সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন

প্রিয়া সাহার নালিশে ‘বিশেষ মতলব’ 

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার ০৩:৩৯ পিএম

প্রিয়া সাহার নালিশে ‘বিশেষ মতলব’ 

ঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, সংখ্যালঘু হিন্দুদের কথিত নিপীড়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার বক্তব্যে বিশেষ মতলব রয়েছে। 

শুক্রবার (১৯ জুলাই) হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এক সমাবেশে যোগ দিয়ে লন্ডন রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যে অভিযোগ করেছেন, তা একেবারেই মিথ্যা। বিশেষ মতলবে এমন উদ্ভট কথা বলেছেন তিনি।”

এ কে আবদুল মোমেন বলেন, “আমি এমন আচরণের নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যে অভিযোগ করেছেন, তা একেবারেই মিথ্যা। বিশেষ মতলবে এমন উদ্ভট কথা বলেছেন তিনি।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে সরকারি কর্মচারীদের ২৫ শতাংশ হচ্ছে ধর্মীয়ভাবে সংখ্যালঘু, যদিও তারা মোট জনসংখ্যার ১২ শতাংশ। এ ধরনের অভিযোগে প্রকারান্তরে শান্তিপূর্ণ সমাজে বিশৃঙ্খলা উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তা কখনো হতে দেবে না।''

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ট্রাম্পকে দেওয়া প্রিয়া সাহার নালিশের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের উদ্দেশ্যেই প্রিয়া সাহা এ ধরনের বানোয়াট ও কল্পিত অভিযোগ করেছেন।”

উল্লেখ্য, গত বুধবার হোয়াইট হাউসে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে তোলপাড় চলছে। সেখানে আমন্ত্রিত চীন, তুরস্ক, উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমারসহ ১৬টি দেশে সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের শিকার একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কথা বলছিলেন ট্রাম্প।

প্রিয়া সাহা নামের এক নারী নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে বলেন, “স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানকার ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ‘নিখোঁজ’ হয়ে গেছে। দয়া করে বাংলাদেশি জনগণকে সাহায্য করুন। আমরা দেশ ছাড়তে চাই না, থাকতে চাই।”

এ সময় ট্রাম্প বলেন, “বাংলাদেশ?” জবাবে হ্যাঁ সূচক জবাব দিয়ে ওই বাংলাদেশি নারী আরও বলেন, “এখনো সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ থাকে। আমার অনুরোধ, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা দেশ ছাড়তে চাই না। সেখানে থাকতে আমাদের সহযোগিতা করুন। আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি। তারা বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। আমার জমি ছিনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু কোনো বিচার হয়নি।”

তখন ট্রাম্প জিজ্ঞাসা করেন, “কে জমি নিয়ে গেছে?” উত্তরে প্রিয়া সাহা বলেন, “মুসলিম মৌলবাদী সংগঠনগুলো। তারা সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে আসছে।”

এদিকে, যুক্ত রাষ্ট্রভিত্তিক এবিসি নিউজের একটি ভিডি প্রিয়া সাহার কথোপকথনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে এ নিয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের সমালোচনা-আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ভিডিও কেন্দ্র করে নানা মন্তব্য করেন অনেকেই।

আর এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে প্রিয়া সাহার করা মন্তব্য খতিয়ে দেখার ঘোষণা দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।তিনি বলেন, “তিনি (প্রিয়া সাহা) কেন এটা করলেন তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রিয়ার অভিযোগগুলোও সরকার শুনবে এবং খতিয়ে দেখবে।”

সোনালীনিউজ/এমএএইচ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue