সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

প্রথমবারের মতো চাষ হচ্ছে বেগুনি রঙের ধান

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, শুক্রবার ০৫:২৪ পিএম

প্রথমবারের মতো চাষ হচ্ছে বেগুনি রঙের ধান

শ্রীমঙ্গল : দিগন্তজোড়া সবুজে ভরা ফসলের মাঠে একখন্ড বেগুনি রঙের ধানের জমি। দৃষ্টিনন্দন এই ধানের জমিটি সম্পুর্ন বেগুনি। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। এলাকার সবার নজর কেড়েছে বেগুনি রঙের এই ধানের ক্ষেত। প্রতিদিন দেখতে আসছেন অনেকেই। চারদিকে সবুজের মাঝে বেগুনি রঙের ধানের জমি তাক লাগিয়ে দিয়েছে সবাইকে।

শ্রীমঙ্গলে প্রথমবারের মতো চাষ হচ্ছে এই বেগুনি রঙের ধান। শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশীদ্রোন ইউনিয়নের তিতপুর গ্রামের সৌখিন কৃষক সালেহ আহমদ এই বেগুনি রঙের ধান চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন।

সৌখিন কৃষক সালেহ আহমদ জানান, তিনি মৌলভীবাজার তার মামাতো ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বেগুনি ধানক্ষেত দেখে শখের বশবর্তী হয়ে ৫ কেজি বীজ নিয়ে আসেন এবং পরীক্ষামুলক বেগুনি রঙের ধানের চাষ করেন।

তিনি আরো জানান, সাধারন ধানের চেয়ে বেগুনি ধানে খরচ কিছুটা বেশি এবং নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। একই সাথে তিনি স্হানিয় কৃষি অফিসের পরামর্শ নিচ্ছেন। তার এলাকার অনেক চাষী তার এই বেগুনি ধান ক্ষেত দেখে বেগুনি রঙের ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

আশিদ্রোন ইউপি চেয়ারম্যান রনেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন জানান, সালেহ আহমদ প্রথমবারের মতো এ ধান চাষ করেছেন। বেগুনি রঙের ধান ক্ষেতটি আমি পরিদর্শন করেছি। আশা করছি ধানের ফলন ভাল হবে।

কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, রোপন থেকে ধান পাকা পর্যন্ত সময় লাগে ১৪১ দিন থেকে ১৪৫ দিন। ধানের ফলনও ভাল।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি জানান, গাইবান্ধায় একজন কৃষক তার ধানের জমিতে ৩-৪ ছড়া বেগুনি ধান পেয়েছিলেন। তিনি সেগুলো থেকে বীজ বৃদ্ধি করে প্রথম বেগুনি ধান চাষ করেন। পরে কুমিল্লা ও মৌলভীবাজারে এর চাষ হয়। তবে শ্রীমঙ্গলে প্রথমবারের মতো এর পরিক্ষামুলক চাষ শুরু হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আমরা বেগুনি রঙের ধানের জমিটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা দিয়ে আসছি। ফলনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ধান না কাটা পর্যন্ত ফলন কত হবে তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ফলন ভাল হলে পরবর্তীতে এই ধানের আবাদ বৃদ্ধি করার পরকল্পনা গ্রহন করা হবে বলেও জানান তিনি।

মোনালিসা সুইটি আরো জানান, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এ ধান নিয়ে কাজ করছে। এ ধানের জাত ও অন্যান্য তথ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বলা যাবে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই