সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

পঞ্চাশ সালে নগরে বাস করবে ৫০ শতাংশ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৪ মে ২০১৯, শুক্রবার ০৩:১৪ পিএম

পঞ্চাশ সালে নগরে বাস করবে ৫০ শতাংশ মানুষ

ঢাকা : বছরে ১২ শতাংশ হারে বাড়ছে নগরীর জনসংখ্যা। সে হিসেবে ২০৫০ সালে ১০ কোটি মানুষ বাস করবেন নগরে। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে গ্রামের দরিদ্র মানুষকে সেবা দিতে পারছে না শহরগুলো।

এদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে গিয়ে উল্টো দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে গ্রাম থেকে নগরে আসা এসব মানুষ। ব্র্যাক ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) যৌথ গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

কাজের খোঁজে কিংবা উন্নত জীবনের আশায় প্রতিদিনই শহরমুখী হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভিটেমাটি হারিয়েও অনেক ছুটে এসেছে নগরে- যাদের অধিকাংশের ঠাঁই হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বস্তিতে। প্রতি বছর যে হারে মানুষ আসছে তাতে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ শহরাঞ্চলে বসবাস করবেন। বর্তমানে দুই কোটি মানুষ অস্থায়ীভাবে শহরে বাস করছেন। এছাড়া দেশের শতকরা ৫০ জন মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবা লাভের সুযোগ নেই।

পিপিআরসির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আবদুল ওয়াজেদ বলেন, শহরের আশপাশে শিল্প উন্নয়ন হচ্ছে। উৎপাদনমুখী শিল্প, সেবাখাতসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্পোন্নয়ন বাড়ছে। গ্রামের মানুষ সেখানে চাকরি পাচ্ছে। মূলত চাকরির লোভে মানুষ শহরে আসছে। তারা ভাবে শহরে গেলে একটা ব্যবস্থা নিশ্চয়ই হবে। শহরে আসা এসব মানুষের জন্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারছে না সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো। ফলে আয় বাড়লেও স্বাস্থ্যসেবা, বাসস্থান ও মৌলিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে দরিদ্রতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না এসব মানুষ।

২০০০ সালে নগরের দরিদ্রতা ছিল ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৬ সালে এটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ শতাংশের বেশি। দারিদ্র্য বেড়েছে সাত শতাংশের মতো। ব্রিটিশ উন্নয়ন সংস্থা ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ডিএফআইডি) বিশেষ উন্নয়ন উপদেষ্টা আনোয়ারুল হক বলেন, দেশে দারিদ্র্য বিমোচনের মতো অনেক কিছু হয়ে গেলেও সরকারের পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালে শহরে দরিদ্র বেড়েছে। শহরে যেভাবে নজর দেওয়া দরকার, পলিসিতে সেভাবে দেওয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ব্র্যাকের নগর উন্নয়ন কর্মসূচি প্রধান হাসিনা মোশরফা বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪০০ কোটি টাকা  কিন্তু এই অর্থের একটি বড় অংশ চলে গেছে অন্য খাতে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর বলেন, নগরে দারিদ্র্যের হার কমাতে হলে স্বল্পমূল্যে বাসস্থান সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এটিকে সামাজিক নিরাপত্তা হিসেবে না দেখে বিনিয়োগ হিসেবে দেখলে নগরের দরিদ্রদের বাসস্থান ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে। পৌরসভাগুলোকে অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট পৌরসভাকে করের একটি অংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিশ্লেষকরা গ্রাম ও নগরকে বিভাজন করে পৃথক বরাদ্দ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বাজেট থেকে কত শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে, তার একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আগেই কিছু বলা যাবে না।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue