বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

খোঁজা হচ্ছে অর্ধলাখ সাহসী নেতাকর্মী

পোলিং এজেন্ট দেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ বিএনপির

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার ০৩:৩১ পিএম

পোলিং এজেন্ট দেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ বিএনপির

ঢাকা : গত একযুগে একাধিকবার সিটি এবং জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। ওই সময় নির্বাচনে বেশিরভাগ কেন্দ্রেই বিএনপির কোনো এজেন্ট চোখে পড়েনি। প্রতিপক্ষের ধাক্কায় টিকতেই পারেনি। শুরু থেকে শেষ অবধি কেন্দ্রে ‘অনিয়ম’ হলেও তা দেখার মতো কেউ ছিল না। এমন বাস্তবতায় এবারের নির্বাচনে পোলিং এজেন্ট নিয়োগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে দলটির নীতিনির্ধারকরা।

ভোটকেন্দ্রে যে কোনো ধরনের কারচুপি ও অনিয়ম ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবেন- এমন যোগ্যতাসম্পন্ন পোলিং এজেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এগুচ্ছে বিএনপি।

পোলিং এজেন্ট নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলছেন, দুই সিটিতে এজেন্ট নিয়োগ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মনে হচ্ছে তাদের কাছে।

সংশ্লিষ্টরা নীতিনির্ধারকদের জানিয়েছেন, অতীত বিশ্লেষণ, বর্তমান পর্যবেক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এখন আর উৎসাহ নিয়ে ভোট কেন্দ্রে এজেন্টের দায়িত্ব পালন করতে চাচ্ছেন না নেতাকর্মীরা।

সূত্র জানিয়েছে, সব ধরনের আশঙ্কার কথা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার দুই সিটিতে প্রায় ৫০ হাজার পোলিং এজেন্ট নিয়োগের টার্গেট করেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাতে হয়রানি করার সুযোগ না পায়, সেজন্য তালিকা সংগ্রহে গোপনীয়তা অবলম্বন করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে কিংবা গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, এমন নেতাকর্মীকে পোলিং এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। দুই সিটির পোলিং এজেন্টের তালিকায় বিকল্প টিমও প্রস্তুত রাখা হবে।

সম্ভাব্য তালিকা চূড়ান্ত করে তাদের সবাইকে ইভিএমের টেকনিক্যাল বিষয়সহ ভোট কারচুপি প্রতিরোধ করার বিভিন্ন কলাকৌশল শেখাতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তার ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও করা হবে লিখিত আবেদন।

ঢাকা উত্তর সিটিতে ৫৪টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৮টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড রয়েছে। সেখানে থাকবে ১ হাজার ৩১৮টি ভোটকেন্দ্রে ৭ হাজার ৮৪৬টি ভোটকক্ষ।

অপরদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ২৫টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১ হাজার ১৫০টি ভোটকেন্দ্রে ৬ হাজার ৫৮৮টি ভোটকক্ষ থাকবে। ঢাকার দুই সিটিতে ভোটকক্ষের সংখ্যা ১৪ হাজার ৪৩৪টি। প্রতি কক্ষে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে একজন করে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হবে। সবমিলে দুই সিটিতে ৪৩ হাজার ৩৩২ জন পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও উত্তর সিটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, নির্বাচন ও পোলিং এজেন্ট নিয়ে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমনকি ক্ষমতাসীনদের বাধার কারণে অনেক কেন্দ্রেই আমাদের এজেন্ট ঢুকতে পারেনি। কোথাও কোথাও আমাদের সাংগঠনিক দুর্বলতাও ছিল। অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার পোলিং এজেন্ট নিয়োগে আমরা বেশ গুরুত্ব দিয়েছি।

যারাই পোলিং এজেন্ট হবেন, তাদের অবশ্যই কেন্দ্রে যেতে হবে। একমাত্র গ্রেপ্তার ছাড়া ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বা আসতে দেয়নি- এমন কোনো অজুহাত এবার বরদাশত করা হবে না।

সূত্র জানায়, পোলিং এজেন্টের নামের তালিকা সংগ্রহ করতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশ পেয়ে তারা প্রতি থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে সম্ভাব্য তালিকা পাঠাতে বলেছেন।

এছাড়া যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকেও আলাদা তালিকা দিতে বলা হয়েছে।

যারা স্বেচ্ছায় দায়িত্ব পালনে আগ্রহী, তাদের এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তালিকায় প্রয়োজনের চেয়েও কিছু বেশি নাম রাখবে দলটি। কেউ অসুস্থ বা সমস্যায় পড়লে যাতে বিকল্প কাউকে নিয়োগ দেওয়া যায়। এজন্য কাছাকাছি একটি বিকল্প সেট প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানান, পোলিং এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের আশপাশে যেসব নেতাকর্মীর বাসা রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

কারণ স্থানীয়ভাবে প্রভাব রয়েছে- এমন কাউকে পোলিং এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া না হলে কেন্দ্রে যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাবে না।

তাই হামলা-মামলার কারণে সব ভোটকক্ষে সম্ভব না হলেও অন্তত প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন করে প্রভাবশালী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাতে তার ওপর ভিত্তি করে অন্য পোলিং এজেন্টরা নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

তাই স্থানীয়দের মোটামুটি চেনেন, সেসব নেতাকর্মীকেই পোলিং এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই