বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উদ্যোগ জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, সোমবার ০১:৪৮ পিএম

প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উদ্যোগ জরুরি

ঢাকা : প্লাস্টিক বোতলকে টুকরা করে রফতানি করতে গড়ে উঠেছে একটি শিল্প খাত। দেশে এখন এ ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান আছে প্রায় দুই হাজার। যদিও সরাসরি রফতানি করে মাত্র ৫০-৬০টি প্রতিষ্ঠান। এ খাতে দেশে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। প্রতিবছর এক থেকে দেড় হাজার টন প্লাস্টিকের গুঁড়া উৎপন্ন হয় এবং উৎপাদিত প্লাস্টিকের গুঁড়া বিদেশে রফতানি করে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়।

একটি প্লাস্টিকের গুঁড়া কারখানা স্থাপন করতে চার-পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হয়। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে চীন, কোরিয়া, ভিয়েতনামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্লাস্টিকের এ গুঁড়া দিয়ে উন্নত মানের প্লাস্টিকের সুতা তৈরি করা হয়। এ সুতা আবার আমাদের দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানার জন্য আমদানি করা হচ্ছে।

এদিকে এসব প্লাস্টিক বর্জ্য পদার্থ থেকে জ্বালানি তেল তৈরি হবে বলেও জানা গেছে। এই জ্বালানি তেল উদ্ভাবন যন্ত্র আবিষ্কার করেছে দিনাজপুরের এক ছাত্র। তবে প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের ইমনের গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন সরকারি সহযোগিতা। আর এর বাস্তব রূপ পেলে পরিবেশের ভারসাম্যের পাশাপাশি মিটবে জ্বালানি চাহিদা। এসবেই সুযোগ ও সম্ভাবনার শেষ নয়। প্লাস্টিক বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার করে ভবন নির্মাণও সম্ভব! সম্প্রতি কলম্বিয়ান স্থপতি অস্কার মেন্ডেজ প্লাস্টিকের বর্জ্যকে ফেলনা না ভেবে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবন নির্মাণের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করছেন। যে উদ্যোগ বাংলাদেশেও নেওয়া যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, ইক্যুইটি অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনারশিপ ফান্ডের (ইইএফ) মাধ্যমে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) কয়েকটি খাতকে সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে থাকে। এ তহবিল থেকে বোতলের টুকরা শিল্প খাতকেও অর্থসহায়তা দেওয়া যেতে পারে। দেশের সর্বত্রই ব্যবহার হচ্ছে প্লাস্টিকের বিভিন্ন রকমের সামগ্রী। এসব প্লাস্টিকের কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। যেমন, প্লাস্টিক কয়েক শ বছরেও পচে বিনষ্ট হয় না, প্লাস্টিক অনবায়নযোগ্য। প্লাস্টিক জলাবদ্ধতা সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ; এটি মাটির উর্বরতা বিনষ্ট  করে এবং জলজ ও সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটায়।

এমন বাস্তবতায় সুখবর হচ্ছে ওয়েস্টেজ প্লাস্টিক সামগ্রী এখন আর ফেলনা নয়। এসব সামগ্রীর এখন যথেষ্ট চাহিদা ও মূল্য রয়েছে। প্রতি কেজি প্লাস্টিকের বোতলের দাম হিসেবে তারা পায় ৩৫-৪০ টাকা। প্লাস্টিক সামগ্রী দিয়ে প্লাস্টিকের পাইপ তৈরি হচ্ছে এবং প্লাস্টিকের বোতলের গুঁড়া রফতানি করা হচ্ছে বিদেশে।

এদিকে ২০৫০ সালের মধ্যে বর্জ্য ৭০ ভাগ বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বজুড়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, ত্বরিত ব্যবস্থা না নিলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে বর্জ্যের পরিমাণ ৭০ ভাগ বৃদ্ধি পাবে। বর্জ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘হোয়াট আ ওয়াস্ট ২.০: আ গ্লোবাল স্ন্যাপশট অব সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট টু ২০৫০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে এর পরিমাণ গড়ে ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন টনে পৌঁছাবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্লাস্টিক বড় সমস্যা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক যথাযথভাবে সংগ্রহ করা হয় না বলে পানিসহ পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। শুধু ২০১৬ সালে বিশ্বে ২৪ কোটি ২০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়েছে, যা কঠিন বর্জ্যের ১২ শতাংশের মতো। প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, পুনঃপ্রক্রিয়া করা যায় এমনভাবে ডিজাইন করা হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসবে।

প্লাস্টিক বর্জ্যের ব্যাপারে অনেক আগেই কথা শুরু হয়েছে। এখন ই-বর্জ্যের বিষয়টিও সামনে এসেছে। পরিবেশ অধিদফতর বিধিমালার প্রস্তাব করেছে। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মহলও কথা বলছে। তাদের মতে, পুরনো ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অনেকে বলছেন, এসব ই-বর্জ্য আমদানি আরো আগেই নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব অবশ্যই প্রশংসনীয়। এটি শুধু অনুমোদন দিলেই হবে না, বিধিমালা যথাযথভাবে কার্যকর করার উদ্যোগও নিতে হবে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই