শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ে গুজব ছড়াবেন না

জুবায়ের আহমেদ | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার ০৪:০৭ পিএম

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ে গুজব ছড়াবেন না

ঢাকা : বাংলাদেশে খুব সহজেই গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের প্রভাবে তা এখন মহামারী আকার ধারণ করলেও বাংলাদেশে ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার আগে থেকেই গুজবের প্রচলন ছিল। গ্রামগঞ্জে কিংবা শহরে নতুন কোনো ব্রিজ নির্মাণ হলেই গুজব ছড়িয়ে পড়ত ব্রিজে শিশুদের মাথা লাগবে, সবাই যেন সাবধান থাকে। সাধারণ মানুষ সাবধান হতো, তবে বাড়ির আশপাশে কিংবা এলাকায় অপরিচিত কোনো মানুষ দেখলেই ছেলেধরা বলে গণপিটুনির ঘটনা বাংলাদেশে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে, যা এখন অসহ্যনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে, এমন গুজবের বলি হয়েছে বহু নিরীহ মানুষ। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতীয় পেঁয়াজ সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে ২০-২৫ টাকা কেজি পেঁয়াজের দাম ৩০০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে, যা অবিশ্বাস্য। অথচ ভারত কিংবা অন্য কোনো দেশেই পেঁয়াজের সংকট দেখা দেয়নি। এমনকি বাংলাদেশেও পেঁয়াজের সংকট দেখা যায়নি। তার বড় প্রমাণ হলো বিগত কয়েক মাসে দেশের মানুষ যত পেঁয়াজ রান্নায় ব্যবহার করেছে, তত পেঁয়াজই মুনাফালোভীদের গোডাউনে নষ্ট হয়েছে এবং ট্রাকযোগে দেশব্যাপী নষ্ট হওয়া পেঁয়াজ নদীতে ফেলার ঘটনাই তার বড় প্রমাণ।

পেঁয়াজ সংকটের গুজব এবং দাম বৃদ্ধির রেশ কাটতে না কাটতেই লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব ছড়িয়ে দেয় এক শ্রেণির লোক। অথচ বিগত ৫৭ বছরের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বেশি লবণ উৎপাদন হয়েছে বাংলাদেশে, যেখানে লবণের দাম আরো কমার কথা, সেখানে গুজব ছড়িয়ে ফায়দা লুটে নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। সাধারণ নিরীহ মানুষজনও গুজবে কান দিয়ে স্বাভাবিক বাজার মূল্যের চেয়েও বেশি দামে লবণ কিনে রাখছে ভবিষ্যতের চিন্তায়। যদিও লবণের দাম বৃদ্ধির গুজবটি সরকার ও দায়িত্বশীল নাগরিকগণ দ্রুতই গুজব হিসেবে প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছে, যার কারণে লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব ধোপে টেকেনি।

প্রত্যেকটি বিষয়েই গুজব মূলত স্বার্থান্বেষী মহলই ছড়ায়। ফেসবুক ও সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কারণে যা দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। পেঁয়াজ, লবণ, চালের দাম নিয়েও তা হয়েছে। যদিও পেঁয়াজের মতো সাধারণ ও কম দামি পণ্যের দামও সরকার দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি, যা মূলত সরকারের ব্যর্থতা। পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে সুবিধাভোগকারী ব্যক্তিরা আরো হিংস্র হয়ে গেছে, যার কারণে লবণ, চালের দাম বাড়ার গুজব সহজেই ছড়িয়ে দিতে পেরেছে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো দিনভিত্তিক কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে এবং চাকরি করে মাস শেষে সামান্য বেতনে সংসার চালায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির কারণে এসব মানুষজনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্বার্থান্বেষী মহল সব সময়ই তাদের স্বার্থ আদায়ে ব্যস্ত, কার ক্ষতি হলো বা ক্ষতি হবে, সেসবে তাদের খেয়াল নেই। মানুষ গুজব লুফে নেয়, এই সুযোগটা স্বার্থান্বেষী মহল ব্যবহার করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বাড়িয়ে মাত্র এক সপ্তাহ বিদ্যমান রাখতে পারলেই তাদের উদ্দেশ্য সফল। মনে হচ্ছে, একের পর এক পণ্যের দাম বাড়িয়ে সুবিধা ভোগ করতেই মাঠে নেমেছে তারা।

কাজেই এ বিষয়ে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নাগরিকদের সঠিক সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব পালন করা জরুরি। কেউ একজন ছড়িয়ে দিলেই সে গুজবের সত্যতা যাচাই না করে নিজেরাও প্রচারে নেমে পড়া কাম্য নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য বৃদ্ধি পেলে তা সরকারিভাবে কিংবা পণ্যের গায়েই মূল্য লেখা থাকবে, সেসব যাচাই না করে বাড়তি দামে পণ্য খরিদ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। এছাড়া এলাকাভিত্তিক যারা প্রথমে গুজব ছড়িয়ে থাকে কিংবা ফেসবুকে যারা গুজব ছড়ায়, তাদেরকে নিবৃত্ত করাও জরুরি। অন্যথায় গুজবের বলি হয়ে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর মতো দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেবে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। এক্ষেত্রে সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও নাগরিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

লেখক : শিক্ষার্থী, ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম


*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব ভাবনার প্রতিফলন। সোনালীনিউজ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে লেখকের এই মতামতের অমিল থাকাটা স্বাভাবিক। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য সোনালীনিউজ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না। এর দায় সম্পূর্ণই লেখকের।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue