শুক্রবার, ২১ জুন, ২০১৯, ৮ আষাঢ় ১৪২৬

নতুন মোদির সামনে যে ৫ চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৪ মে ২০১৯, শুক্রবার ০৮:৩১ এএম

নতুন মোদির সামনে যে ৫ চ্যালেঞ্জ

নরেন্দ্র মোদি

ঢাকা: ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির মতে টানা দ্বিতীয়বার জয়ী হওয়া মোদিকে পাঁচটি বড় প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হবে।

কর্মসংস্থান

গড়ে প্রতিমাসে লাখ লাখ ভারতীয় চাকরির বাজারে প্রবেশ করলেও গত মেয়াদে সেই তুলনায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ঘাটতি ছিল মোদির।

সম্প্রতি সরকারের ফাঁস হওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৭-১৮ সালে গত ৪৫ বছরের মধ্যে দেশটির বেকারত্ব ছিল সবচেয়ে বেশি, ছয় দশমিক এক শতাংশ।

সরকারি চাকরিতে আবেদনকারীদের সংখ্যা হতবিহ্বল হওয়ার মতো। অতিরিক্ত বেতন-ভাতাসহ একটি নিশ্চিত চাকরির জন্য অতিযোগ্যরাও হন্যে হয়ে ঘুরছেন।

ভারতীয় রেলওয়েতে ৬৩ হাজার পোস্টের বিপরীতে এক কোটি ৯০ লাখ প্রার্থী আবেদন করেছেন। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার মতে, কঠোর শ্রম আইন ও দক্ষতা বাড়াতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগের কারণে খামার নয়, এমন খাতগুলোতে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

কৃষক

সাম্প্রতিক কয়েক বছরে কয়েক হাজার ভারতীয় কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। দেশটির কৃষিখাতে এখন ব্যাপক সংকট চলছে। কাজেই এ খাত থেকে সরে আসা বহু লোক এখন চাকরির পেছনে দৌড়াচ্ছেন।

ভারতীয় জীবন-জীবিকার একটি বড় উৎস হচ্ছে কৃষি এবং এ-সংশ্লিষ্ট খাত। ৭০ শতাংশের বেশি গ্রামীণ পরিবার এ খাতের ওপর নির্ভরশীল।

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এবং মৌসুমি বৃষ্টিও অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় কৃষকরা তাদের শস্যে পানি দিতে পারছেন না।

এতে দূষণকারীদের হাত থেকে রক্ষায় পানির উৎসের কাছে সশস্ত্র প্রহরী ও কারফিউসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে সরকারকে।

এছাড়া উৎপাদিত ফসলের মূল্য কম পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ছেন ভারতীয় কৃষকরা। জাতিসংঘের হিসাব বলছে, সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে ৪০ শতাংশ ফল ও সবজি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়।

দূষণ

গঙ্গা নদী ও অন্যান্য পানির উৎস পরিষ্কার করতে কোটি কোটি ডলার ঢালার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মোদি। শিল্পকারখানা থেকে নিঃসরণ পানিতে মিশে দূষণ বাড়াচ্ছে।

গ্রিনপিস জানিয়েছে, ভারতীয় বাতাসেও রয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ৩০টি শহরের মধ্যে ২২টিই হচ্ছে ভারতে।

শিল্পকারখানার নিঃসরণ, গাড়ির ধোঁয়া ও পোড়া ফসল থেকে তৈরি হওয়া বিষাক্ত পানীয় দূষণকে বাড়িয়ে তুলছে।

ল্যানসেটের তথ্য বলছে, ২০১৭ সালে বিষাক্ত বাতাসের কারণে ভারতে ১২ লাখ ৪০ হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে। এতে আরও হাজার হাজার মানুষ নতুন করে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন।

প্রতি শীতে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিকর রাজধানীতে পরিণত হচ্ছে নয়াদিল্লি। ধোঁয়াশা এতোই বেশি যে তাতে মানুষের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়। বায়ুতে ভাসমান দূষণ মানুষের নিরাপদ জীবন যাপনের সীমা ৩০ গুণ কমিয়ে দেয়।

কিন্তু ভারতের নির্বাচনের প্রচারে দূষণ কখনোই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে স্থান পেয়েছে বলে দেখা যায়নি।

দিল্লিভিত্তিক ক্লাইমেট ট্রেন্ডেসের পরিচালক আরতি খোসা বলেন, যখন বিশ্বব্যাপী পরিবেশ নিয়ে লোকজনের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে, সেখানে ভারতে এমন কোনো ইস্যু আছে বলে বোঝাই যায় না।

কট্টর হিন্দুত্ববাদ

সবাইকে নিয়েই একটির ভাড়ত গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মোদি। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, তার দল ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে শত্রুতা উসকে দিচ্ছে। বিশেষত দেশটির ১৭ কোটি মুসলমান তাদের বিদ্বেষের শিকার হচ্ছেন।

গোমাংস খাওয়া, গোহত্যা ও বাণিজ্যের দায়ে ভারতে মুসলমান ও নিম্নবর্ণের দলিতদের পিটিয়ে হত্যার ঘটনা বাড়ছে।

ভারতের মোঘল শাসনের শিকড় থেকে নামকরণ হওয়া বেশ কয়েকটি শহরের নাম বদলানো হয়েছে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমেও হিন্দুত্ববাদী সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মতাদর্শের প্রতিফলন দেখা গেছে।

নতুন মেয়াদে কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী হিন্দুসভার ব্যাপক চাপ থাকবে প্রধানমন্ত্রীর মোদির ওপর। যার মধ্যে রয়েছে, ১৯৯২ সালে ধ্বংস করে দেয়া বাবরি মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণ শুরু করার উদ্যোগ।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এক মুখপাত্র বলেন, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, আমরা অযোধ্যায় একটি রাম মন্দির নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখবে বলে প্রত্যাশা করি।

পররাষ্ট্র নীতি

পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রেও মোদির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যার মধ্যে একটি হচ্ছে, পরমাণু শক্তিধর চিরবৈরী পাকিস্তান। ১৯৪৭ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির বিরুদ্ধে তিনটি যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছে ভারত।

পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলায় ৪০ ভারতীয় জওয়ান নিহত হওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে দুই প্রতিবেশী এক পশলা আকাশযুদ্ধও করেছিল।

পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বৃহস্পতিবার এক টুইটে বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির জন্য আমি মোদির সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশায় আছি।

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভসহ চীনের অব্যাহত প্রভাব নিয়েও ভারতের মাথাব্যথা রয়েছে। আর বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্প আজাদ কাশ্মীরের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করবে।

হিমালয় অঞ্চলের একটি মালভূমি নিয়ে ২০১৭ সালে চীন-ভারতের মধ্যে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছিল। বেইজিং ও ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র ভুটান ওই মালভূমি নিজেদের বলে দাবি করছে।

এরপর থেকে চীন-ভারত নিজেদের মধ্যের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। রাশিয়া ও ভারতের দড়ি টানাটানির মধ্য দিয়ে হাঁটছে ভারত। এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ এখনো রাশিয়া।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকিকে অগ্রাহ্য করে গত অক্টোবরে রাশিয়ার সঙ্গে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ের চুক্তি করে ভারত।

সোনালীনিউজ/এইচএন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue