বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯, ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

নেইমারকে বিশ্বসেরা বানানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০১৭, বুধবার ০৮:৪১ পিএম

নেইমারকে বিশ্বসেরা বানানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন মেসি

ঢাকা: বার্সেলোনায় থাকলে লিওনেল মেসির ছায়া হয়ে থাকতে হতো। কিন্তু ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার হতে চান বিশ্বসেরা। জিততে চান ব্যালন ডি’অর। কিন্তু মেসির ছায়া হয়ে থেকে কি সম্ভব? ব্রাজিলিয়ান সতীর্থ দানি আলভেস হয়তো নেইমারকে বুঝিয়েছিলেন, তুমি যতই ভালো খেলো না কেন বার্সায় থেকে বিশ্বসেরা হওয়া যাবে না! শেষমেষ পিএসজিতে আলভেজের সতীর্থ হয়েছেন নেইমার। অভিষেকেই গেঁ গেঁ’র বিপক্ষে নিজে একটি গোল করেছেন। অপরটি এডিনসন কাভানিকে দিয়ে করিয়েছেন।

২২২ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে পিএসজি নেইমারকে কিনে যে ভুল করেনি সেটি প্রথম ম্যাচেই তিনি প্রমাণ করেছেন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং লিওনেল মেসির চেয়ে যে নেইমার কোনও অংশে কম নয় সেটি বোঝাতেই নেইমার নতুন ক্লাবে যোগ দিয়েছেন সেটি না বললেও চলে। তবে নেইমারকে আটকাতে সবরকম চেষ্টা করেছে বার্সা। স্বয়ং মেসি-সুয়ারেজ গিয়ে একান্তে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু নেইমার মেসির ছায়া থেকে বেরিয়ে চলে গেছেন পিএসজিতে। অথচ আর্জেন্টাইন তারকা সবকিছু তুলে দিতে চেয়েছিলেন নেইমারের হাতে। রাজ্য বুঝিয়ে দিয়ে পার্শ্বনায়ক হিসেবে থাকতে চেয়েছিলেন মেসি।

নেইমারের বার্সা ছাড়ার অন্যতম কারণ ব্যালন ডি’অর। ব্রাজিলিয়ান তারকা বুঝে গিয়েছিলেন, মেসির সঙ্গে থাকলে তাঁর এই পুরস্কারটি পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অথচ এই ব্যালন ডি’অর নেইমারকে এনে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন মেসি। তাতেও লাভ হয়নি। বন্ধুত্বের বন্ধন ছিন্ন করে নেইমার পাড়ি জমিয়েছেন পিএসজিতে। সেখানে আলভেজ, কাভানিদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন নতুন সংসার।

নেইমার চলে যাওয়ায় বিরাট ধাক্কা খেয়েছে বার্সা। কে জানে, ব্রাজিলিয়ান তারকা থাকলে হয়তো ন্যূ ক্যাম্পে রিয়ালের কাছে ওভাবে হারতে হতো না। আরেকজন নেইমারের খুঁজে নিতে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে বার্সা কর্তাব্যক্তিদের। এই যখন অবস্থা তখন এএস স্পোর্টস নতুন বোমা ফাটাল। মেসি নাকি শেষ চেষ্টা হিসেবে নেইমারকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় বানানোর প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। প্রাক-মৌসুমে জুভেন্টাস ম্যাচের আগে নেইমারের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন মেসি-সুয়ারেজ। সেখানেই নেইমারকে থেকে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন মেসি, ‘কী চাস তুই? ব্যালন ডি’অর চাস? আমি তোকে ব্যালন এনে দেব।’

পরের দিনই মেসি তাঁর কথা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। সেদিন তাঁর প্রতি মুহূর্তের চেষ্টা ছিল নেইমারের সেরাটা বের করে আনার। ম্যাচের প্রথম ফ্রি কিকও নেইমারকে মারতে দিয়েছেন। সাধারণত মাঠে দুজন দুই প্রান্তে খেললেও সেদিন নেইমারের অনেক কাছে খেলার চেষ্টা করেছেন মেসি। তাঁর প্রতিটি মুভমেন্ট ছিল নেইমারকে কেন্দ্র করে। সেটা কাজেও লেগেছিল। সেদিন বার্সার জয়ের দুটি গোলই ছিল নেইমারের। সবচেয়ে বড় কথা, সেদিন আসলেই বিশ্বসেরা খেলোয়াড় মনে হয়েছিল নেইমারকে। কিন্তু মেসি, সুয়ারেজরা তখনও জানতেন না নেইমার এর আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন দল বদলের। চুক্তি সম্পাদনও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাই মেসির এমন ভালোবাসার ডাকও উপেক্ষা করে চলে গেছেন নেইমার। তাঁকে যে বিশ্বসেরা হতেই হবে!

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আরআইবি/জেডআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue