল্লী বিদ্যুৎ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৫ মে ২০১৯, বুধবার ০৮:৫৪ পিএম

দুই হাত হারানো সিয়ামকে চাকরি দিল পল্লী বিদ্যুৎ

ছবি সংগৃহীত

শরীয়তপুর: দুই বছর আগের কথা। ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল প্রাইভেট পড়াতে যাওয়ার পথে বিদ্যুতের ছিঁড়ে পড়া তারে জড়িয়ে গুরুতর আহত হন সিয়াম আহম্মেদ খান। চিকিৎসার এক পর্যায়ে তার দুই হাতে সংক্রমণ দেখা দিলে কবজির ওপর থেকে দুই হাত কেটে ফেলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এতে পিছু না হটে লেখা-পড়া চালিয়ে যান এই কিশোর। প্রতিবন্ধকতা জয় করে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হন সিয়াম। দুই বছরের মাথায় সিয়ামকে চাকরি প্রদান করেছে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস)।

গেল ৬ মে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিসে অফিস সহায়ক পদে যোগদান করেন সিয়াম আহম্মেদ খান। সে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মশুরা গ্রামের ফারুক আহম্মেদ খানের ছেলে। বর্তমানে তার বয়স কুড়ি বছর।  

চাকুরীতে যোগদান করে সিয়াম আহম্মেদ বলেন, আমরা অনেক গরিব। পল্লী বিদ্যুতের ছিঁড়ে পড়া তারে আহত হয়ে দুই হাত হারিয়েছি। দুই হাত হারিয়েও অন্যের বোঝা হইনি। আমি এখন নড়িয়া সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স করছি। এখন আবার শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আমাকে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দিয়েছে। আমি ও আমার পরিবার তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে চাই।

শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. সোহরাব আলী বিশ্বাস জানান, সিয়াম খান বৈদ্যুতিক তড়িতাহত হয়ে দু-হাত হারানোর কারণে মানবিক ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান তাকে চাকরির জন্য প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি হয়ে গত ৩০ এপ্রিল চাকরির জন্য আবেদন করে সিয়াম। আবেদনের প্রেক্ষিতে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে অফিস সহায়ক পদে সিয়ামের চাকরি হয়। সে ৬ মে চাকরিতে যোগদান করেছে। চাকরির পাশাপাশি লেখাপড়াও চালিয়ে যেতে পারবে সিয়াম। সমিতির বেতন কাঠামো অনুযায়ী সিয়ামের মূল বেতন ১৫ হাজার ৫০০ টাকা। মূল বেতনসহ বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, বিদ্যুৎ ধোলাই ভাতাসহ প্রতিমাসে ২৩ হাজার ৯২৪ টাকা পাবে সিয়াম। তিনি বছরে দুটি বোনাস ও বৈশাখী উৎসব ভাতা পাবে। চাকরি শেষে এককালীন ৪০ লাখ টাকার ওপরে পাবে সিয়াম। শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারি সিয়ামের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করবে।

সিয়াম আহম্মেদ খানের মা নাজমা বেগম বলেন, হাত অকেজো হওয়ার কারণে আমার ছেলের অনেক কষ্ট হয়। তবুও লেখাপড়া করে চাকরি পেয়েছে। আমি খুব খুশি হয়েছি।

বাবা ফারুক আহম্মেদ খান বলেন, আমি গরিব মানুষ। ছেলের চিকিৎসা ও লেখাপড়া করিয়ে এখন পথে বসেছি। ছেলে চাকরি পাইছে, আমি খুব আনন্দিত। ওর জন্য সবাই দোয়া করবেন।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/জেডআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue