শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

নেতৃত্ব পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার ০৭:০০ পিএম

নেতৃত্ব পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ

ঢাকা : আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ ও জাতীয় শ্রমিক লীগের কাউন্সিল সমাগত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চলমান শুদ্ধি অভিযানের প্রেক্ষাপটে কতিপয় নেতার অপকর্মের কারণে সমালোচিত এ চারটি সংগঠন কেমন চলছে, কারা আসছেন নেতৃত্বে, কী ভাবছেন নেতারা এসব নিয়ে পৃথক প্রতিবেদন তৈরি করেছেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি।

এক নজরে জেনে নেয়া যাক চারটি সংগঠনে কারা আসছেন নেতৃত্বে-

দুর্বৃত্তায়ন থেকে মুক্তির পথে যুবলীগ : আওয়ামী যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস আগামী ২৩ নভেম্বর। ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠার পর এরই মধ্যে ৪৭ বছর পার হওয়া সংগঠনটি আগামী মাসে ৪৮ বছরে পা দেবে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হলে ১৬টি জাতীয় কংগ্রেস হওয়ার কথা। কিন্তু সময়মতো তা হয়নি। এবার নভেম্বরে ৭ বছর পর কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাও আবার নেতাদের দুর্বৃত্তায়নের কারণে সংগঠনটির ভাবমূর্তি যখন একেবারেই তলানিতে।

কেন্দ্র ও মহানগরের শীর্ষ নেতাসহ কিছু প্রভাবশালী নেতার নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুরু করেছেন শুদ্ধি অভিযান। এরই মধ্যে কয়েকজন গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার হয়েছেন। অব্যাহতি পেয়েছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন শেখ হাসিনা।

ক্যাসিনো, জুয়া, টেন্ডারবাজি,চাঁদাবাজি, খুন-খারাবি, মাস্তানি সব ধরনের অপকর্মে সম্পৃক্ত যুবলীগ নেতারা। গত ১৪ সেপ্টেম্বর যুবলীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শুরু হয় অভিযান। বেরিয়ে আসে যুবলীগ নেতাদের অপকর্মের ফিরিস্তি।

নাম আসে যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াসহ আরো কয়েকজনের। গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার হন সম্রাট, আরমান, খালেদ, জি কে শামীমসহ বেশ কয়েকজন। পলাতক থাকলেও কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত হন সাঈদ।

এদের সব অপকর্মের প্রশ্রয়দাতাসহ টাকার বিনিময়ে কেন্দ্রীয়, মহানগরসহ সারাদেশের জেলা এমনকি উপজেলা ও পৌর ইউনিটগুলোতে কমিটি দেয়ার অভিযোগ আসে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে। আর তার ক্যাশিয়ার হিসেবে এসব লেনদেন করতেন দপ্তরি থেকে দপ্তর সম্পাদক হওয়া কাজী আনিসুর রহমান আনিস। আনিস বহিষ্কার হলেও রবিবার রাতে ওমর ফারুককে দেয়া হয় অব্যাহতি। গণভবনে নিষিদ্ধ আরো কয়েকজন। নজরদারিতে অনেকেই। গ্রেপ্তার হতে পারেন অভিযুক্ত সবাই। ছাড় পাবে না কেউ-ই। বিরক্ত, ক্ষুব্ধ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, যুবলীগের আগামী নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন স্বয়ং শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে সম্ভাব্য নেতৃত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন তিনি। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন দক্ষ ও ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের মধ্যে (যাদের ইমেজ স্বচ্ছ) একজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হতে পারে। আগামী নেতৃত্বের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ বছর।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ছোট ছেলে ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে চেয়ারম্যান করা হতে পারে।

এ ছাড়া দুটি শীর্ষ পদের জন্য আরো তালিকায় আছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা জাতীয় সংসদের হুইপ নূরে আলম চৌধুরী লিটন, শেখ ফজলে নাঈম, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেলাল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহী, অর্থ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হালদার, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হোসেন তুহিন, প্রচার সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু, ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের মধ্যে বাহাদুর ব্যাপারি, অজয় কর খোকন, ইসহাক আলী খান পান্না, লিয়াকত শিকদার, নজরুল ইসলাম বাবু।

এ ছাড়া তালিকায় আরো আছেন বেশ কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতারা অপকর্মে সম্পৃক্ত : আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকার উদ্দেশ্যে জন্ম নেয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

’৯৪ সালের ২৭ জুলাই বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের সমন্বয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। কিন্তু বিগত দুই যুগে আর্তমানবতার বদলে নেতারা কাজ করছেন নিজের উন্নয়নে।

আওয়ামী লীগের দিবসভিত্তিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া ছাড়া তেমন কোনো সাংগঠনিক কাজ তাদের নেই। তবে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন অনেক নেতাই।

অভিযোগ উঠেছে, সাংগঠনিকভাবে নিষ্ক্রিয় হলেও অপকর্মে সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতারা।

সারাদেশে কিছু নেতার টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, খুনখারাবির কারণে আলোচনায় ছিল স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

সম্প্রতি শেখ হাসিনার চলমান শুদ্ধি অভিযানে ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে সংগঠনের সভাপতি এডভোকেট মোল্লা আবু কাওছারসহ অন্তত অর্ধডজন কেন্দ্রীয় নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ মূলত পরিবহন ব্যবসায়ী।

২০০৯ সালে একটি রুটে তার ‘বিহঙ্গ’ পরিবহনের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে পাঁচটি রুটে ২৪০টি বাস চলছে। ক্যাসিনো, মাদক সিন্ডিকেট, পাবলিক হেলথ, শিক্ষা ভবনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণেরও অভিযোগ রয়েছে দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিটুর বিরুদ্ধে।

সূত্রমতে, ক্যাসিনো ছাড়াও দখল বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ, ইয়াবার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডারবাজিসহ নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে গত ১০ বছরে টাকার কুমির হয়েছেন অনেকেই।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের কোনো সহযোগী সংগঠনেই অভিযুক্তদের ঠাঁই হবে না। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্সে রয়েছেন। তিনি কাউকে ছাড় দেবেন না। কাউন্সিলে যোগ্য, তরুণ, ক্লিন ইমেজের অধিকারীরা প্রাধান্য পাবে।

বাদ পড়লেন কাওছার-পঙ্কজ : অপকর্মের গোড়া উপড়ে ফেলতে এরই মধ্যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগে। এরই মধ্যে সংগঠনের সভাপতি মোল্লা আবু কাওছার ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

গঠন করা হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি। এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নির্মল গুহ। আর সদস্য সচিব হয়েছেন জেষ্ঠ্য যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্ছু। আগামী ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় সম্মেলন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন তারা।

সম্প্রতি রাজধানীর ক্যাসিনো কারবারে ওয়ার্ন্ডার্স ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিরোনামে আসেন মোল্লা কাওছার। এ জন্যই তাকে আর স্বেচ্ছাসেবক লীগে না রাখার সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আসায় তাকেও সরিয়ে দেন আওয়ামী লীগ প্রধান।

এ ব্যাপারে মোল্লা মো. আবু কাওছার বলেন, আমি শেখ হাসিনার কর্মী। তিনি যা বলবেন তাই করব। তবে প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ত্যাগী, কর্মঠদের মূল্যায়ণ করবেন। ক্যাসিনোকাণ্ডে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি রাজনীতিবিদ। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসবে। তবে তা অবশ্যই তদন্তের দাবি রাখে।

আলোচনায় যারা : সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে সদ্য দায়িত্ব পাওয়া নির্মল রঞ্জন গুহ, সহসভাপতি মঈন উদ্দীন মঈন ও সহসভাপতি আফজালুর রহমান বাবু। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সদস্য সচিব গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল, শেখ সোহেল রানা টিপু ও সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, দপ্তর সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ টুটুল, পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক আবুল ফজল রাজু, সহপাঠাগার সম্পাদক এম এ হান্নান।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৬ নভেম্বর শনিবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৃতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১১ জুলাই সংগঠনটির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে মোল্লা কাওছার সভাপতি এবং পঙ্কজ দেবনাথ সাধারণ সম্পাদক হন।
কৃষকদের পাশে নেই কৃষক লীগ

একশ এগারো সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাবেক জাকসু ভিপি মোতাহার হোসেন মোল্লা একজন ঠিকাদার। সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার শামসুল হক রেজা আইনজীবী। ১৬ জন সহসভাপতির মধ্যে সাতজন ও সাত সাংগঠনিক সম্পাদকের চারজনই ব্যবসায়ী।

এ ছাড়া ১৫ জন আইনজীবী। রয়েছেন সাংবাদিক ও শিক্ষক। শুধু নেই কোনো কৃষক। অথচ কৃষক সমাজকে সংগঠিত করা, তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগের এই সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের জন্ম।

শুধু কেন্দ্রীয় কমিটিই নয়, ঢাকা মহানগরের দুই ইউনিট মিলে কৃষক লীগের নেতাকর্মী রয়েছেন প্রায় ৮ হাজার। যাদের কেউই কৃষক নন। কৃষক লীগে কৃষক না থাকায় একাধিকবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

গত বছর কৃষক লীগের এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ঢাকায় বসে কৃষক! কৃষক লীগের ধানমন্ডি, গুলশান, কুয়েত, কাতার, নিউইয়র্ক শাখার কী দরকার? এমনকি কৃষকের আন্দোলনেও পাশে নেই কৃষক লীগ। কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণে কোনো কর্মসূচি নিতে দেখা যায় না তাদের।

সর্বশেষ ধানের দাম না পেয়ে কৃষকদের প্রতিবাদে যখন সারাদেশে আলোচনা তৈরি হয়, তখনো চুপ ছিলেন তারা। এ নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ মূল দল আওয়ামী লীগেই।

এ ব্যাপারে সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা বলেন, প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় কমিটি রয়েছে। অনেক এলাকায় ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের কমিটি আছে। আমরা কৃষকের পাশে নেই এটা ঠিক নয়। আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠেছি।

তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়তায় পরিকল্পনা নেয়া, কৃষি উপকরণ, বয়স্ক ভাতাসহ নানান সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহায়তা ও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরে কৃষক লীগ। তবে খুব বেশি দাবি তুলতে হয় না। তার আগেই বেশির ভাগ প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়ন করে ফেলেন।

এদিকে ঢাকায় কেন্দ্রীয় কমিটির পর মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ দুটি কমিটি আছে কৃষক লীগের। একেকটি কমিটি ৮১ সদস্যবিশিষ্ট। প্রতিটি কমিটির থানা এবং ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে।

সূত্রমতে, মূল দলে ঠাঁই না পাওয়াদের সন্তুষ্ট রাখতে সহযোগী সংগঠনগুলোতে পদ দেয়া হয়। আর এসব পদ ব্যবহার করে অনেকে নানা রকম স্বার্থ হাসিল, ধান্ধা, তদবির করে থাকেন বলেও অভিযোগ আছে। উত্তরের মতো কৃষক লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনই ব্যবসায়ী।

দক্ষিণের সভাপতি আবদুস সালাম বাবুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে খোদ স্থানীয় আওয়ামী লীগেই। দনিয়ার বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতির সুবাদে অগাধ টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাও তার কারণে কোণঠাসা।

এ ছাড়া গত ২০ সেপ্টেম্বর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের চেয়ারম্যান শফিকুল আলমকে ক্লাব থেকে অস্ত্র-গুলি, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরপর তাকে কৃষক লীগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

নতুন নেতৃত্বে কৃষকলীগ : সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৯ জুলাই কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে। এরপর প্রায় চার বছর ধরে সম্মেলন না হওয়ায় বর্তমান কমিটি দিয়েই চলছে কৃষক লীগের কার্যক্রম। আগামী ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় সংগঠনের কাউন্সিলকে ঘিরে চলছে প্রস্তুতি।

ইতোমধ্যে ১৫ সাংগঠনিক জেলায় নতুন করে কমিটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোতাহার হোসেন মোল্লা।

তিনি জানান, কাউন্সিলে নতুনত্ব থাকবে। তরুণ, দক্ষ, যোগ্যরাই ঠাঁই পাবেন। প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটিই চূড়ান্ত।

আলোচনায় যারা : সভাপতি পদে মোতাহার হোসেন মোল্লা, শামসুল হক রেজা, বর্তমান সহসভাপতি ওমর ফারুক, বদিউজ্জামান বাদশা, হারুন-অর-রশিদ হাওলাদার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সমীর চন্দ্র, সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ^নাথ সরকার বিটু, সাখাওয়াত হোসেন সুইটের নাম আলোচনায় রয়েছে।

শ্রমিক লীগ নেতাদের চাঁদায় নজর : জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন ৯ নভেম্বর। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদকে সভাপতি ও শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়।

কেন্দ্রীয় কমিটি ৩৫ সদস্যের হলেও ৭ বছরে গঠন হয়নি জাতীয় কমিটি। আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগ বৃহৎ সংগঠন। ৭৮টি জেলা ইউনিট ছাড়াও এর রয়েছে অনেক শাখা সংগঠন। যার সঠিক হিসাব দিতে পারেননি শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক।

জানা গেছে, জেলা ইউনিট ছাড়াও শ্রমিক লীগের বেসিক ইউনিয়ন রয়েছে অসংখ্য। রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগ, বিএডিসি, ওয়াসা সিবিএ, ননসিবিএ, বিসিআইসি, ঘাট শ্রমিক লীগ, সিটি করপোরেশন, গার্মেন্ট, চা-শ্রমিক লীগ, রিকশা-ভ্যান, সচিবালয়, মোটর-শ্রমিক, বাস পরিবহন, ট্রাক-লরি, ভ‚মিসহ আরো বেশকিছু শ্রমিক সংগঠন। এসব সংগঠনের ওপর তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই কেন্দ্রের। সংগঠনের ওয়েবসাইটে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছাড়া হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে। যে যার মতো সংগঠন পরিচালনা করছে। অন্য নেতারাও বিভক্ত। কেন্দ্রীয় কমিটির নিয়মিত বৈঠক হয় না। এসব ইউনিট ও বেসিক ইউনিয়ন নেতারা চলেন ইচ্ছামতোই। অনেকেই জড়িয়ে পড়ছেন নানা অপকর্মে। পকেট ভারি করতে ব্যস্ত। সাধারণ শ্রমিকদের স্বার্থে তাদের কোনো কর্মকাণ্ড চোখে পড়ে না।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক সংগঠনটির কেন্দ্রীয় একজন নেতা জানান, দুই নেতার মধ্যে সাংগঠনিক বিরোধ থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা এক। তা নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থে। ৭ বছরে কোনো জেলায় সম্মেলন আয়োজন হয়নি।

প্রেসের মাধ্যমে কমিটি হয়েছে, আবার ভেঙে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ সত্ত্বেও জাতীয় কমিটি হয়নি। শ্রমিকদের স্বার্থে কোনো পদক্ষেপ নেননি। জাতীয় শ্রমিক লীগ অনেক বৃহৎ সংগঠন, অসংখ্য কর্মী আছে। কিন্তু কোনো শৃঙ্খলা নেই। যে যার মতো করে চলছে।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৭ বছরে আমরা অনেক সফল। সব ইউনিট কমিটি করেছি। আমাদের মধ্যে শৃঙ্খলা আছে। কেউ অন্যায় করলে তার শাস্তি হয়েছে। ইউনিট কতগুলো, এমন প্রশ্নের জবাবে কাগজ না দেখে বলতে পারেননি তিনি। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলন হচ্ছে না বলেও জানান এই নেতা।

এবারও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান দুই নেতা পদপত্যাশী বলে জানা গেছে। এর বাইরেও যারা আলোচনায় আছেন তারা হলেন সংসদ সদস্য শাহজাহান খান, ইস্রাফিল আলম, কমিটির বর্তমান সহসভাপতি হাবিবুর রহমান আকন, আরেক নেতা আমিনুল ইসলাম ফারুক, শামসুল আলম মিল্কীসহ বেশ কয়েকজন।

সোনালীনিউজ/এমটিআই