সোমবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসছে পূর্ণমন্ত্রী!

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শুক্রবার ১২:১১ পিএম

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসছে পূর্ণমন্ত্রী!

ঢাকা: মন্ত্রিসভার তিন সদস্যের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদকে গণপূর্ত এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরুকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পুনর্বণ্টনসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ এর রুল ৩(৪) অনুযায়ী এসব মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে।

এদিকে মন্ত্রিসভায় শিগগিরই আরও বড় ধরনের পরিবর্তন হতে পারে- এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একাধিক নীতিনির্ধারক। তাদের মতে- নতুন বছরের শুরু থেকেই মন্ত্রিসভা রদবদলের চিন্তা ছিল সরকার প্রধানের। দলের জাতীয় কাউন্সিল পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ কমিটি, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন, মুজিববর্ষের ক্ষণগণনাসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু কর্মসূচির জন্য এতদিন তা হয়ে ওঠেনি। ১৭ মার্চের আগেই কলেবর বৃদ্ধি ও নতুন মুখসহ একটি বড় মন্ত্রিসভা আসতে পারে।

মন্ত্রিসভায় হঠাৎ দায়িত্ব পুনর্বণ্টন কেন?- তা নিয়ে এখন আলোচনা সর্বত্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে- কোনো এক অনুযোগ, অভিযোগ ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণেই দফতর বদল করা হতে পারে।

ডিসেম্বরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের অনেকেই বলেছিলেন- নতুন বছরের শুরুতেই মন্ত্রিসভার রদবদল হতে পারে। তাদের কয়েকজন বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে প্রায় অভিন্ন তথ্য দিয়ে বলেন, সরকার ও দলকে আলাদা করার অংশ হিসেবেই এ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভায় থাকা ৯ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন। দলের প্রতি নিবেদিত এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তিসম্পন্ন যেসব নেতা কোনো পদ পাননি, তাদের মন্ত্রিসভায় বিবেচনা করা হবে।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের হঠাৎ দফতর পুনর্বণ্টন নিয়ে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেকের ধারণা- দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণেও নিজ দফতর থেকে কাউকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হতে পারে। তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া এক মন্ত্রীর দিকে ইঙ্গিত করে তারা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ঝামেলার কথা শুনে আসছি। সম্ভবত এমন কোনো অসঙ্গতি থেকেই এটা করা হয়েছে। না হলে এ মুহূর্তে হঠাৎ করে মাত্র তিনটি দফতর পুনর্বণ্টন আলোচনায় আনার মতো কিছু ছিল না।

আওয়ামী লীগের একজন উচ্চপর্যায়ের নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মন্ত্রিসভায় একটি বড় পরিবর্তনের আভাস চলছে দীর্ঘদিন থেকেই। এটা যে কোনো মুহূর্তেই ঘোষণা হতে পারে। তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দফতর পুনর্বণ্টনের সঙ্গে সেই বড় পরিবর্তনের সম্পর্ক নেই। সেখানে মন্ত্রিসভার আকার বাড়তে পারে। এ সংখ্যা বেড়ে ৪৮ থেকে ৫৮ পর্যন্ত হতে পারে। সেখানে আসতে পারে একাধিক নতুন মুখ, যারা আগে কখনও মন্ত্রিসভায় ছিলেন না।

পাশাপাশি আগে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন- এমন নেতাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। দফতর পরিবর্তন হতে পারে বর্তমান মন্ত্রিসভার কোনো কোনো সদস্যের। এছাড়া কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর পদোন্নতি হতে পারে, যাদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দলীয় কোনো পদে রাখা হয়নি।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৭ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। নতুন মন্ত্রিসভায় ১৯ মে প্রথমবারের মতো স্বল্পপরিসরে পুনর্বিন্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে কাউকে সংযুক্ত কিংবা বাদ দেয়া হয়নি। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মো. মুরাদ হাসানকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী পদে স্থানান্তর করা হয়।

এছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মধ্যকার বিভাগ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এরপর দ্বিতীয়বার ১৩ জুলাই মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পদোন্নতি দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিকমন্ত্রী হিসেবে ইমরান আহমেদ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরাকে নতুন অন্তর্ভুক্তি করেন তিনি। এ নিয়ে বর্তমান মন্ত্রিসভায় সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৮।

এদিকে কম গুরুত্বপূর্ণ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন শরীফ আহমেদ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে- দফতর পুনর্বণ্টনে তিনজনের মধ্যে পদোন্নতি হয়েছে শরীফ আহমেদের। তিনি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এটা তার কাজের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টির উপহার।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসন থেকে পরপর দু’বারের সংসদ সদস্য শরীফ আহমেদ। ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার পিতা ভাষাসৈনিক মরহুম এম শামছুল হক একই আসনে ৫ বার সংসদ সদস্য ও একবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১৯৭০ সালের ২৫ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন শরীফ আহমেদ। তিনি ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৯৭ সালে আনন্দ মোহন কলেজ ময়মনসিংহ থেকে ইতিহাসে বিএ পাস করেন। পারিবারিক জীবনে তিনি শেফালী বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাদের ঘরে ওয়াসেক আহমেদ ও তাসফিয়া আহমেদ নামে দুই ছেলেমেয়ে আছে।

৪৮ সদস্যবিশিষ্ট বর্তমান মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী ২৫, প্রতিমন্ত্রী ১৯ ও উপমন্ত্রী ৩ জন রয়েছেন।

এ মুহূর্তে আটটি মন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রী নেই। সেগুলো হচ্ছে- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

পূর্ণমন্ত্রী নেই এসব মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী হিসেবে কেউ নিয়োগ পান কিনা সেটা নিয়েও চলছে বিস্তর আলোচনা।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে আছে জনপ্রশাসন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। এসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন মন্ত্রিসভায় যারা নতুন যোগ হবেন অথবা যারা পদোন্নতি পাবেন।

সোনালীনিউজ/এইচএন