বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোচিং করান নৈশপ্রহরী!

বগুড়া প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৯, সোমবার ০৮:৩৩ পিএম

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোচিং করান নৈশপ্রহরী!

ছবি : সোনালীনিউজ

বগুড়া : জেলার শেরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নানা অনিয়ম নৈরাজ্য চলছেই। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় ভেস্তে যেতে বসেছে প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে। শেরপুরে শিক্ষকদের পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষেই কোচিং করাচ্ছেন দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের টাকাধুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে নিষিদ্ধ গাইড বই সহকারে কোচিং করাচ্ছেন দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী মো. আসাদ। এ সময় গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দিলে তিনি বলেন, ম্যাডামদের অনুরোধে আমি কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে পড়াই।

একই চিত্র দেখা গেছে সুঘাট ইউনিয়নের ক্ষিদিরহাসড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। সেখানে কোচিং করান বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী সুমন। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোখলেছুর রহমান জানান, এটা যদি আইনে নিষিদ্ধ হয় তাহলে সে আর পড়াবে না।

শুধু কোচিং বাণিজ্যই নয় কিছু কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসও নেন দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরীরা। উপজেলার বেলঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী ক্লাস নেবার কথা স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া কিছু কিছু বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরীরা সঠিক দায়িত্ব পালন করেন না বলে অভিযোগও রয়েছে। তারা ছাড়াও কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত শ্রেণীকক্ষে স্কুল সময়ের আগে ও পড়ে কোচিং বাণিজ্য চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এসবের পেছনে রয়েছে উপজেলার কতিপয় অসাধু শিক্ষা কর্মকর্তার কারসাজি।

যারা বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে এ সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি দেখেও দেখেন না। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম জানান, বিদ্যালয়ে কোচিং করানো নৈশপ্রহরীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

প্রাথমিক শিক্ষার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এইচএআর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue