শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

আ.লীগের চার সংগঠনের সম্মেলন

পদপ্রত্যাশীদের ‘আমলনামা’ প্রধানমন্ত্রীর কাছে

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার ০৯:৪৪ পিএম

পদপ্রত্যাশীদের ‘আমলনামা’ প্রধানমন্ত্রীর কাছে

ঢাকা : আওয়ামী লীগের চারটি সহযোগী সংগঠনের আসন্ন জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের ‘আমলনামা’ আছে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।

মাঠে তাদের রাজনৈতিক অর্জন, নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রিয়তা, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও বিশেষ করে গত প্রায় ১১ বছর ধরে আওয়ামী লীগ টানা সরকারে থাকা অবস্থায় তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত আছে ‘আমলনামা’গুলোতে। সরকারি দলের শীর্ষ নেতা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পদপ্রত্যাশীদের সম্পর্কে এসব ‘আমলনামা’ বা প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

ক্ষমতাসীন দলের সংগঠনগুলোকে বিতর্কমুক্ত করতে আর সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকে শীর্ষ পদে জায়গা করে তিনি পদপ্রত্যাশীদের বিস্তারিত খোঁজ নেন বলে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র জানায়।

দলীয় সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের চারটি সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন কেন্দ্র করে সৎ নেতাদের খুঁজতে প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েক নেতাকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চলছে। যা আদৌ সত্য নয়। কয়েক নেতা ‘কৃতিত্ব’ নিতে নিজের অনুসারীদের দিয়ে ফেসবুকে এমন প্রচারণাসহ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

শুদ্ধি অভিযান চলাকালে এবার অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা প্রধানমন্ত্রী নিজেই দেখভাল করছেন।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও আওয়ামী লীগ প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দিয়ে দলের মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের বিষয়ে একাধিক জরিপ করান। জরিপের ফল অনুযায়ী অনেক সংসদীয় আসনে দলের মনোনয়ন পান জনপ্রিয় ও নতুন মুখ।

বিভিন্ন আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে বিতর্কিতদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে পরিচালিত ওই জরিপের ভিত্তিতেই। দলের সহযোগী সংগঠনের সম্মেনের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পরিচালিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোর প্রতিফলন দেখা যাবে।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা এবার অনেক বেশি যাচাই করে দলের সহযোগী সংগঠনগুলোতে নেতৃত্ব বাছাইয়ের নির্দেশনা দেন। কোনো পদপ্রত্যাশীর বিষয়ে দলের শীর্ষ কোনো নেতার তদবিরও দলীয় প্রধানের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে না। তারুণ্যনির্ভর, ত্যাগী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব চাচ্ছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

ফলে এই চার সংগঠনের শীর্ষ পদসহ আগামী কমিটি থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছেন টেন্ডার ও চাঁদাবাজি এবং ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতরা। দলে তেমন বিতর্ক না থাকলেও বিএনপি-জামায়াত থেকে অনুপ্রবেশকারীরাও শীর্ষ পদ পাবেন না।

সহযোগী সংগঠনগুলোতে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী কে কে, এ তথ্যও আছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা হওয়া প্রতিবেদনে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় সহযোগী সংগঠনগুলোতে শুদ্ধি অভিযান। পরে তা মূল দলেও শুরু হয়। সারা দেশের তৃণমূল পর্যায়েও শুদ্ধি অভিযান বিস্তৃত হচ্ছে আওয়ামী লীগ প্রধানের নির্দেশে।

শুদ্ধি অভিযানের মতো বড় ধাক্কা ও নানা বিতর্কের মধ্যে কেমন হতে পারে সহযোগী সংগঠনগুলোর আগামী কমিটি, সেদিকেই নজর রাখলেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদেরও এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলার নেই।

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর কন্যা দলের সহযোগী সংগঠনগুলোতে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব চাইছেন, যা অনুভব করে সহযোগী সংগঠনগুলোর আসন্ন সম্মেলনে প্রতিনিধিরা নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সঙ্গে সংগতি রেখে সংগঠনগুলোর গঠনতন্ত্র সংশোধিত হয়েছে। সেগুলো মেনেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনে আওয়ামী লীগ হস্তক্ষেপ করছে না বলেও দলের শীর্ষ নেতাদের দাবি।

তথ্যমতে, আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগেই দলের চারটি সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন হবে। আগামী ৬ নভেম্বর কৃষক লীগ, ৯ নভেম্বর জাতীয় শ্রমিক লীগ, ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ২৩ নভেম্বর হবে যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস। এসব সংগঠনের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সব কটি সম্মেলনই হবে ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সেখানে একই মঞ্চে এই চারটি সংগঠনের সম্মেলন হবে। এরই মধ্যে সম্মেলনের প্রস্তুতির পাশাপাশি মঞ্চ তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে আওয়ামী লীগের চার সহযোগী সংগঠনেই। নতুন কমিটিতে স্থান পেতে বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। তদবির করছেন মূল দলের নীতিনির্ধারকদের কাছেও। প্রতিদিনই দলটির ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানমন্ডির সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর। কিন্তু এ চার সংগঠনের হাল কে ধরতে যাচ্ছেন-তা এখন পর্যন্ত কোনো পর্যায়ের নেতারা তেমন কোনো আভাস দিতে পারছেন না।

সূত্র বলছে, আগামী ২০২০ সালের আগে যথাসম্ভব শুদ্ধ রাজনৈতিক দল চায় আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর গড়া এ দলের নেতৃত্বের সরকার আগামী বছর তার জন্মশত বছর ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে রাষ্ট্রীয় বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বছর ও স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তী উদযাপনের সময় মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের পদে বিতর্কিতদের না রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন বছর শুরুর আগেই দল ও দলের সহযোগী সংগঠনগুলোকে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন করে সাজিয়ে বিতর্কমুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যেই শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশে দলে সাংগঠনিক শুদ্ধি অভিযান চলছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই