শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫

প্রেমের টানে ৩ বছরে বাংলাদেশে ১৫ বিদেশিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার ০২:১৬ পিএম

প্রেমের টানে ৩ বছরে বাংলাদেশে ১৫ বিদেশিনী

ঢাকা: প্রেম মানে না জাতী, ধর্ম, বর্ণ, দেশ ও কাঁটাতারের বাধা। প্রেমের টানে গত ৩ বছরে অন্তত ১৫জন বিদেশী নারী ছুটে এসেছেন বাংলাদেশে। চলুন জেনে নেই তারা কারা? কী কারণে, কাকে ভালোবেসে ছুটে এলেন সব কিছু ছেড়েছুড়ে?

বরিশালের রংমিস্ত্রীর প্রেমে ছুটে এলো যুক্তরাষ্ট্রের তরুণী
গত ১৯ নভেম্বর সুদূর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রেমের টানে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন এক তরুণী। শুধু ভালোবাসার জন্য সব কিছু তুচ্ছ করে হাজার হাজার মাইল উড়ে আসা নারীটির নাম সারা। তিনি এসে নিজের জীবন সূতোয় বেঁধে নিলেন প্রেমিক অপুকে।

পেশায় রংমিস্ত্রি অপুর বাড়ি বরিশাল শহরে। বরিশালের এই যুবকের সাথে সারার পরিচয় ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর ফেসবুকে একটি বিতর্ক (ডিবেট) গ্রুপের মাধ্যমে। সেই থেকে নিয়মিত যোগাযোগ। ভিডিও চ্যাটিং।

বিয়ে করতে অপু যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় কয়েক মাস ধরে ভিসা প্রসেসিং শেষে বাংলাদেশে এলো সারা নিজেই।

সারা মেকিয়েন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। অপুও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। বাঙালি রীতি মেনে গত বুধবার গাঁয়ে হলুদ এবং আংটি পরিধানসহ বিয়ের নানা আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার মাধ্যমে পরস্পরকে একান্ত আপন করে পাওয়ার সকল বাধা ঘোচান তাঁরা।

সারা শুধু অপুকে ভালোবেসেই ক্ষান্ত হননি। ইতোমধ্যে শিখে নিয়েছেন বাংলা ভাষাও।

থাইল্যান্ড থেকে নাটোর
থাই-কন্যা সুফিয়া নাটোরে ছুটে এসে বিয়ে করেন বাংলাদেশের অনীক খানকে । সুপুত্তো ওরফে সুফিয়া খাতুন গণমাধ্যমে বলেন, ‘থাইল্যান্ডের সমাজে বহু বিবাহ একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি এটা পছন্দ করি না। তাই বিয়ে করছিলাম না। হঠাৎ করে ফেসবুকে বাংলাদেশের অনীকের সঙ্গে পরিচয় হয়। ওর সরলতা আমাকে মুগ্ধ করে। ধীরে ধীরে ওর প্রতি আমার আস্থা জন্মেছে। আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি।

ওকে আপন করে নেওয়ার জন্য বারবার এ দেশে ছুটে এসেছি। এবার সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। বিয়ে করে আমি এখন দারুণ সুখী।’ ৩৬ বছর বয়সী সুপুত্তো পড়াশোনা শেষ করে প্রথমে ব্যাংকে চাকরি করতেন। চাকরি ছেড়ে দিয়ে এখন ফাস্ট ফুডের ব্যবসা করেন। ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশের ২২ বছরের তরুণ অনীক খানের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পোল্যান্ড থেকে রাজারবাগ
ক্যাটরিনা স্যান্ড্রা পোল্যান্ডের অধিবাসী। চাকরির সুবাদে আছেন লন্ডনে। বাবা মারা গেছেন। মা থাকেন পোল্যান্ডে। তার সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় ছেলেটি বাংলাদেশ থেকে লন্ডরে পড়তে আসা শামীম আহমদের সঙ্গে। তার পৈতৃক বাড়ি রাজারবাগ। বাবা সরকারি চাকরিজীবী। শামীম লন্ডনে পড়াশোনা করতে গিয়েছিল। সেখানে থাকা অবস্থাতেই এফবিতে পরিচয় হয় ক্যাটরিনার সঙ্গে। তারা শুধুই বন্ধু, তখনো কেউ কাউকেই দেখেনি।

এদিকে শামীমের জন্য লন্ডনে এইভাবে লুকিয়ে থাকা বিনা চাকরিতে আর সম্ভব হচ্ছিল না তাই সে দেশে ফেরার জন্য ওখানকার পুলিশের কাছে ধরা দেয়। এরপর ক্যারিনার চেষ্টাতে শামীমকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কথা ছিল ক্যাটরিনা স্যান্ড্রা বাংলাদেশে আসবে জুলাইয়ের ১ তারিখ। কিন্তু তখন না আসায় সবাই ভেবেছিল ক্যাটরিনা আর আসবে না। কিন্তু এ বছর আগস্টে বাংলাদেশে চলে আসেন তিনি। শামীমের সঙ্গে ক্যাটরিনা স্যান্ড্রার বিয়ে হয় মুসলমান রীতিতে। বিয়ের আগে স্যান্ড্রা নিজের ইচ্ছায় মুসলমান হন।

অস্ট্রেলিয়া থেকে বরিশাল
প্রেমের টানে সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে সপরিবারে বরিশালে এসে ধর্মান্তরিত হয়ে প্রেমিককে বিয়ে করার অনন্য নজির স্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণী এমিলি পার। মনের মানুষকে পেতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বরিশালের সাইদুল আলম রুমানের স্ত্রী এমিলি পার এখন এমিলি আলম।

অস্ট্রেলিয়া থেকে মাগুরায়
অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সুবাদে বাংলাদেশি কাজী মারুফুজ্জামান চন্দনের সঙ্গে অস্ট্রেলীয় নারী ক্যাথির পরিচয়। পরিচয় থেকে প্রেম এবং প্রেমের টানেই সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে মাগুরায় এসে সংসার পেতেছেন আসান ক্যাথরিনা নামের এই নারী। মাগুরা শহরের কাজী মারুফুজ্জামান চন্দনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই নারী। মেলবোর্নের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী। পারিবারিকভাবে সবাই তাকে ক্যাথি বলেই ডাকে। ইতিমধ্যে আনন্দঘন পরিবেশে তারা বধূবরণ অনুষ্ঠানও সেরেছেন। ক্যাথরিনা বলেন, ‘এদেশে এসে আমি খুব খুশি হয়েছি।’

মালয়েশিয়া থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়
ভালোবাসার জন্য মালয়েশিয়ার মেয়ে ফাতেমা বাংলাদেশে আসেন। আশিকুর রহমান আশিকের সঙ্গে মালয়েশিয়ান তরুণী ফাতেমা হাজির হন ঢাকা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট মাহবুব হাসান রানার চেম্বারে বিয়ের উদ্দেশে। আশিকের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার মন্দিবাগে। ফাতেমাকে সেখানেও নিয়ে যায় আশিক। ফাতেমা কুয়ালালামপুরের একটি কলেজের ছাত্রী। ৮ বছর আগে তিনি মালয়েশিয়া যান কাজের সন্ধানে। ২০১৩ সালে তার সঙ্গে ফাতেমার পরিচয় হয়।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঝিনাইদহে
ভালোবাসার টানে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রাখালগাছী গ্রামে মিঠুন বিশ্বাসের বাড়িতে ছুটে আসেন মার্কিন তরুণী এলিজাবেথ এসলিক। বাংলাদেশ আর যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক দূরত্ব ঘুচিয়ে, প্রেমের সাগরে ডুবে যুগলবন্দী হয়েছেন তারা।

ওয়াশিংটনে থাকেন এলিজাবেথের বাবা রয় এসলিক ও মা সনিয়া এসলিক। পরিবারে আরও দুই ভাই আছে। ১৯৯৭ সালের ৭ জুলাই জন্ম তার। আর মিঠুন একটি এনজিওতে কাজ করেন। এর আগে দেড় বছর সিঙ্গাপুরে ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালের মে মাসে ফেসবুকের মাধ্যমে মিঠুন ও এলিজাবেথের পরিচয় হয়। আড়াই বছরের সম্পর্কের পর তারা সিদ্ধান্ত বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। এতে মিঠুনের পরিবার কোনো আপত্তি না জানালেও এলিজাবেথের পরিবার বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

আয়ারল্যান্ডে থেকে সিলেটে
ভালোবাসার টানে সুদূর আয়ারল্যান্ড থেকে বিয়ানীবাজারে ছুটে আসেন ডা. ইফা রায়ান। যথারীতি বাঙালি নারীর বেশেই লাল বেনারসি শাড়ি পরে বসেন বিয়ের পিঁড়িতে। সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ঘুঙ্গাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা তাজউদ্দিনের পুত্র মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে তার এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে আয়ারল্যান্ড থেকে আসেন ইফার মা ক্যাটরিনা রায়ান, বাবা জন রায়ান ও ভাই অউন রায়ান। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা ও আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, ২০০৯ সালের আয়ারল্যান্ডে যাওয়ার পর ডা. ইফা রায়ানের সঙ্গে পরিচয় ঘটে তার।

ব্রাজিল থেকে রাজবাড়ী
ব্রাজিল কন্যা জেইসা ওলিভেরিয়া সিলভার সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় অতঃপর প্রেম হয় রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সঞ্জয়ের। ভালোবাসার টানে সিলভা ব্রাজিল থেকে চলে আসেন প্রেমিকের বাড়িতে। এর আগে প্রায় দেড় বছর ধরে ফেসবুকে চলত তাদের যোগাযোগ। ওলিভেরিয়া সিলভা ব্রাজিলের সাওপাউলোর বাসিন্দা। তিনি সেখানে সরকারি চাকরি করেন।

অন্যদিকে সঞ্জয় ঘোষ রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের বাজার এলাকার বালাই ঘোষের ছেলে। সঞ্জয় শ্যামলী পরিবহনের ঢাকা-কলকাতা সার্ভিসে কর্মরত বলে জানা যায়।

মালয়েশিয়া থেকে টাঙ্গাইল
ফেসবুকে পরিচয়। ছয় মাস ধরে কথা বলতে বলতে প্রেম। অবশেষে এক মাসের ভ্রমণ ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে চলে আসেন মালয়েশিয়ান তরুণী জুলিজা।

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কলেজপড়ুয়া মনিরুল ইসলাম ভালোবাসার মানুষটিকে স্বাগত জানাতে মা-বাবা ও বোনদের নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজির হয়ে জুলিজাকে স্বাগত জানান।

জুলিজা বয়স ২২ বছর আর তার বাবার নাম কামিস। জুলিজা গণমাধ্যমে জানান, তিনি পড়াশোনা শেষ করে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বাবার বেকারির ব্যবসা পরিচালনা করেন। তিনি আরও জানান, ‘মনিরুলের কাছে এ দেশের প্রকৃতি সম্পর্কে জেনেছি। বাংলাদেশ ও মনিরুলকে দারুণ পছন্দ হয়েছে আমার। আমি খুব খুশি।’

রাশিয়া থেকে শেরপুর
শেরপুরে ছুটে আসেন রাশিয়ান এক তরুণী। প্রেমিকের নাম ধর্মকান্ত সরকার। রাশিয়ান ওই তরুণীর নাম সিভেতলেনা। ধর্মকান্ত সরকার শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সন্ন্যাসীভিটা গ্রামের ধীরেন্দ্র কান্ত সরকারের ছেলে। সনাতন ধর্ম মতে যজ্ঞ সম্পাদন করে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

১৯৯৭ সালে এইচএসসি পাসের পর উচ্চশিক্ষার জন্য ধর্মকান্ত সরকার চলে যান রাশিয়ায়। ভর্তি হন মস্কোর আছরাখান টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে। ধর্মকান্ত সরকার রাশিয়া থাকতেই তাদের মাঝে পরিচয়, অতঃপর প্রেম এবং পরিণয়।

ভিয়েতনাম থেকে চাঁদপুর
প্রেমের টানে বাংলাদেশে আসেন ভিয়েতনামী তরুণী। প্রেমিক চাঁদপুরের যুবক আলমগীর। তার বয়স ৩৫। প্রেমিকা টিউ থিতু। তার বয়স ৩০। ভিয়েতনামী এই কন্যা বাংলাদেশি যুবক আলমগীরকে ভালোবেসে এদেশে সংসার পেতেছেন। ভালোবাসার সূচনা হয়েছিল মালয়েশিয়ায়। আর এর বাস্তবে পরিণতি ঘটে বাংলাদেশের মাটিতে।

ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে বাকান থানার ওয়েন তোং মহল্লায় টিউ থিতুর জন্ম। সেখানে বাবা মৃত চি ইউ তাই আর মা টিউ থিতু নিয়াত ও ৪ ভাই, ৩ বোনের মাঝে থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা শেষ করেন তিনি।

ব্রাজিল থেকে হবিগঞ্জে
সুদূর ব্রাজিল থেকে চলে এসেছেন এক নারী। ব্রাজিল থেকে আসা নারী মাঝবয়সী। ৪৭ বছর বয়সী ওই নারীর নাম সেওমা বিজেরা। সব বাধা পেরিয়ে পা রেখেছেন হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হালিতলা বারৈইকান্দি গ্রামে। গ্রামের আসকান উদ্দিনের বড় ছেলে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের মার্স্টাস শেষ বর্ষের ছাত্র মো. আব্দুর রকিবের সাথে।

আব্দুর রকিব ও সেওমা বিয়েও সেড়ে ফেলেন। ফেইসবুকে সেওমার আইডিতে লাইক দেন রাকিব। সেওমাও তাকে লাইক দেন। এভাবেই শুরু। এভাবে চলতে চলতে এক পর্যায়ে তাদের টেক্সট বিনিময় থেকে শুরু প্রায় প্রতিদিনই তাদের কথা হতো। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসের ১ম দিকে সেওমা ব্রাজিলে বাংলাদেশের দূতাবাসে গিয়ে ভিসা সংগ্রহ করেন। ৯ মাস পর অবশেষে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশের হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসেন।

ইসলাম ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী ২ লাখ টাকার কাবিন রেজিস্ট্রি করেও বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। আব্দুর রকিব বলেন, ‘ফেসবুকের সূত্রেই আমাদের পরিচয় ও প্রেম। শেষ পর্যন্ত এখন আমরা সুখে-শান্তিতে সংসার করছি। সেওমা বাংলা বলতে শিখছে। রকিবের পরিবারের সকল সদস্য এখন খুবই খুশি।’

সেওমার আগেও বিয়ে হয়েছে। ওই সংসারে ৩ সন্তানও রয়েছে। ২৬ বছর বয়সী রকিবের কাছে প্রশ্ন ছিল- ৪৭ বয়সের ব্রাজিলিয়ান নারীর সাথে প্রেম করে বিয়ে করেছেন, কোন উদ্দেশ্য আছে কি না। উত্তরে রকিব জানান, সত্য ভালবাসায় বয়স কোন ব্যাপারই না।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এআই