মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯, ৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

ধান নয়, ঘাস চাষের দিকে কেন ঝুঁকছে কর্ণফুলীর কৃষকরা!

জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৫ জুন ২০১৯, শনিবার ০৬:২৭ পিএম

ধান নয়, ঘাস চাষের দিকে কেন ঝুঁকছে কর্ণফুলীর কৃষকরা!

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম কর্ণফুলীর বেশির ভাগ কৃষকেরা ধান চাষ করা বাদ দিয়ে নেপিয়ার ঘাস চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। কয়েক বছর ধরে নেপিয়ার ঘাস চাষে কৃষকরা ধানের চেয়ে ঘাসে বেশি লাভবান হচ্ছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

যদিও যে জমিতে ঘাস চাষ হয় সে জমিতে পুনরায় ধান চাষ করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিবিদরা।

এ উপজেলায়  কয়েক শতাধিক গরুর খামারে গবাদিপশু রয়েছে প্রায় ২০/২৫ হাজারের ও অধিক। এসব গবাদি পশুর খামারগুলোতে গো-খাদ্যের চাহিদা নিশ্চিত করতে, উপজেলার অর্ধ শতাধিক একর জমিতে উন্নত জাতের নেপিয়ার ঘাসের চাষাবাদ করছে কৃষক ও খামারিরা।

দেখা যায়, কর্ণফুলীর চরলক্ষ্যা, শিকলবাহা, জুলধা, বড়উঠান ও চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় ঘাসের ক্ষেত রয়েছে প্রচুর। যে খোলা মাঠে ধান চাষ দেখার কথা সেখানে সব ঘাসের বিচরণ। দুর দেখলে মনে হবে ধানের মাঠ। আসলে তার সবই ঘাস। তবে এখনো বড়উঠানের কিছু জমিতে ধান চাষ হয়।

অপরদিকে অনেক ঘাস চাষিদের দাবি, এতে তাদের পরিবারে স্বচ্ছলতা আসছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় চাষাবাদে জামেলা কম ,লাভ ও বেশি হওয়ায় অনেকেই এ ঘাসের চাষ করছেন। বিগত ৬/৭ বছর ধরে শুধু এ ঘাসের চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেকেই।

সূত্রে জানা গেছে, মিল্ক ভিটার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে কর্ণফুলীতে গাভীর খামার স্থাপনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন অনেকেই। দুধের মোটামুটি ভালো দাম পাওয়ার ফলে নতুন নতুন খামার গড়ে তুলেছেন। এ কারণেই উপজেলায় ব্যাপকভাবে শুরু হয় নেপিয়ার ঘাসের চাষ। এছাড়াও ধানের দাম না পাওয়া ও একটা কারন বলে উল্লেখ করেছেন অনেকে।

জানা মতে, এখানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস না থাকলেও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পটিয়ার কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, ‘চলতি বছরেও শুধু কর্ণফুলী  উপজেলাতেই নেপিয়ার ঘাসের চাষ হয়েছে অধিকাংশ জমিতে। এখানকার কৃষকেরা বোরো ধানের জমিতে ঘাস চাষ করেছেন কয়েক বছর ধরে। দিন দিন মিলকারখানা ও নতুন আবাসস্থল তৈরী হওয়াতে যদিও কমে যাচ্ছে কৃষি জমি।’

উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের কৃষক শফিকুল আলম  জানান, ‘প্রয়াত সংসদ বাবু মিয়ার আমলে এজে চৌধুরী কলেজে স্থানীয় কৃষকদের কৃষিকার্ড দেওয়া হয়েছিল। আমরা এরপর হতে কৃষি অফিস থেকে কোন  ধরনের পরামর্শ ও সাহায্য সহযোগিতা পাইনি।

ফলে ১০/১২ বছর আগে থেকেই নিজেরাই নেপিয়ার ঘাসের চারা রোপণ করি এবং ঘাসের ফলন ভালো হচ্ছে দেখে ঘাস চাষ শুরু করি। তারচেয়ে বড় কথা আমাদের এখানে চারপাশে ঘাস চাষ হয়। ধান চাষ করলেও পোকায় নষ্ট হয়ে যায়।’

মো. হারুন নামে উপজেলার আরেক কৃষক জানান, ‘আমরা গরু পালন করি তাই ঘাস চাষ করি ১৫/২০ বছর যাবত। এক বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাসের চারা রোপণ করে বেশ লাভবান হই। এরপর থেকে আস্তে আস্তে ১৫ বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাসের চাষ করি। বছরে নেপিয়ার ঘাসের প্লট থেকে ৭-৮ বার ঘাস কাটা যায়।’

তিনি আরো জানান, ‘এক বিঘা জমিতে খরচ হয় ৬-৭ হাজার টাকা। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় তিনি লাভ করেছেন ৩০-৩৫ হাজার টাকা। এ ঘাসের চাষে অন্যান্য ফসলের তুলনায় সার, কীটনাশক ও মজুরি কম লাগে, উৎপাদন করে লাভও বেশি হয়। তাই ধান বাদ দিয়ে ঘাস চাষের দিকে ঝুকছে স্থানীয় চাষীরা এমন মন্তব্য করেন তিনি।’

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, ‘মায়ের দুধের যেমন কোনো বিকল্প নেই, তেমনি গবাদি প্রাণী পালনে উন্নত জাতের ঘাস চাষের কোনো বিকল্প নেই। ঘাস দুগ্ধ বৃদ্ধিসহ প্রাণীরোগ প্রতিরোধ ও প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। সে সাথে আর্থিক লাভবান তো রয়েছেই।’

এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তা আদর্শ সরকার বলেন, ‘কর্ণফুলীতে যে পরিমাণ গরুর খামার রয়েছে এসব খামারীদের প্রয়োজনে তারা নিজেরাই নেপিয়ার ঘাস চাষ করে। আবার অন্যের কাছে এ ঘাষ বিক্রি করে টাকা আয় করে। মাঝে মধ্যে আমরা তাদের ঘাস চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। প্রকৃতপক্ষে এ ঘাস একটি লাভজনক চাষাবাদ।’

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue