শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬

প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ নিয়ে যে নির্দেশনা দিলেন সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২০, সোমবার ০১:৪২ পিএম

প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ নিয়ে যে নির্দেশনা দিলেন সচিব

ঢাকা: করোনাভাইরাস থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখতে সাময়িকভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার (১৬ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন।

সচিব বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বুধবার (১৮ মার্চ) থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। ১৭ মার্চ সাধারণ ছুটি হওয়ায় ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, আমাদের সন্তানদের সুস্থ রাখাটাই প্রধান দায়িত্ব। তারা সুস্থ থাকলে আমাদের প্রতিষ্ঠান চলবে। করোনাভাইরাস থেকে খুদে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাখতে সাময়িকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে।

সাময়িকভাবে কিছুদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে বর্তমান করোনাভাইরাস আতঙ্ক স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে মনে করেন সচিব আকরাম আল হোসেন। তিনি বলেন, উল্লেখিত সময়ের পর আবারো আগের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে ও স্বাভাবিকভাবে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু করা হবে।

দুপুরের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন সচিব আকরাম আল হোসেন।

স্কলাস্টিকা স্কুল ১৮-২৮ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ : আগামী ১৮ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত রাজধানীর স্কলাস্টিকা স্কুলে ছুটির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ঘোষণা করে ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছে মেইল পাঠানো হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) পাঠানো স্কুলের পক্ষ থেকে এটিকে বসন্তকালীন ছুটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। করোনার কারণে বিভিন্ন মহল থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের দাবি উঠলেও সরকারের তরফ থেকে এখনো তেমন কোনো ঘোষণা আসেনি।

করোনাভাইরাসের কারণে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে নিজ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী জানান, দেশে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ২ জনের পরিস্থিতি বর্তমানে ভালো।

এদিকে, করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। 

ওই রিটে দেশের স্থল ও নৌবন্দর বন্ধের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক অতিরিক্ত সচিব শনিবার বলেন, যেকোনো ভাবেই শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদে রাখা হবে। এজন্য যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করতে হয় তা-ও করা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ কর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এরপরও একধরনের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। ঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের চিন্তাভাবনা চলছে। আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন শনিবার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে করোনাভাইরাস থেকে আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাখতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। শিক্ষকদের মাধ্যমে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। আতঙ্ক না ছড়িয়ে সবাইকে সচেতন করে তুলতে শিক্ষকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

‘যেহেতু এখনও জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি, তেমন পরিস্থিতি হলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হবে। শিক্ষার্থীদের কীভাবে আরও বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।’

এদিকে শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক পর্যায়ে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে ভাববে সরকার। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি গ্রহণে কোনো ঘাটতি নেই বলেও জানান তিনি।

করোনাভাইরাসকে ইতোমধ্যে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সারাবিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে এ ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। মৃতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪৩৬। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দেড় লাখের কাছাকাছি।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশে তিনজন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। তিনজনই বর্তমানে সুস্থ। দুজন বাড়ি ফিরে গেছেন। অর্থাৎ বর্তমানে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী নেই।

সোনালীনিউজ/টিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue