সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২ পৌষ ১৪২৬

তাজ বেঙ্গলে হাসিনা-মমতা বৈঠক

দ্বিপাক্ষীক সম্পর্ক জোরদারের আশ্বাস

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার ০৯:৩৭ পিএম

দ্বিপাক্ষীক সম্পর্ক জোরদারের আশ্বাস

ঢাকা : ইডেনে ভারত-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পিংক টেস্ট শুরু হওয়া থেকে দিনভর ক্রিকেটের বাইরের মহলের নজর ছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুসারে কলকাতার পাঁচতারা হোটেল তাজ বেঙ্গলে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) ভারতীয় বার্তা সংস্থার প্রকাশিত সংবাদের তথ্য মতে, কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনে ভারত-বাংলাদেশ গোলাপী বলের অভিষেক দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে অংশগ্রহণের পর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ এই বৈঠকে অংশ নিতে তাজ বেঙ্গলে পৌঁছান শেখ হাসিনা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রায় এক ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে দ্বিপাক্ষিক এই আলোচনাকে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ' হিসেবে অভিহিত করে দুই নেত্রীই সন্তোষপ্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এবিপি আনন্দ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাটি জানায়, দ্বিপাক্ষীক নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয়েছে দুই বাংলার এই দুই শীর্ষ নেতার মাঝে। যেখানে এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে তিস্তা চুক্তি এবং এনআরসি প্রসঙ্গে করা সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে গেছে উভয়ই। এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।

আলোচনা শেষে বেরিয়ে আসার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, ‘এটা একেবারেই সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ ছিল। এমনিতেই আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক খুব ভাল। এই সৌহার্দ্য যেন বজায় থাকে। সে বিষয়ে কথা হল। আরও নানা বিষয়ে কথা বলেছি। খুব ভাল লাগল, অনেকদিন পর ওনার সঙ্গে খোলামেলাভাবে কথা বলে। ওনাকে বলেছি, আবার যেন আসেন।’

এর পর পরই সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘খুব ভাল করে কথা হয়েছে দু’জনের। এমনিতেই বাংলার প্রতি আমার ভালবাসা বরাবরের। দুই বন্ধুর মধ্যে মাঠে খেলা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমাদের বহু শরণার্থী এখানে এসে আশ্রয় পেয়েছেন। তাঁরা এখন ভালভাবে আছেন। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের এই বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখব।’

পাশাপাশি, টেস্টে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছেলেরা যদিও খুব একটা ভাল খেলতে পারছে না, দেখছি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওরা ভাল খেলবে বলে মনে হয়।’ এরপরই শেখ হাসিনার দিকে এনআরসি সংক্রান্ত প্রশ্ন ছুড়ে দেন সাংবাদিকরা। তবে এ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

সূত্রের খবর মতে, সৌজন্য সাক্ষাতকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপহার হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বর্ণচরী শাড়ি এবং ২ টি শাল দিয়ে সম্মানিত করেন। একই সঙ্গে মমতার জন্য সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া উপহার তার হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ঘণ্টা বাজিয়ে ইডেনে গোলাপী বলের অভিষেক টেস্টের সূচনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কথা ছিল, ইডেন গার্ডেনে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক পিংক টেস্টের উদ্বোধনে আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে আসবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যার ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশ গভীর, অনেকটা বড় বোন-ছোট বোনের মতো। সেই মমতার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে শুক্রবার এসে তার সঙ্গে ম্যাচের উদ্বোধনী ঘণ্টা বাজিয়ে সূচনা দিলেন শেখ হাসিনা। ইতিহাসের সাক্ষী থাকতে, মাঠের মেজাজ অনুযায়ী দুই নেত্রীর পরনের শাড়িতেও ছিল গোলাপির ছোঁয়া।

মমতার সঙ্গে বিশেষ এই বৈঠক শেষে শুক্রবার রাতেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে কলকাতা থেকে ঢাকা ফিরে আসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

আলোচনায় আসতে পারে তিস্তা প্রসঙ্গ : পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুসারে কলকাতার পাঁচতারা হোটেল তাজ বেঙ্গলে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) ভারতীয় বার্তা সংস্থার প্রকাশিত সংবাদের তথ্য মতে, কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনে ভারত-বাংলাদেশ গোলাপী বলের অভিষেক দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে অংশগ্রহণের পর সন্ধ্যায় এই বৈঠকে অংশ নিতে তাজ বেঙ্গলে পৌঁছান শেখ হাসিনা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এ প্রসঙ্গে কলকাতাভিত্তিক বার্তা সংস্থা কলকাতা ২৪x৭ প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন, শুক্রবার ইডেনে ঐতিহাসিক গোলাপি টেস্টের মাঝে সন্ধ্যা নাগাদ শেখ হাসিনা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকেই উঠতে পারে তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়। তবে এ প্রসঙ্গে নির্ভরশীল কোন সূত্রের বরাত উল্লেখ করেনি সংস্থাটি।
ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনে উপস্থিত দর্শকদের অভিনন্দনের জবাব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বার্তা সংস্থা এবিপি আনন্দ প্রকাশিত খবরে জানা যায়, এই গুঞ্জন সত্য হলে, ভারত-বাংলাদেশের ইডেন টেস্ট সেক্ষেত্রে পরিণত হবে ক্রিকেট কূটনীতির কেন্দ্রে।

এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই কলকাতা সফরে তাজ হোটেলে একান্ত বৈঠকে বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এই বৈঠকে তিস্তা পানি বন্টনের মতো বহু আলোচিত চুক্তির বিষয়টি উঠবে।

এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাজ হোটেলে তার বিশেষ বৈঠকের কথা। যদিও আগে এই বৈঠকের বিষয়ে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। পরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকের কথা জানান। তার পরেই ঢাকার কূটনৈতিক মহলে নতুন করে তিস্তা চুক্তি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কলকাতা ২৪x৭

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বশেষ নয়াদিল্লি সফরেও তিস্তা চুক্তি সম্পাদনে না করার প্রশ্নে অনড় ছিলেন মমতা। তিনি জানান, তিস্তার বদলে পশ্চিমবঙ্গের অন্য কোনও নদীর পানি নিক বাংলাদেশ।

সম্প্রতি ভারত সফরকালে ত্রিপুরা সরকারের অনুরোধে ফেনী নদীর পানি দেওয়ার পথে হেঁটেছে বাংলাদেশ। ঢাকার তরফে জানানো হয়, এটি মানবিক পদক্ষেপ, যা ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

তিস্তা নদীর পানি সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত। এই আন্তর্জাতি নদীর পানি বন্টনে তীব্র আপত্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার যুক্তি, গরমের সময় তিস্তার পানি এমনিতেই থাকে না, তখন কোনমতেই বাংলাদেশকে পানি দেওয়া সম্ভব না।

মমতার সঙ্গে বিশেষ এই বৈঠক শেষে শুক্রবার রাতেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে কলকাতা থেকে ঢাকা ফিরে আসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue