রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬

পাকিস্তানকে হারিয়ে দুই নম্বরে অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১২ জুন ২০১৯, বুধবার ১১:৪২ পিএম

পাকিস্তানকে হারিয়ে দুই নম্বরে অস্ট্রেলিয়া

ছবি সংগৃহীত

ঢাকা: পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচ বার বার গতিমুখ বদলে শেষমেশ ঢলে পড়ল অস্ট্রেলিয়ার দিকে৷ টন্টনে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৪১ রানে হারিয়ে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল অস্ট্রেলিয়া৷

টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ৪৯ ওভারে ৩০৭ রানে অলআউট হয়ে যায়৷ দুরন্ত সেঞ্চুরি করেন ডেভিড ওয়ার্নার৷ অধিনায়কোচিত ফিফটি করেন অ্যারন ফিঞ্চ৷ নাগালের বাইরে চলে যেতে বসা ম্যাচে পাকিস্তানকে লড়াইয়ে ফেরান মোহাম্মদ আমির ৫ উইকেট নিয়ে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ৪৫.৪ ওভারে ২৬৬ রানে অলআউট হয়ে যায়৷ ইমাম, বাবর, হাফিজ, সরফরাজ, হাসান, রিয়াজরা সম্মিলিতভাবে লড়াই চালালেও শেষরক্ষা করতে পারেননি৷ সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেছেন ইমাম-উল-হক। মোহাম্মদ হাফিজ ৪৬ আর ওয়াহাব রিয়াজ করেন ৪৫ রান। প্যাট কামিন্স নিয়েছেন ৩ উইকেট। দুটি করে উইকেট পেয়েছেন মিচেল স্টার্ক ও কেন রিচার্ডসন।

এদিন টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানি পেসারদের বিপক্ষে সতর্কভাবে ব্যাটিং শুরু করেন ফিঞ্চ ও ওয়ার্নার। দুজনেই তুলে নিয়েছেন ফিফটি। ফিঞ্চকে শিকার করে ১৪৬ রানে জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ আমির। মোহাম্মদ হাফিজের হাতে ধরা পড়ে বিদায়ের আগে ৮৪ বলে ৬টি চার আর ৪টি ছক্কায় ৮২ রান করেন ফিঞ্চ।

ওয়ানডাউনে নেমে সুবিধা করতে পারেননি স্টিভ স্মিথ। মাত্র ১০ রান করে মোহাম্মদ হাফিজের বলে আসিফ আলীর তালুবন্দি হয়ে ফেরেন নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা সাবেক এই অধিনায়ক। তবে স্বরূপে ছিলেন ওয়ার্নার। নির্বাসন কাটিয়ে ফিরে ফর্মের মগডালে আছেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে মাতিয়ে এসেছেন আইপিএল। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টেও সেই ফর্ম ধরে রেখেছেন বিধ্বংসী ওপেনার।

পথিমধ্যে আসরে তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন তিনি। দোর্দণ্ড প্রতাপে এগিয়ে যান সেঞ্চুরির পথে। এরই মাঝে শাহীন আফ্রিদির বলে সোজা বোল্ড হয়ে ফেরেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তবে পথচ্যুত হননি ওয়ার্নার। শাহীন আফ্রিদিকে বাউন্ডারি মেরে তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। তুলে নেন অনবদ্য সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। সব মিলিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে বিস্ফোরক ওপেনারের ১৫তম তিন অংক ছোঁয়া ইনিংস।

অবশ্য কাঙ্ক্ষিত ঘর স্পর্শ করার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ওয়ার্নার। ব্যক্তিগত স্কোরে আর ৭ রান করেই আফ্রিদির দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন ওয়ার্নার। ফেরার আগে ১১১ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় ১০৭ রানের ঝলমলে ইনিংসটি সাজান তিনি। ততক্ষণে বিশাল সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

তবে ক্যাঙ্গারুদের রানের পাহাড় গড়তে দেননি মোহাম্মাদ আমির। দীর্ঘদিন অফফর্মে থাকলেও বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে আছেন তিনি। ব্যাটিং স্বর্গে স্বরূপে ছিলেন তিনি। ওয়ার্নার ফেরার পর নিজের দ্বিতীয় শিকার বানিয়ে ফেরান উসমান খাজাকে। ওয়াহাব রিয়াজের তালুবন্দি করে তাকে ফেরান বাঁহাতি পেসার। সেই রেশ না কাটতেই শোয়েব মালিকের ক্যাচ বানিয়ে শন মার্শকে ফেরান তিনি।

এরপরই পথ হারায় অস্ট্রেলিয়া। কেউই দাঁড়াতে পারেননি। কোল্টার নাইলকে তুলে নিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেপে ধরেন রিয়াজ। তাতে প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে তাতে সমর্থন জোগান হাসান। শেষ অবধি এক ওভার বাকি থাকতেই ৩০৭ রানে অলআউট হয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

১০ ওভার বল করে ৩০ রান খরচায় ৫টি উইকেট শিকার করেন মোহাম্মাদ আমির। শাহিন আফ্রিদি ২টি এবং মোহাম্মদ হাফিজ, হাসান আলী ও ওয়াহাব রিয়াজ ১টি করে উইকেট নিয়েছেন। 

সোনালীনিউজ/আরআইবি/জেডআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue