শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭

পাকিস্তানী প্রেমিকার জন্য ভারতীয় যুবকের ১২০০ কিমি পাড়ি, তারপর...

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২০, শনিবার ১২:১৪ পিএম

পাকিস্তানী প্রেমিকার জন্য ভারতীয় যুবকের ১২০০ কিমি পাড়ি, তারপর...

ঢাকা : শাহরুখ খান-প্রীতি জিনতার সেই অমর প্রেমকাহিনী মোড়া ‘বীরজারা’র কথা মনে আছে? প্রেমের জন্যে, প্রেমিকাকে আপন করে নিতে পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন ‘বীর’। তারপর ২২ বছর জেল! শেষমেশ অবশ্য শেষ বয়সে একে-অপরকে আপন করতে পেরেছিলেন তারা। কিন্তু এবার খোঁজ মিলল বাস্তবের এক ‘বীর’-এর। পাকিস্তানি প্রেমিকাকে দেখতে ১২০০ কিলোমিটার পেরিয়ে এসে সীমান্তের কাছে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ল সে, নাহলে হয়তো কাঁটাতার টপকেই চলে যেত করাচি!

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফ সূত্রে খবর, দীর্ঘ ১২০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আসার ক্লান্তিতে গুজরাটের কচ্ছ উপত্যকার কাছে এসে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে মাত্র ২০ বছর বয়সী ওই যুবক। অসুস্থতার মাঝেই তাকে দেখতে পান বিএসএফ জওয়ানরা। তারাই ওই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

জানা গেছে, ২০ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম সিদ্দিকি মুহাম্মদ জিশান। তার বাড়ি মহারাষ্ট্রের ওসামাবাদে। ফেসবুকের সূত্রে তার সাথে কথা হয় করাচির বাসিন্দা এক যুবতীর সাথে। আলাপ থেকে প্রেম হতে সময় লাগেনি বেশি। ফেসবুক ছেড়ে হোয়াটসঅ্যাপেই মন দেয়া-নেয়া চলতে থাকে। কিন্তু মনের মানুষকে চোখে না দেখলে হয়!

মহারাষ্ট্র থেকে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েন ওই যুবক। গুগল ম্যাপের ভরসায় ১২০০ কিলোমিটার পথ উজিয়ে সে চলেও আসে গুজরাটের কচ্ছ উপত্যকায়। ভেবে রেখেছিল, সীমান্ত পেরিয়ে ঠিক পৌঁছে যাওয়া যাবে প্রেমিকার কাছে। কিন্তু বাঁধ সাধল শরীর। দীর্ঘ পথ পেরোনোর কারণে শরীর খারাপ হয়ে যায় তার। জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সে। এমন সময়ই বিএসএফ জওয়ানদের নজরে পড়ে সে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অবশ্য এই গোটা ব্যাপারটা বাড়িতে জানায়নি জিশান। ছেলে নিখোঁজ বলে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে তার বাবা-মা। এরপরই খোঁজ শুরু হয়। মোবাইল টাওয়ারের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, যুবকের শেষ নেটওয়ার্ক গুজরাটে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে। এরপর মহারাষ্ট্র পুলিশ যোগাযোগ করে বিএসএফ-এর সাথে। তখনই বিএসএফ তার খোঁজ শুরু করে। উদ্ধার হয় জিশানের মোটর বাইকটিও। যদিও প্রেমিকার সাথে এ যাত্রায় আর দেখা না হওয়ায় মন ভালো নেই জিশানের। আর কী হবে দেখা? জানে না সে। আপাতত হাসপাতালে রয়েছে সে, সুস্থ হলেই তাকে তুলে দেওয়া হবে মহারাষ্ট্র পুলিশের হাতে। তার প্রেমিকার অবশ্য বর্তমান অবস্থার খবর মেলেনি।