সোমবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬

আ.লীগের সহযোগী সংগঠন

পূর্ণাঙ্গ কমিটি চলতি মাসে

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার ০৪:০৯ পিএম

পূর্ণাঙ্গ কমিটি চলতি মাসে

ঢাকা : কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সহযোগী পাঁচটি সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি এখনো।

গঠনতন্ত্রে বলা আছে, সংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষ দুটি পদে নির্বাচিতরা নিজের সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবেন।

সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় সম্মেলনের দিনই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে জানানো হয়, সম্মেলনের পরের ‘সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি’ ঘোষণা করা হবে।
সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ‘নির্ধারিত সাত দিন’সহ দুই থেকে আড়াই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা আজো পাননি দলের নেতা-কর্মী ও পদপ্রত্যাশীরা। কখন ঘোষণা আসবে, এমন প্রতীক্ষায় আছেন তারা।

ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারক সূত্র জানায়, সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকার জোড়া সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ভোটের মাঠের যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব চাচ্ছে, দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা দিতে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনে ভোটের মাঠ এককভাবে সরকারি দলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ঢাকা সিটির নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঠে ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। দুই সিটির ভোটকে বিএনপি ব্যাপক গুরুত্ব দেয়, এমনকি হিসাব করে মাঠে নামে। ‘দুর্বল’ বিএনপি এবার প্রচারে বিপুল নেতা-কর্মী নামিয়ে সাংগঠনিক শক্তি সঞ্চয় করার চেষ্টা করে।

দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীও ঢাকা সিটির নির্বাচনের সময় ভোটের মাঠে ছিলেন। সহযোগী সংগঠনগুলোসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকলে নেতা-কর্মীদের আরো উদ্যম ও উৎসাহসহ ভোটের মাঠে উপস্থিতি থাকত। শূন্য হওয়া পাঁচটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আগে বিষয়টি নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ করছে আওয়ামী লীগ।

শূন্য হওয়া বগুড়া-১, যশোর-৬, গাইবান্ধা-৩, বাগেরহাট-৪ এবং ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনের আগেই সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয়সহ সারা দেশের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সূত্র বলছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের ব্যস্ততার কারণে একই সঙ্গে আটকে যায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণাও।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ইউরোপে সরকারি সফরের ব্যস্ততাও যোগ হয় সেখানে। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে দেশে ফেরার পরপরই পর্যায়ক্রমে সংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিতে পারেন, এমন ইঙ্গিত আগেই দেওয়া হয় দলের পক্ষ থেকে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মূল দল সহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সম্মেলনের কারণে গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে ব্যস্ততা ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্যস্ত থাকতে হয় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে। তবে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ চলছে। শিগগিরই তা ঘোষণা করা হবে।’

কয়েকটি সংগঠনের নেতা-কর্মী অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি গঠিত হয় ঠিকই, কিন্তু সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয় না। সম্মেলনের পর ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে’ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার রীতি থাকলেও কখনো কখনো তা মানা হয় না। এমনকি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্দেশ দিলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয় না। অপূর্ণাঙ্গ কমিটির মেয়াদ পার হওয়ার পরও গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সম্মেলন হয় না।

ফলে কমিটিতে স্থান পেতে বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা নেতা-কর্মীদের সারি দীর্ঘ হতে থাকে। অনেকের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও হতাশাও জন্ম নেয়। অনেকে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকেও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। নতুন নেতৃত্বও পায় না দল।

নেতা-কর্মীরা বলেন, দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন দীর্ঘ বছর ধরেই সময়মতো হয় না। এসব সংগঠনের কোনোটির দ্বি-বার্ষিক এবং কোনোটির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের কথা থাকলেও দুই বা তিন বছর মেয়াদি কমিটিগুলো দ্বিগুণেরও বেশি সময় পার করে। কোনো কোনো সংগঠন সম্মেলন আয়োজন করতে আরো বেশি সময় পার করে দেয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশে গত বছরের নভেম্বরে সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ফলে এসব সংগঠনের কেন্দ্রীয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে ঠাঁই পেতে বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা সারা দেশের অনেক নেতা-কর্মী নতুন আশায় বুধ বাধেন।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র জানায়, অনেক নেতার সংগঠনের পদ আঁকড়ে রাখার প্রবণতা এবং পদ হারালে মূল দল আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো সংগঠনের শীর্ষ পদে জায়গা না পাওয়ার আশঙ্কায় দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন করতে চান না। সম্মেলনের আয়োজন হলেও সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে চান না। কোনো কোনো নেতা একাধিক কমিটিও দেন। বিশেষ করে দল ক্ষমতায় থাকলে এ ধরনের পরিস্থিতি বেশি দেখা যায়। এসব সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেও প্রায়ই হস্তক্ষেপ করতে হয়। তবে এবার এমন হওয়ার লক্ষণ নেই।

তথ্য বলছে, গত নভেম্বর মাসে ক্ষমতাসীন দলটির সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন কৃষক লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মৎস্যজীবী লীগ ও শ্রমিকলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন।

কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি এ প্রসঙ্গে জানান, ‘কৃষকলীগের সাংগঠনিক নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে প্রস্তাবিত কমিটি জমা দিয়েছি। তিনি যেকোনো সময় পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করতে পারেন। তার পরই আমরা কমিটি ঘোষণা করব।’

সোনালীনিউজ/এমটিআই