বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

নেমেছে জনস্রোত, মহাবিপদের মুখোমুখি ঢাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২০, শনিবার ০৮:৪৪ পিএম

নেমেছে জনস্রোত, মহাবিপদের মুখোমুখি ঢাকাবাসী

ঢাকা: করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সারা দেশে চলছে লকডাউন। সরকারি ছুটির পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল। কিন্তু উল্টো চিত্র দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে।

এখানে শনিবার (৪ মার্চ) দুপুরের পর থেকে কর্মমুখী মানুষের ঢল নামে। করোনা আতঙ্ক মাথায় নিয়েই সবাই ছুটছেন রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি ছুটি বাড়িয়ে ৪ তারিখ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত করা হলেও গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কারখানার শ্রমিকের জন্য ছুটি বাড়েনি।

এ জন্য রোববার কর্মস্থলে যোগ দিতে দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ করোনা আতঙ্ক নিয়েই কর্মস্থলে ছুটছেন। তাছাড়া নিম্ন আয়ের এ সব মানুষের বাড়িতে বসে থাকারও উপায় নেই। তাই তো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কর্মের উদ্দেশে বেরিয়েছেন বলে কেউ কেউ জানান।

গোয়ালন্দ বাজার এলাকার বাসিন্দা ফরিদ হোসেন জানান, তিনি ঢাকায় একটি ছোট কারখানায় কাজ করেন। সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পরপর তিনি বাড়িতে চলে যান। এখন কারখানার মালিক ফোন করে জানিয়ে দিয়েছেন ৫ তারিখ কাজে যোগ না দিলে চাকরি থাকবে না। তাইতো স্ত্রী-সন্তানদের বাধা ও করোনাভাইরাসের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই অনেক ধকল সামলে ঢাকায় যেতে হচ্ছে।

ফরিদপুরের মধুখালী থেকে আসা গার্মেন্টস কর্মী রিনা খাতুন, স্মৃতি আক্তার, সুইটি আক্তার, বুলবুল হোসেন, মোস্তফাসহ অনেকেই জানান, আমরা বড়ই অভাগা। তাই তো সরকার ছুটি বাড়ালেও আমাদের বাড়েনি। সময় মতো কাজে যোগ না দিলে চাকরি বাঁচানো কঠিন।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, সরকারি আদেশে সারা দেশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নৌপথে শুধু পণ্যদ্রব্য পারাপারের জন্য সীমিত আকারে ফেরি চালু রাখা হয়েছে। যানবাহন কমে যাওয়ায় এ নৌরুটের ১৬টি ফেরির মধ্যে ১১টি বসিয়ে রেখে আমরা মাত্র ৫টি ফেরি চালু রেখেছি।

কিন্তু শনিবার দুপুর থেকে মানুষের চাপে আমরা ঠিকমতো পণ্যবাহী যানবাহন পারাপার করতে পারছি না। প্রতিটি ফেরিতেই মানুষের উপচে পড়া ভিড়। এরা সবাই বিভিন্ন গার্মেন্টস ও অন্যান্য ছোট-খাটো কারখানা ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মী। করোনা ঝুঁকি থাকলেও ফেরিতে এদের এভাবে পারাপার ঠেকানো আসলে সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাংবাদিক ইকবাল আহমদ সরকার, গাজীপুর থেকে জানান, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক দলে দলে ফিরছেন গাজীপুরে। তারা ট্রাক- পিকআপ ভ্যান এমনকি কাভার্ড ভ্যানে চড়ে এক সঙ্গে এবং ছোট ছোট হালকা যানবাহনে আসছেন দলে দলে। ৫ই এপ্রিল থেকে গাজীপুরের অধিকাংশ পোশাক কারখানা খোলার কথা রয়েছে। আর কর্মস্থলে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে করোনার ঝুঁকি মাথায় নেয়ার পাশাপাশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ পথে গাদাগাদি করে, দাঁড়িয়ে থেকে তারা ফিরছেন গাজীপুরে। শনিবার সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কর্মজীবী মানুষের স্রোত দেখা গেছে। একইভাবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে উত্তর এলাকার মানুষও এসেছেন দলে দলে। শ্রমিকরা বলছেন, স্বল্পসংখ্যক পোশাক কারখানা শনিবার থেকে খোলা হয়েছে। তবে অধিকাংশই খোলা রোববার থেকে। সেজন্যই তারা উপায়ান্তর না পেয়ে ফিরছেন কষ্ট করে, অতিরিক্ত ভাড়ায়।

শ্রমিকরা বলছেন, করোনাভাইরাস এর ঝুঁকি যেমন তাদের রয়েছে তেমনি তাদের রয়েছে চাকরি হারানোর ঝুঁকি। কেননা, যেদিন ছুটি দেয়া হয়েছে সেদিনই কারখানা কর্তৃপক্ষ বলে দিয়েছে যথাসময়ে কারখানায় হাজির হতে। নির্ধারিত সময়ে হাজির না হতে পারলে চাকরি থাকবে না।

সোনালীনিউজ/এইচএন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue