শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬

বাজেটে প্রতিশ্রুতি আছে, পদক্ষেপ কম

প্রবৃদ্ধি বাড়াতে দরকার স্পষ্ট রোডম্যাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৭ জুন ২০১৯, সোমবার ০২:০৬ পিএম

প্রবৃদ্ধি বাড়াতে দরকার স্পষ্ট রোডম্যাপ

ঢাকা : প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি খাতের জন্য প্রতিশ্রুতি আছে, তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সঠিক রোডম্যাপ নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বেসরকারি খাতের জন্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বাজেটেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায়, ঘোষণা কেবল কাগজেই থাকবে। বেসরকারি খাত গতিশীল হবে না।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের জন্য বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে।

বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বেসরকারি খাতের বিষয়ে বেশ কিছু জায়গায় কথা বলেছেন। এছাড়া অর্থ বিলেও কিছু বিষয় এসেছে। তবে তা সরকারের পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বিত হয়নি। বেসরকারি খাতের স্থবিরতা কাটাতে আরো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসা দরকার।

জানা গেছে, সরকার, আগামী দিনগুলোতে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা, রপ্তানি, আবাসন খাতসহ সেবা খাতকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যেতে চায়। এর উদ্দেশ্য দারিদ্র্যনিরসন, আয়বৈষম্য কমানো এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি। এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূল স্রোতধারায় আনতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে গতিশীল করতে হবে। এসব বিষয় এবার অর্থমন্ত্রীর নজরে এসেছে। তিনি বলেছেন, উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তবে কীভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা কিংবা রোডম্যাপ নেই। ফলে অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে সেটি প্রশ্ন রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমাদের প্রবৃদ্ধির প্রধান উৎস করতে হবে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে ভোগ ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এজন্য বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। অর্থমন্ত্রী অবশ্য এবার বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলেছেন। তিনি আগামী অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)-এর ২৪ শতাংশের সামান্য বেশি হবে বলে জানিয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই বেসরকারি বিনিয়োগ একটি ঘরে আটকে আছে। সম্প্রতি কমে গেছে বেসরকারি ঋণের হার। অর্থনীতিতে তীব্র সংকট চলছে। অবকাঠামো সমস্যা পুরনো। কিন্তু প্রবৃদ্ধিতে উচ্চতর স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। রপ্তানি বাণিজ্যের প্রসার করা, ব্যবসাবান্ধব কর পরিবেশ, আর্থিক খাতের সংস্কার, সরকারি বিনিয়োগ এবং বড় অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার বাড়াতে হবে। কিন্তু বাজেটে এসব ব্যাপারে বিশদ কোনো ব্যাখ্যা নেই।

বিশেষ করে ব্যাংকঋণের সুদহার নিয়ে ব্যবসায়ীমহল কার্যকর পদক্ষেপ আশা করেছিল। কিন্তু একটিমাত্র বাক্যে শেষ করা হয়েছে এ বিষয়টি। বলা হয়েছে, ঋণের সুদহার আমরা এক অঙ্কের বেশি দেখতে চাই না। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুবার নির্দেশ দিয়েছেন; কিন্তু কার্যকর হয়নি। তাই বাজেট বক্তৃতার একটি লাইনে কোনো বেশি সুফল আশা করা যায় না। সঠিক রোডম্যাপ থাকা জরুরি ছিল। অবশ্য বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এবার ব্যাংক মালিকদের হুশিয়ারি দিয়েছেন। ব্যাংকঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের বিকল্প হিসেবে মার্কেট ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সক্রিয় করার কথা বলা হয়েছে। তবে এটি কীভাবে এবং কবে থেকে দৃশ্যমান হবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বাজেটে। ফলে ব্যাংকিং খাতে যে তারল্য সংকট চলছে তা আদৌ দূর হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অবশ্য ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে বিশদ পরিকল্পনার কথা  এসেছে এবারের বাজেটে। এখানে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে। আগামী অর্থবছরে ২৮ হাজার ৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বর্তমান বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে ২৬ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অবকাঠামো খাতেই কেবল সুনির্দিষ্ট কিছু কথা বলা হয়েছে, যার সুবিধা সরাসরি বেসরকারি খাত পাবে। তবে এখানেও নতুন তেমন কোনো প্রকল্প আসেনি। চলমান প্রকল্পগুলোই অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজেটে একটি চমক হচ্ছে বেসরকারি খাতের অনেক বিষয় আলোচনায় এসেছে। তবে আরো ভালো হবে, যদি বেসরকারি খাতের জন্য যেসব সুবিধা দেওয়া হবে তা কীভাবে যাবে তা স্পষ্ট করা। এবার বাজেটে আবাসন খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়াতে সন্তুষ্ট এই খাতের ব্যবসায়ীরা।

সবার জন্য আবাসন, ‘কেউ থাকবে না গৃহহীন’ প্রধানমন্ত্রীর এই স্লোগান সামনে রেখে সরকার আগামী অর্থবছরে আবাসন খাতকে সামনে নিয়ে আসতে চায়। এজন্য এই খাতের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদীনের দাবি জমি ও ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ব্যয় কমানো হচ্ছে। উচ্চ স্ট্যাম্প ডিউটি ও নিবন্ধন ফি থাকার কারণে আবাসন খাত প্রায় দীর্ঘদিন ধরে স্থবির। এতে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, বাজেটে বেসরকারি খাতের জন্য সরকারের পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে। তবে এসব পরিকল্পনার জন্য পদক্ষেপ জরুরি। সেসব ব্যাপারে আরো স্পষ্ট কথা থাকা জরুরি। আশা করি, বাজেট চূড়ান্ত হওয়ার আগে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করবেন অর্থমন্ত্রী।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue