বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬

প্রতিদিনের বইমেলা জমে উঠেছে শিশুকর্নার

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০২:২১ পিএম

প্রতিদিনের বইমেলা জমে উঠেছে শিশুকর্নার

ঢাকা : মূল মেলা জমতে জমতেও জমছে না। তাতে অবশ্য শিশুকর্নারে খুব বেশি প্রভাব পড়ছে না। ওদিকটায় নিয়মিত বইক্রেতারা আসছেন। বাচ্চারা অভিভাবকসহ আসছে এবং দেদার বই বিক্রি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেলায় অনেক সময় বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে আসেন অভিভাবকরা। তখন বাচ্চাদের নিয়ে শিশুকর্নারে ঢুঁ মারেন। ওপাশটার কেনাবেচাও তাই মন্দ নয়।

পক্ষান্তরে মূল মেলা এখনো জমে ওঠেনি। গতকাল বুধবার ষষ্ঠ দিনও মেলা ভরাট মনে হয়নি। তাতে অবশ্য নতুন বই আসা থেমে থাকেনি। বাংলা একাডেমির দেওয়া তথ্যমতে গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ১৫২টি।

এদিকে গতকাল বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবুল হাসনাত। আলোচনায় অংশ নেন বিমল গুহ, গোলাম কিবরিয়া পিনু ও শোয়াইব জিবরান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ চৌধুরী।

প্রাবন্ধিক আবুল হাসনাত বলেন, ‘প্রিয় ফুল খেলার দিন নয় অদ্য’ কিংবা ‘কমরেড নবযুগ কি আনবে না’- তার এসব অবিনাশী পিক্তমালার মধ্যে আমাদের অনেকেরই মানসপুষ্টি অর্জন করেছিল ও আমরা এর মাধ্যমে সময়ের দ্বন্দ্ব-সংঘাতকে উপলব্ধি করেছিলাম নবচৈতন্যের আলোকে। আমরা এসব কবিতার মর্মভেদী আবেদনকে অনুভব করেছিলাম জীবনকে মেলাবার আবেদন; প্রিয়ার সান্নিধ্য ও তার বাহুডোরকে পরিত্যাগ করে স্বপ্ন ছিঁড়ে জনমানুষের কল্যাণ ও মঙ্গলের চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষায়।

আলোচকরা বলেন, সুভাষ মুখোপাধ্যায় বাংলা কবিতায় নতুন যুগের উদ্গাতা। তিনি জনমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে কবিতার শব্দে, ছন্দে শিল্পরূপ দিয়েছেন। কবিতা তার কাছে কোনো উপরিতলার প্রসাধন ছিল না বরং কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের জীবন এবং একই সঙ্গে সমষ্টির জীবনযাপন করেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে আসাদ চৌধুরী বলেন, সুভাষ মুখোপাধ্যায় কবিতার মধ্য দিয়ে সময়কে ধারণ করেছেন। কবিতার পাশাপাশি গদ্য ও অনুবাদে তিনি রেখেছেন স্বাতন্ত্র্যের স্বাক্ষর। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের তিনি ছিলেন এক ঘনিষ্ঠ সুহূদ। তার মতো কবি-মানুষের জন্মশতবর্ষে বাংলা একাডেমির এ আয়োজন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও প্রশংসনীয়।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি ফারুক মাহমুদ এবং ফারহান ইশরাক। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আশরাফুল আলম এবং শিরিন ইসলাম। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী আবুবকর সিদ্দিক, স্বপ্না রায়, আজগর আলীম, শফিউল আলম রাজা, অনিমা মুক্তি গোমেজ। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন শাহনূর আলম রাজন (তবলা), এসএম রেজা বাবু (বাংলা ঢোল), ডালিম কুমার বড়ুয়া (কিবোর্ড), নির্মল কুমার দাস (দোতারা)।

আজকের অনুষ্ঠান : বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে গ্রন্থমেলার সপ্তম দিন মেলা চলবে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাই : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ড. সৌমিত্র শেখর।

আলোচনায় অংশ নেবেন অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, জীনাত ইমতিয়াজ আলী, শহীদ ইকবাল ও তারিক মনজুর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সোনালীনিউজ/এমটিআই