বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

পর্ণ আইনে মামলা করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১১ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার ০৪:৫৭ পিএম

পর্ণ আইনে মামলা করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

ঝিনাইদহ: জেলার শৈলকুপা থানায় পর্ণ আইনে মামলা করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে চরধলহরাচন্দ্র গ্রামের মৃত মুক্তিযোদ্ধা ইজাহার আলি মণ্ডলের নাতনি রাবেয়া আক্তার। আর এর জের ধরে অভিযোগকারীর পরিবারকে মামলা তুলে না নিলে জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে তার ভাসুরের ছেলে ইউনুস আলি। শুধু তাই নয়, ইউনুসের হুমকিতে মুক্তিযোদ্ধার দরিদ্র ছেলে ভ্যানচালক রবিউল ইসলামও দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

রাবেয়া আক্তার তার অভিযোগে বলেন, গত বছরের ১১ মার্চ একই গ্রামের ইয়াকুব মণ্ডলের ছেলে ইনছান কবিরের সঙ্গে তার (রাবেয়া আক্তার) বিয়ের পর ইনছান কবীর চাকরির সুবাদে সিঙ্গাপুর চলে যায়। বাবার অসচ্ছল পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকেরা চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে তার স্বামীও বাবা-মায়ের সুর ধরে তাকে বাবার বাড়ি চলে যেতে মোবাইলফোনে হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। এই সুযোগে তার ভাসুর আব্দুর রশিদের ছেলে ইউনুছ আলী রাবেয়া আক্তারকে মারধর করতে শুরু করে। তার স্বামীও পরিবারের পক্ষ নিলে ২২ মার্চ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। নিরুপায় হয়ে রাবেয়া আক্তার দরিদ্র বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিলে ইউনুছ আলী ২৪ এপ্রিল অন্য নারীর নগ্নবক্ষের ছবি রাবেয়ার মুখের সঙ্গে মিল রেখে ছাপিয়ে এলাকায় বিলি করে।

বিষয়টি রাবেয়া আক্তারের পরিবার ইউনুছ আলীর অভিভাবকদের জানিয়ে কোনো প্রতিকারতো পায়নি, উল্টো রাবেয়া আক্তারকে আরও অসম্মানিত করে গ্রামছাড়া করার হুমকি দেয়। অসহায় পরিবারের পক্ষ থেকে রাবেয়া আক্তার নিজেই বাদী হয়ে ওই বছরের ৯ মে শৈলকুপা থানায় পর্ণগ্রাফি আইনে মামলা করেন। মামলায় তার ভাসুরের ছেলে ইউনুছ আলীকে প্রধান আসামি করা হয়।

রাবেয়া আক্তারের বাবা ভ্যানচালক রবিউল ইসলাম জানান, পুলিশ লোক দেখানোভাবে গ্রামে গেলেও কোনো অজানা করণে আসামিকে গ্রেপ্তার করছে না।

তিনি জানান, লজ্জা ও ক্ষোভে মেয়েটি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল, তাকে সান্তনা দিয়ে রাখা হয়েছে। তবে আসামি ও তার লোকজন যেকোন সময় মেয়েটির সম্ভ্রমহানি ও হত্যা করতে পারে বলে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনিও ভ্যানচালানো বাদ দিয়ে জীবনের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানার বিদায়ী ওসি কাজী আয়ূবুর রহমানের সঙ্গে অলাপ করলে তিনি রাতারাতিই আসামিকে আটক করে তার কর্তব্য পালন করবেন বলে জানালেও তা করে যাননি।

শৈলকুপা সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনিও আসামি আটকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে আশ্বাস দেন।

সোনালীনিউজ/এমএইচএম

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue