রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

নানা আয়োজনে জিয়ার জন্মবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০১৯, রবিবার ০২:৩১ পিএম

নানা আয়োজনে জিয়ার জন্মবার্ষিকী পালিত

ঢাকা : নানা আয়োজনে সারা দেশে দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী পালন করেছে বিএনপি। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন, দলীয় কার্যালয়ে আলোকসজ্জা ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানসহ নানা আয়োজন করে দলটি।

শনিবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দেওয়ার পর আওয়ামী লীগের বিজয় উৎসব নিয়ে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, পরাজয় আড়াল করতেই ক্ষমতাসীনরা বিজয় উৎসব কর্মসূচি পালন করেছে।

তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর তো গণতন্ত্রের পরাজয় হয়েছে, আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় পরাজয় হয়েছে। কারণ তারা (আওয়ামী লীগ) জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই উৎসব হচ্ছে তাদের (আওয়ামী লীগ) যে পরাজয়, তা ঢেকে দেওয়ার জন্য, মানুষের দৃষ্টিটাকে অন্যদিকে সরানোর জন্য।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি আওয়ামী লীগের কোনো শ্রদ্ধা নেই। গণতন্ত্র তারা মুখে বলে কিন্তু বিশ্বাস করে না। অতীতে ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল সমস্ত রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে মানুষের বাক স্বাধীনতাকে হরণ করেছিল।  

দলের প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়ে মানুষের বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমানের জন্মদিনে শপথ নিয়েছি আমরা গণতন্ত্রকে মুক্ত করব, সর্বোপরি যিনি এই স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্রের পতাকা তুলে নিয়ে আছে কারারুদ্ধ দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে, আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গত বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বিএনপির যোগ না দেওয়ায় অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির কোনো টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে কি না- প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই ধরনের কথা সব সময় আসে, আর আপনাদের বিভিন্ন রকম চমৎকার চমৎকার লিখনির মধ্য দিয়ে বিভিন্ন রকমের স্টোরি আসে। আমাদের মধ্যে কোনো টানাপড়েন নেই। ঐক্যফ্রন্ট আছে, ২০ দলীয় জোট আছে।

বিএনপির ভেতরে কোনো টানাপড়েন আছে কি না- প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোনো টানাপড়েন নেই। বিএনপি ইউনাউটেড অ্যাজ ইট ইজ।

সকাল সাড়ে ১০টায় জিয়ার সমাধিতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন ও ফাতিহা পাঠ করেন। পরে তারা মরহুম নেতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।

এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, একেএম আজিজুল হক, কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল হাবিব দুলু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, শিরিন সুলতানা, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, খন্দকার মাশুকুর রহমান, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, দেওয়ান সালাহউদ্দিন, অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দিন, আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, আমিরুল ইসলাম আলিম, হারুনুর রশীদ, রফিকুল ইসলাম বাচ্চু প্রমুখ নেতারা ছিলেন। অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে নবী উল্লাহ নবী, শফিউল বারী বাবু, আবদুুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, মোরতাজুল করীম বাদরু, নুরুল ইসলাম নয়ন, মামুন হাসান, এসএম জাহাঙ্গীর, আফরোজা আব্বাস, হেলেন জেরিন খান, আনোয়ার হোসাইন, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, শাহ নেসারুল হক, শফিকুল ইসলাম মিল্টন, গোলাম মওলা শাহিন, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান প্রমুখ নেতা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি ছাড়াও মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মহিলা দল, ড্যাব, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ, শ্রমিক দল, ছাত্রদল, ওলামা দল, মুক্তিযোদ্ধা দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আলাদা আলাদাভাবে জিয়ার সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।

শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি ছাড়াও সকাল ১১টা থেকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প’ এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষজনকে স্বাস্থ্যসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়। দলের চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এই ক্যাম্প পরিচালনা করে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue