বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬

নুসরাত ঘটনার শেষ না হতেই পরীক্ষার হলে ছাত্রীকে উত্যক্ত করল শিক্ষক

জেলা প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার ০৪:২৪ পিএম

নুসরাত ঘটনার শেষ না হতেই পরীক্ষার হলে ছাত্রীকে উত্যক্ত করল শিক্ষক

বগুড়া: নুসরাতের গায়ের আগুনের গন্ধ এখনো মিশে আছে সবার মাঝে। পরীক্ষার হলে শিক্ষকের দ্বারা উত্ত্যক্ত হওয়ায় প্রতিবাদ করেছিলো। আর তাতেই আগুনে পুড়ে মৃত্যু বরণ করতে হল তাকে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও পরীক্ষার হলে শিক্ষক দ্বারা উত্ত্যক্ত হলেন দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী। ওই শিক্ষকের নাম খায়রুজ্জামান বাদল। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার কামারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। 

দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী জানান, তাদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার সময় বোর্ডের ওপর খাতা রেখে লিখতে সে অভ্যস্ত। বুধবার (৩ জুলাই) পরীক্ষার সময় সহকারী শিক্ষক খায়রুজ্জামান বাদল তার কাছ থেকে লেখার বোর্ড কেড়ে নেন। পরে বোর্ডে অনেকগুলো থুতু দেন এবং তার ওপর খাতা রেখে লিখতে বলেন। এসময় শিক্ষককে এমনটা না করার অনুরোধ করেও ফল পাওয়া যায়নি। পরে ওই শিক্ষক হাতে থুতু মেখে গায়ে মেখে দেন বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।

এই ঘটনা দেখে মনিরা বেগম নামে এক শিক্ষিকা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। ওই ছাত্রীর মা জানান, দাদার বয়সী শিক্ষক বাদল অনেক বড় অপরাধ করেছেন। তবু তাদের পা ধরে ক্ষমা চাওয়ায় ও ভবিষ্যতে এমন অপরাধ না করার অঙ্গীকার করায় তাকে ক্ষমা করা হয়েছে। বিষয়টি মীমাংসা করে নিতে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও তাকে ফোন করেছিলেন বলে জানান তিনি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, শিক্ষক খায়রুজ্জামান বাদলের বিরুদ্ধে এর আগেও ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিনের কারণে বার বার বেঁচে যাচ্ছেন। তারা বলেন, ছাত্রীর পরিবার প্রথমে বিচার চাইলেও পরে প্রভাবশালী কোনও মহলের চাপে ঘটনাটি মীমাংসা করতে তারা বাধ্য হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক খায়রুজ্জামান বাদল জানান, তিনি শুধু ছাত্রীর বোর্ডে থুতু দেওয়ার অভিনয় করেছেন। আর তার মাথায় হাত দিয়ে ভালোভাবে লেখাপড়ার করার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া ওই ছাত্রীর সঙ্গে একটু মশকরা (রসিকতা) করেছেন মাত্র।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বিষয়ে বিচার করে আপস করা হয়েছে। তবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এমন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। তবে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন, সে কারণে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সোনালীনিউজ/এমএএইচ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue