শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে অগোছালো কিছু কথা এবং স্পষ্ট কষ্ট কথনমালা

মাহবুব আলম | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার ১২:৩০ পিএম

প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে অগোছালো কিছু কথা এবং স্পষ্ট কষ্ট কথনমালা

শিক্ষকগণ কাজ করতে করতে শ্রেণিকক্ষে মৃত্যুর কাছে হার মানে । কিন্তু শিক্ষকদের সাধারণ চাওয়া পূর্ণ হয় না। কিছুদিন আগে আমাদের মনোহরদী, নরসিংদীতেও আব্দুর রহিম স্যার শ্রেণিকক্ষে হার মানেন মৃত্যুর কাছে। এখন অহরহ খবর আসে প্রাথমিক শিক্ষকগণ স্ট্রোক করে, হার্ট ফেইলুরে মৃত্যু বরণ করেন। এগুলোর একটা অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে শিক্ষকদের উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ।

কিন্তু এতো কাজ করেও শিক্ষকগণ তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী । তাঁদের বেতন-মর্যাদা বৃদ্ধি পায় না। তাঁরা আন্দোলনে গেলে খেতে হয় পুলিশের পিটুনি , কপালে জুটে শোকজ, বন্ধের দিন শিক্ষকগণ আন্দোলনে গেলো আর কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে পরিপত্র জারি করলো । এহেন আচরণ দেখে আমাদের বুঝতে বাকি থাকে না কর্তৃপক্ষ আমাদের কতটুকু ভালোবাসে। আবার সম্মানিত কেউ যখন অপমান করে মাস্টার বলে তখন তো বোঝা যায় আমরা কাদের অধীনে চাকরি করি! আমরা যতই আন্দোলন করি কাজ হবে না । কারণ মার চেয়ে মাসি কখনও আপন হয় না। তাই প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার যতদিন চালু না হচ্ছে ততদিন যেই লাউ সেই কদু অবস্থা বজায় থাকবে। কারণ প্রাথমিক শিক্ষায় নেই সমন্বিত গ্রেডেশন ।

ভাবা যায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিফিন বিরতি ত্রিশ মিনিট। এই সময়ে শিক্ষার্থী মায়ের দেওয়া খাবারে মিডডে মিল খাবে আর খেলবে। শিক্ষকগণের কথা বাদ দিলাম । তাঁরা তো রোবট । ত্রিশ মিনিটে ছয় টাকার টিফিন করবে আর নামাজ পড়বে! দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে । কিন্তু এই গতি টিকিয়ে রাখতে যে সকল নাগরিক ভবিষ্যতে ভুমিকা রাখবে তাদের জন্য শিশুবিকাশ উপযোগী সময়সূচি দিচ্ছি না।

বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট প্রকট অথচ শিক্ষক সংকট না কমিয়ে প্রশাসনিক আরেকটা পদ সৃষ্টির জোর চেষ্টা চলছে । পর্যাপ্ত সহকারী শিক্ষক না থাকলে কীভাবে বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন কার্যক্রম সবল হবে। পাঁচশো, ছয়শো কিংবা এক হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচ, ছয় অথবা আটজন শিক্ষক কীভাবে মান-সম্মত শিক্ষার ঝাণ্ডা উড়াবে এটা খুবই কৌতুকের বিষয় । পর্যাপ্ত সহকারী শিক্ষক না থাকলে শিখন-শিখানো কাজে গতি আসবে না। আর সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড অন্ততঃ এগারো না করলে জোয়ার আসবে না প্রাথমিক শিক্ষায়। প্রতি উপজেলার দশ/বিশজন অতিরিক্ত আন্তরিক শিক্ষক দ্বারা মান-সম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত হবে না।
তাই কর্তৃপক্ষের এসব বিষয়ে নজর দিতেই হবে মান-সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে। শিক্ষা গুরুর মর্যাদা শুধু কথায় রাখলে চলবে না , যথাযথ বেতন গ্রেড দিয়ে তা নিশ্চিত করতে হবে।
আমাদের মানসিকতা তৈরি হোক প্রাথমিক শিক্ষা গুরুর প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে । নিজে শিক্ষা গুরু থেকে কয়েক গুণ বেশি বেতন ড্র করে মুখে মর্যাদার ফেনা তুলবেন শিক্ষকদের নিয়ে; তা কিন্তু নৈতিকতার বরখেলাপ।

অবশেষে শিক্ষক নেতাদের বলবো , আপনারা আগে শিক্ষক, পরে নেতা, তাও শিক্ষক নেতা। দয়া করে ইগো ছেড়ে এক কাতারে আসেন এবং দাবি আদায়ে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মতকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব উপহার দিন।

(ফেসবুক থেকে নেওয়া)

সোনালীনিউজ/এইচএন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue