শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

প্রাথমিকের ১৬ হাজার স্কুলভবন ঝুঁকিপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২২ জুন ২০১৯, শনিবার ০১:১৪ পিএম

প্রাথমিকের ১৬ হাজার স্কুলভবন ঝুঁকিপূর্ণ

ঢাকা : রাজধানীসহ সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ হাজার ১০৬টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করছে শিশু শিক্ষার্থীরা। ভবনের পলেস্তরা ও বিম ভেঙে শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনার মধ্যেই এমন পাঠদান চলছে। নতুন করে যে কোনো সময় প্রাণহানির শঙ্কাও রয়েছে।

এ ছাড়াও অস্বস্তিকর পরিবেশে আরও ৩৯ হাজার ৬১৪টি জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস করতে বাধ্য করা হচ্ছে শিশুদের। এর মাঝেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, অতিঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পুরো পরিস্থিতির উত্তরণে প্রাথমিক ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের (পিডিপি-৪) আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে নির্মাণ ও মেরামতের কাজ চলছে।

মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ১ লাখ ৫ হাজার ৯৮১টি। এর মধ্যে ব্যবহার উপযোগী ভালো ভবন রয়েছে ৪১ হাজার ১৫১টি, নির্মাণাধীন ভবন ১ হাজার ৭৮২টি, জরাজীর্ণ ৩৯ হাজার ৬১৪টি, ঝুঁকিপূর্ণ ও জরুরি মেরামতযোগ্য ভবন ১৬ হাজার ১০৬টি এবং পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে সাত হাজার ৩২৮টি।

জানা যায়, রাজধানীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন মোট ৫৩৭টি। এসব ভবনের মধ্যে ব্যবহার উপযোগী ভালো বিদ্যালয় ভবন রয়েছে ১৯০টি, নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে ২০টি, জরাজীর্ণ ভবন ২৪৬টি, ঝুঁকিপূর্ণ ও জরুরি মেরামতযোগ্য ভবন ৬৬টি এবং পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে ১৫টি।

ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসার আলেয়া ফেরদৌসী শিখার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, রাজধানীতে ঝুঁকিপূর্ণ ও জরুরি মেরামতযোগ্য ভবন ৬৬টি। অধিক জরাজীর্ণ ভবন ১২টি। আর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ৭৮টি। এসব বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে। এলজিইডির মাধ্যমে ভবনগুলোতে মাঝেমধ্যে রং লাগিয়ে ক্লাস পরিচালনার ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হচ্ছে। বিকল্প ব্যবস্থা রাতারাতি করার মতো ব্যবস্থা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের না থাকায় শিক্ষকরাও বাধ্য হচ্ছেন ক্লাস নিতে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীসহ সারা দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন মেরামত ও দৃষ্টিনন্দন করার জন্য উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজধানীর উত্তরায় তিনটি ও পূর্বাচলের ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নতুনভাবে স্থাপন করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠান হবে দৃষ্টিনন্দন। রাজধানীর ৩৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৫টি প্রতিষ্ঠানের জন্য দুই হাজার ৯৭৫টি কক্ষ নতুনভাবে নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া, ১৭৭টি বিদ্যালয়ের এক হাজার ১৭৭টি কক্ষও দৃষ্টিনন্দন করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করা, শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটানো এবং দুই লাখ শিশুর জন্য শিশুবান্ধব শিক্ষা গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করা, বৈষম্য দূর করাসহ অন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর মাঝে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খবর জরাজীর্ণ থাকার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয় না বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তারা। আবার থানা শিক্ষা অফিসাররা জানান, তথ্য পাঠানো হলেও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উদাসীন। বিদ্যালয়ের কোনো বিষয়ে তাদের অবহিত করা হয় না, আবার জনপ্রতিনিধিরাও নিজ আগ্রহে স্কুলের ভালো-মন্দ জানতে চান না। আর ভবন নির্মাণ ও তদারকি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং এলজিইডির মধ্যে রয়েছে সমন্বয়হীনতা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিটি উপজেলায় ২০ থেকে ৪০ বিদ্যালয় জরাজীর্ণ।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিদ্যালয়) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিডিপি)-৩-এর আওতায় অনেক ভবন মেরামত করা হয়েছে। আর পিডিপি-৪-এর আওতায় বিদ্যালয় ভবন মেরামত ও নির্মাণকাজ চলছে। জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও ভবনের মেরামত ও নতুন ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে সমস্যা সমাধান করা হচ্ছে। তবে, এই কাজ করতে সময় লাগবে আগামী চার বছর।’

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন যেগুলো জরুরি মেরামত করা প্রয়োজন সেগুলো মেরামত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মেরামত কাজ চলছে। এলজিইডিরি সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করা হয়েছে।’ তারা নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, দেশের কোনো এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা কেমন তার তথ্য সংগ্রহ করেছি। কাজ চলছে। অতিদ্রুত এ তথ্য ডাটাবেজে যুক্ত করা হচ্ছে। এ চিত্র দেখেই স্কুল ভবনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ অতি জরুরি।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue